অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন করতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, দ্রুত নির্বাচন হলে দেশে নানা সমস্যা সমাধান হতে পারে। তিনি জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় জনগণের মধ্যে একটি প্রত্যাশা ছিল যে, সরকার নির্দলীয়ভাবে কাজ করবে এবং রাজনীতির বাইরে থাকবে।
তবে বাস্তবে, নির্বাচনের পূর্বে জনগণের যেসব আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পূর্ণ হয়নি এবং সরকারের কিছু সিদ্ধান্তে ব্যর্থতা প্রকাশ পায়। তবে, তিনি উল্লেখ করেছেন, অর্থনীতির কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিল, বিশেষ করে টাকা পাচার রোধে সাফল্য এসেছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তার মতে, যতই দিন যাবে আমার ধারণা এই সরকারের জনপ্রিয়তা আরো কমতে থাকবে। তখন সাধারণ মানুষ আরও হতাশ হবে।
মাসুদ কামাল বলেন, সরকারের মধ্যে এক ধরনের চেষ্টা ও আন্তরিকতা ছিল। কিন্তু সরকারের করা কমিশনগুলো অতোটা দক্ষ হয়নি। যে কারণে সংস্কারগুলোও এক ধরনের বিলম্বিত হতে থাকল। প্রথমে চারটি কমিশনের প্রতিবেদন দিল ১৬ জানুয়ারি। এর আগে সরকার কথা দিয়েছিল কমিশনগুলো প্রতিবেদন দেওয়ার পর একটা জাতীয় ঐক্য কমিশন করবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবে। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরুই করতে পারল না। এভাবে তাদের যে কালক্ষেপণ- এর পেছনে হয় অদক্ষতা অথবা সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করছে। এতে করে নির্বাচনটা বিলম্বিত হতে থাকল। এ নিয়ে দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।
তিনি ছাত্র সমন্বয়কদের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্রদের দল গঠনে নানা উৎসাহ ও সমর্থন দেখা গেছে, যদিও এখনো দল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘যদি সরকার নিরপেক্ষ থাকতে না পারে, তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন রয়েছে।’

