বগুড়ার কয়েকটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নামকরণ করা তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামের মিল রয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় এক সংসদ সদস্য দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় থাকা কয়েকটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার দুই সন্তানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরেকটি ইউনিয়নের নাম পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ইউনিয়নের নতুন নামকরণ করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর এক সন্তানের নামের সঙ্গে মিল রেখে, আর অন্য একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে আরেক সন্তানের নাম অনুসারে। বিষয়টি নিয়ে সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ব্যক্তিগত জবাবদিহিতার সুযোগ নিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা পারিবারিক প্রভাবের কারণে এসব নামকরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন দুটি ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নাম পেয়েছে। একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নামের সঙ্গে ‘সীমান্ত’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে, অন্যটি দূরবর্তী ও বিস্তৃত এলাকা হওয়ায় ‘দিগন্ত’ নামটি নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ শব্দ ব্যবহার করে একাধিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানের নাম রয়েছে। তাই শুধুমাত্র পারিবারিক নামের সঙ্গে মিল থাকাকে উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, নামগুলোর সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের নামের মিলকে তিনি ‘কাকতালীয়’ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নামকরণ করা হতো, তাহলে প্রশাসনিক নথিতে ভিন্নভাবে নির্দেশনা দেওয়া হতো।
এই বক্তব্যের পর সংসদে আলোচনায় আরও উত্তাপ ছড়ালেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন নামকরণে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্নও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্থানীয় নামকরণ প্রক্রিয়ায় জনমত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়।

