সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো পর্নোগ্রাফি সংগ্রহ, সরবরাহ ও বিপণনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে অসচেতনতার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে অল্পবয়সীরা। অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের ফাঁদে পড়ে অনেক কিশোর-কিশোরীর জীবন ধ্বংস হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক সামাজিক সংকটের সৃষ্টি করছে।
ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় বিঘ্ন, মানসিক অস্থিরতা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। বিশেষত কিশোরীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। যৌন সহিংসতা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি। অপরাধীরা মূলত নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম বয়সী মেয়েরা সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের জীবনে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় দুটি ঘটনা ঘটেছে, যা এই সমস্যার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। হাতিরঝিল এলাকা থেকে ১৭ বছরের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার হয় এবং মোহাম্মদপুর থেকে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। দ্বিতীয় কিশোরীকে সৌভাগ্যক্রমে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে ঘৃণা-বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়। অনেক গণমাধ্যম নীতিনৈতিকতা না মেনে সংবাদ প্রকাশ করায় ভুক্তভোগীদের পরিবার আরও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে।
তদন্তে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের প্ররোচনায় এ দুই কিশোরী ঘর ছেড়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এমন ঘটনা বাড়ছে, যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাঁরা পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, অভিভাবকদের উচিত স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সংযমী হওয়া এবং সন্তানদের ওপর নজর রাখা। অল্পবয়সীদের হাতে সহজে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা তুলে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখতে তাদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো, মিশে যাওয়া ও কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিক্ষক ও গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে অপরিসীম। গণমাধ্যমকে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও তৎপর হয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও দমন করা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সামাজিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

