Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, জুন 16, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » জাতীয় না স্থানীয়: নির্বাচনের অগ্রাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব
    মতামত

    জাতীয় না স্থানীয়: নির্বাচনের অগ্রাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব

    এফ. আর. ইমরানমে 14, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    জাতীয় নির্বাচন, না স্থানীয় নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে মতৈক্য তৈরি করতে কী করতে করণীয়, তা লিখেছেন এস কে তৌফিক হক, সৈয়দা লাসনা কবীর এবং মোহাম্মাদ ঈসা ইবন বেলাল

    নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি ইতিমধ্যেই সরব হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও স্বার্থের সংঘাত দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নবীন ও প্রবীণ- সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করছে।

    জাতীয় বনাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা নতুন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা বন্দোবস্তের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিতে পারে। কেননা বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, এখানে রাজনৈতিক বিরোধ অনেক সময়ই দ্রুত সংঘাতে রূপ নেয়। এমন সম্ভাবনা এবারও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    গত পাঁচ দশকে রাজনীতি ও সংঘাত যেন রেলের সমান্তরাল দুটি লাইন হয়ে একসঙ্গে এগিয়েছে। এর ফলে রাজনীতিতে যেমন অসৎ ও সহিংস প্রবণতাসম্পন্ন লোকজনের প্রভাব বেড়েছে, তেমনি নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী শিষ্টজনেরা ধীরে ধীরে ছিটকে পড়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতি একধরনের ‘মাস্তানতান্ত্রিক’ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যা কার্যত অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

    তাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় স্বার্থে একটি ন্যূনতম মতৈক্যের ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক পক্ষকে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্মে আনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং দেশে যেন এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া।

    এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম যা করতে পারে, তা হলো একটি স্পষ্ট, গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা। এই তারিখ এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে একদিকে স্থানীয় সরকারের কিছু স্তরের নির্বাচন আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক সংস্কার ও গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়াকে কিছুটা দৃশ্যমান করার জন্যও কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি হয়। কেননা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন যেমন তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তেমনি জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করাও একইভাবে জরুরি। এ দুই বিষয়ে ভারসাম্য রেখে একটি উপযুক্ত জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ এবং কিছু নির্দিষ্ট পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনই হতে পারে রাজনৈতিক আস্থার একটি নতুন ভিত্তি।

    প্রথম আলো

    স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আশঙ্কা ও কিছু প্রশ্ন-

    বিএনপি ও তাদের সমমনা কিছু দল জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। তাদের দৃষ্টিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ আওয়ামী লীগের জন্য একটি কার্যকর রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বক্তব্যে বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যাঁরা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন, তাঁদের বলতে চাই- লুটপাট ও দুর্নীতির শত শত কোটি টাকা হাতে নিয়ে পলাতক স্বৈরাচারের দোসরেরা সারা দেশে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাঁদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। যাঁরা এই নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে কথা বলছেন, হয়তো বিষয়টিকে এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেননি। আমি অনুরোধ করব, বিষয়টিকে এভাবে বিবেচনা করতে।’

    তারেক রহমানের এই আশঙ্কা পুরোপুরি অমূলক নয়। কারণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় আওয়ামী লীগ এর মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিকে নতুন করে পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে। এই নির্বাচনে তারা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করে তুলতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনভিত্তি পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করতে পারে।

    বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ’ হিসেবে বিবেচনা করলেও তাদের এ অবস্থান কিছু মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। যদি বিএনপি বিশ্বাস করে যে আওয়ামী লীগ একটি গণবিরোধী, ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যাকারী দল এবং রাজনৈতিকভাবে তাদের পুনর্বাসন দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক, তাহলে তারা তা মোকাবিলা করার জন্য সম্ভাব্য কৌশল এখনো কেন প্রকাশ করছে না?

    পাশাপাশি যদি বিএনপি মনে করে যে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করলে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পাবে, তাহলে এ প্রশ্নও ওঠে- ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এবং তখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করলে, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কি তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠিত হয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না? যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে সেই কার্যকর মডেল বা কৌশল কেন তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই প্রয়োগে সহযোগিতা করছে না? অথবা কেন জনগণকে তা জানার সুযোগ করে দিচ্ছে না?

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হবে—এই দাবি আদৌ কতটা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত? জাতীয় নির্বাচন, যা অনেক বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও চাপ অনেক বেশি, সেই নির্বাচন আয়োজন করলেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ঠেকানো যাবে—এই নিশ্চয়তা কোথায়?

    বস্তুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যেই পার্শ্ববর্তী একটি দেশের পক্ষ থেকে চাপ আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এই নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের পেছনে অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় করার সুযোগ করে দেওয়া। অথচ এই সম্ভাব্য পুনর্বাসন ঠেকাতে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি। ভারত তার সরকারি ভাষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলে আসছে, যার মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

    বর্তমানে আওয়ামী লীগের এক-দুটি মিছিল প্রতিহত করাকে যদি পুনর্বাসন ঠেকানোর সফলতা হিসেবে ধরা হয়, তবে তা নিছক একটি রাজনৈতিক বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবতা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন রুখতে হলে গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি অংশীদারকে রাজনৈতিক, আইনগত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয় ও সুসংগঠিত ভূমিকা পালন করতে হবে।

    পাশাপাশি বিএনপি আরও মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পেছনে সরকারের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার একদিকে নিজেদের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে চায়। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই আশঙ্কাকে অমূলক প্রমাণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার যদি শুরুতেই একটি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে এবং মধ্যবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট কিছু স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে, তাহলে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে যে অনাস্থা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই লাঘব হওয়া সম্ভব।

    নির্দিষ্ট কিছু স্থানীয় নির্বাচন যে সুবিধা দিতে পারে-

    বর্তমান বাস্তবতায় স্থানীয় সরকারের সব স্তরে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে যদি শুধু উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করা হয়, তাহলে একদিকে এটি শহর ও গ্রাম- উভয় অঞ্চলের স্থানীয় সরকার–কাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। অন্যদিকে সরকারের জন্য তা বাস্তবায়ন করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

    এই পটভূমিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি নির্ধারিত এই দুই স্তরের (উপজেলা ও সিটি করপোরেশন) নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং দক্ষতার সঙ্গে আয়োজন করতে পারে, তবে তা জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি ও আস্থা তৈরির সুযোগ এনে দিতে পারে। এর মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনায় সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের একটি বাস্তব ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে, যা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে জনগণের আস্থা গঠনে সহায়ক হতে পারে।

    কেননা বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ এবং দুর্নীতিতে ভেতর থেকে ক্ষয় হয়ে পড়েছে। বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়েছিল, যার ফলে সুশাসন এবং স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    অভ্যুত্থান-পরবর্তী আট মাসের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা এখনো যথাযথভাবে পরীক্ষিত হয়নি। অধিকাংশ দপ্তর ও বিচারালয়ে এখনো সেই সব আমলা ও কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন, যাঁরা বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে এই প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার না করেই যদি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয়, তাহলে সেই নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে গুরুতর সংশয় থেকেই যায়। সরকার যদি আগে নির্দিষ্ট কিছু স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে, তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার একটি সুযোগ হতে পার।

    পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নির্মম বাস্তবতা হলো যে রাজনৈতিক দলগুলোর অধীনে স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনার সময় প্রায়ই কারচুপি, ভোট ডাকাতি, প্রশাসনের অপব্যবহার ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকে। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনব্যবস্থাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, হয়রানি বা গ্রেপ্তারের মাধ্যমে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

    এসব যুক্তি সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে আয়োজনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে । তাদের মতে, রাজনৈতিক দলের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন হলে অন্য দলের প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে ভালো ফল অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে, যা একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অগ্রাধিকারযোগ্য করে তোলে, তা হলো জনগণের দুর্ভোগ লাঘব। আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের প্রায় প্রতিটি স্তরের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় প্রশাসনের মাধ্যমে অথবা প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেয়রদের দ্বারা স্থানীয় সরকার পরিচালিত হলেও সেটি কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এতে সরকারি সেবা কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নাগরিকদের একটিমাত্র সেবা গ্রহণের জন্যও দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। ফলে এ মুহূর্তে একটি কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থা পুনরায় গড়ে তোলা জনগণের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।

    পরিশেষে জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বাস্তবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে বলা আশা করা যায়। কেননা এটি যেমন অন্তর্বর্তী সরকারের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করবে, তেমনি স্থানীয় সরকার কার্যক্রম সচল করে জনগণের ভোগান্তি লাঘবেও ভূমিকা রাখবে।

    অধিকন্তু এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যদি তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটিকে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করাই হতে পারে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নির্মাণের একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে এই উদ্যোগের পূর্বশর্ত হিসেবে বর্তমান সরকারকে অবশ্যই প্রথমে একটি স্পষ্ট ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

    • এস কে তৌফিক হক অধ্যাপক ও ডিরেক্টর, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
    • সৈয়দা লাসনা কবীর অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
    • মোহাম্মাদ ঈসা ইবন বেলাল গবেষণা সহযোগী, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।
    • সূত্র: প্রথম আলো

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল একটি নেতিবাচক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে, তাই সমর্থকরা কৌশল বদলাচ্ছেন

    জুন 15, 2026
    অর্থনীতি

    বাস্তবতার দেয়ালে ধাক্কা খেতে পারে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা

    জুন 15, 2026
    অর্থনীতি

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাণিজ্যিক চেহারা নিয়ে বাজেট বাড়িয়ে জাতীয় সক্ষমতা গড়া কঠিন

    জুন 15, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.