বিমান দুর্ঘটনায় শিশুদের প্রাণহানি পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনার অভিঘাত শুধু মানসিক নয়, শারীরিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি করে। কেউ কেউ হয়তো ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না, অনেকেই বিষণ্নতায় ভুগছেন। এসব প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক, তবে তা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হতে পারে। কারও আবেগ প্রবল, আবার কেউ ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়ছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষত শিশুদের মানসিক অবস্থা আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এমন ঘটনার ফলে আমাদের অবচেতনে লুকিয়ে থাকা মৃত্যুভয় সচেতন মনে উঠে আসে, যা থেকে প্যানিক অ্যাটাক, উদ্বেগ বা হতাশা তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় সব বয়সী মানুষেরই সহানুভূতি ও সহায়তা প্রয়োজন, তবে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
শিশুরা মানসিকভাবে এসব সহ্য করার মতো পরিপক্ব নয়। তাই ভয়াবহ ছবি, ভিডিও বা বিশ্লেষণমূলক আলোচনার মধ্যে তাদের না রাখাই ভালো। কিন্তু তারা যদি এসব নিয়ে প্রশ্ন করে, তাহলে তাদের কথা ধৈর্য ধরে শুনতে হবে। ‘তুই ভাবিস না’, বা ‘এইসব বলিস না’ বলার বদলে তারা কী বোঝাতে চাচ্ছে তা গুরুত্ব দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
শিশুদের আচরণে যদি দেখা যায় তারা স্কুলে যেতে চাচ্ছে না, খিটখিটে হয়ে গেছে, পড়ালেখায় মনোযোগ দিচ্ছে না, তাহলে তা উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে। তাদের দৈনন্দিন কাজে যুক্ত রাখতে হবে, যাতে তারা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। অনেক শিশু এমন পরিস্থিতিতে মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাতেও ভোগে, যেটি মানসিক চাপ থেকে আসছে।
শুধু শিশুরাই নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও মানসিক শক্তির দরকার আছে। ধর্মীয় চর্চা, ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম- এগুলো মানসিক প্রশান্তি দেয়। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি কাজে আসে, তা হলো অন্য মানুষের পাশে থাকা।
যেসব পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে, যাদের সন্তান আহত হয়েছে, এমনকি যারা ঐ ঘটনার অংশ না হলেও ঐ স্কুলে পড়ত- সবার প্রতি আলাদা সহানুভূতি জরুরি। কেবল বলা, “আমি আছি আপনার পাশে” কিংবা “আপনার কষ্ট আমি বুঝি”- এই মানবিক আশ্বাসই কাউকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
এই কঠিন সময়ে পরস্পরের পাশে থাকা, মনোযোগ দিয়ে শোনা ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
- পরামর্শে— মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।

