অনেক বাবা-মা আছেন, যারা সন্তানের একটু দুষ্টুমি দেখলেই রেগে যান। পড়ায় মন না দিলে শুরু হয় বকা-ঝকা—এটা করো না, ওটা করো না, সারাক্ষণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা! মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই শাসন না করলে সন্তান ঠিক পথে হাঁটবে না। কিন্তু সত্যিই কি শাসনই একমাত্র উপায়?
আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে, এই ভাবনা বদলানোর সময় এখনই। সন্তান ছোট বলে তার অনুভূতি, মতামত গুরুত্বহীন—এই চিন্তা ভুল। বরং যদি আপনি চাচ্ছেন সন্তান বড় হয়ে দায়িত্বশীল, সচেতন, আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ হোক, তাহলে আগে আপনাকেই বদলাতে হবে। তাকে শুধু আদেশ নয়, ভালো বন্ধু হবার চেষ্টাও করতে হবে।
চলুন জেনে নিই কীভাবে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যায়—
সন্তান যখন কিছু বলতে চায়, তার দিকে তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আপনি যা ঠিক মনে করেন, তা জোর করে চাপিয়ে দিলে সে শিখবে, নিজের কথা বলার কোনো মানে নেই। এতে তার ভেতরের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যাবে। বরং সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলুন—সে আপনার কাছ থেকেই শেখে কীভাবে একজন মানুষ হওয়া যায়।
বাচ্চারা খুব সহজেই রেগে যায়, কাঁদে, উচ্ছ্বসিত হয়। কারণ তারা এখনো আবেগ সামলাতে শেখেনি। তাই এমন সময় আপনি যদি রেগে যান, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বরং তাকে বুকে টেনে নিন, শান্ত গলায় বলুন, “তুমি ঠিক করো না, এটা কেন করেছ?” এমন ভালোবাসার মাধ্যমে শেখানোই সবচেয়ে কার্যকর।
বাচ্চাদের আচরণ মাঝে মাঝে আপনাকে বিরক্ত করতে পারে। কিন্তু রাগ বা ঝাড়ি দিয়ে আপনি যদি প্রতিবারই প্রতিক্রিয়া দেখান, তাহলে সে শিখবে রেগে গেলেই সমাধান হয়। বরং ধৈর্য ধরুন। হয়তো আজ কিছু বুঝবে না, কিন্তু আপনি যদি বোঝাতে থাকেন, দু’দিন পর সে নিজেই বুঝে যাবে কোনটা ঠিক।
যখন সন্তান কিশোর বয়সে পৌঁছায়, তখন সে নিজস্ব জগত তৈরি করতে চায়। বন্ধুবান্ধব, সোশ্যাল মিডিয়া, নিজস্ব চিন্তা—সব মিলিয়ে তার ভেতরে একটা পরিবর্তন আসে। এই সময় আপনি যদি তার প্রতিটি কাজে নাক গলাতে থাকেন, তাহলে সে আপনার থেকে দূরে সরে যাবে। বরং তাকে বুঝিয়ে বলুন, “তুমি যা করছো, সেটা যেন তোমার বা পরিবারের ক্ষতি না করে।”
প্রতিটি শিশুই আলাদা। কেউ অঙ্কে ভালো, কেউ গান গায়, কেউ আবার শুধু ছবি আঁকতেই ভালোবাসে। তাই আপনার সন্তানের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা একেবারেই অনুচিত। এতে সে নিজেকে ছোট ভাবতে শুরু করবে। নিজের গুণে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। বরং তাকে বলুন, “তুমি যা পারো, সেটাই তোমার শক্তি।”
বন্ধুত্ব তৈরি হয় একসাথে সময় কাটালে। আপনি ও আপনার সন্তানের জন্য একটি রুটিন তৈরি করুন, যেখানে দু’জনের সময় কাটানোর সুযোগ থাকে। যেমন: প্রতিদিন সন্ধ্যায় একসাথে গল্প করা, সপ্তাহে একদিন মাঠে হাঁটতে যাওয়া বা ছুটির দিনে একসাথে পছন্দের সিনেমা দেখা। এতে সে আপনার পাশে স্বস্তি পাবে, আপনাকে একজন ‘গার্ডিয়ান’ নয়, এক ‘বন্ধু’ হিসেবে ভাববে।

