Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, জুন 16, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বঞ্চিতের অজুহাতে আমলাতন্ত্রের দ্রুত পুনর্বাসন ঘটেছে: হোসেন জিল্লুর রহমান
    মতামত

    বঞ্চিতের অজুহাতে আমলাতন্ত্রের দ্রুত পুনর্বাসন ঘটেছে: হোসেন জিল্লুর রহমান

    এফ. আর. ইমরানUpdated:আগস্ট 9, 2025আগস্ট 9, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    জুলাইয়ের ভাবনা—

    একটা অত্যন্ত অত্যাচারী, কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষ ও সম্ভাবনার ওপর একটা জগদ্দল পাথরের মতো বসেছিল। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান থেকে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো দেশ সেই শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে।

    প্রশ্ন: বায়ান্নর অভ্যুত্থানে ভাষা, ঊনসত্তরের অভ্যুত্থানে রাষ্ট্র আর নব্বইয়ের অভ্যুত্থানে গণতন্ত্র পেলাম। অন্যান্য অভ্যুত্থানের তুলনায় চব্বিশের অভ্যুত্থানে এখন পর্যন্ত কী পেলাম? কী পেতে পারি?
    জিল্লুর রহমান: একটা অত্যন্ত অত্যাচারী, কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষ ও সম্ভাবনার ওপর একটা জগদ্দল পাথরের মতো বসেছিল। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান থেকে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো দেশ সেই শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এক ধরনের পথ হারানো শাসন ব্যবস্থার দিকে আমরা চলে গেছিলাম। দেশে সবসময় কিছু মাত্রায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ছিল। কিন্তু গত দেড় দশকে বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আমাদের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে দেয়া হয়েছিল। প্রতিযোগিতাই ছিল না। কেবল যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অনুপস্থিত করে দেয়া হলো, তা নয়। বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নিজের দলের মধ্যেও যেকোনো ভিন্ন মতকে অনুপস্থিত করা হয়েছিল। স্বজনপ্রীতি ও নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে অনৈতিকভাবে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে, তাদেরকে সহায়ক শক্তি করে অর্থনীতির মধ্যেও প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করা হয়। স্থানীয় সরকার পুরোপুরি অনুপস্থিত করে ফেলা হলো। কাঠামো আছে হয়তো কিন্তু কোনো সারবস্তু নেই। জুডিশিয়ারি ও পুলিশের মধ্যে চেইন অব কমান্ড, মেধার মূল্যায়ন—এগুলোও সম্পূর্ণ বাদ দেয়া হলো। চেইন অব কমান্ড বাদ দিয়ে ব্যক্তি শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গুম-খুন চরম পর্যায়ের অত্যাচার ছিল। নানা গায়েবি মামলা দিয়ে লাখ লাখ তরুণ যারা বিভিন্ন দলের কর্মী ছিলেন তাদের ঘরছাড়া করা হয়েছে। তারা এলাকায় থাকতে পারতেন না। এ ধরনের বাস্তবতা থেকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা মুক্তি পেয়েছি।

    আমাদের মাথায় রাখা দরকার যে একটা বড় ধরনের গতি হারানো শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের আরেকটি বড় বিষয় ছিল আকাঙ্ক্ষার পরিধি অনেক বেড়েছে। কী বাদ দিতে চাচ্ছি সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু এখন কী চাই সেটা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার যেসব অনুষঙ্গ রয়েছে সেগুলো যদি পাল্টানো না যায় তাহলে ঘুরেফিরে ওই কর্তৃত্ববাদী শাসনের বাস্তবতা এবং মেধার অবমূল্যায়নে আমরা আটকে যাব। মানুষের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় ঐক্য ফিরে আসুক।

    প্রতিটা প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোয় সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছিল না। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (এফবিসিসিআই) কারা নির্বাচিত হচ্ছিল। সিগনাল না পেলে জিততে পারবে না। শুধু রাজনীতিতে নয়, সব জায়গায় একই অবস্থা। আমরা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছি। এটি একটি বিশাল অর্জন। মানুষের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধঃপতন হয়েছিল, সেখান থেকে উঠে আসা দরকার। সাধারণ মানুষের সাহস ও উদ্যোগী ভূমিকার কারণেই চব্বিশে পরিবর্তন এসেছে। গত ৫৩ বছরের ইতহাস যদি দেখি উদ্যমী পরিশ্রমী মানুষই আমাদের দেশের পরিবর্তনের মূল কারিগর। এ পরিবর্তন আনতে রাষ্ট্রীয় পলিসি অনেক জায়গায় সহায়তা করেছে। প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতি ও নির্বাচন ইত্যাদি অনুপস্থিত হয়ে গেছে। মানুষ চায় তার রাজনৈতিক অধিকার বোধটা আবার প্রতিষ্ঠা হোক। এটাও একটা বড় চাওয়া। একই সঙ্গে আমরা রাজনৈতিক সুস্থ পরিবেশ চাই। কোনো কোনো জায়গায় স্বৈরাচারী শাসনকে আমরা অপছন্দ করেছি? কারণ তারা মেধাকে মূল্যায়ন করেনি। যোগ্যকে তারা পেছনে ফেলেছে। তারা যোগ্যতার বদলে তোষামোদকে প্রধান উপাদান হিসেবে নিয়েছে। তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অক্ষম করে রেখেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন থেকে যে সেবা আসা দরকার তা আসেনি। এসেছে উল্টোটা। সেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের অগ্রযাত্রার সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানোও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সার্বিকভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও একটা সামাজিক রাষ্ট্রীয় পরিবেশ অর্থাৎ অর্থনীতি পরিচালনের পরিবেশটিই বড় ধরনের চাহিদা। গণ-অভ্যুত্থানে যেহেতু তরুণরা মুখ্য ভূমিকা রেখেছে, তাই তরুণদের চাহিদা বোঝাও খুবই জরুরি। কারণ তরুণরা এ পুরো পরিবর্তনের আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা নিয়ে এসেছে। তারা কার্যকর পরিবর্তন চায়। প্রকৃত পরিবর্তন হয়েছে তার উদাহরণ দেখতে চায়। আমাদের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর ধাপে ধাপে সেই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হয়েছিল। আমরা আগে ধরতাম দারিদ্র্য কপালের লিখন। স্বাধীনতার পরে এখানে একটা বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে। ব্যক্তিত্বের একটা বিপ্লব ঘটে যায়। মানুষ বলে, কপালের লিখনের ওপর বসে থাকব না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করব। সেভাবেও তারা করেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এ চিন্তা জোরালোভাবে কাজ করেছে।

    তারা নিজেদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে চিন্তা করছে। তারা ভেবেছে অন্যান্য দেশ পারলে আমরা কেন পারব না? এ প্রশ্নগুলো তারা তুলছে। আমরা পিছিয়ে আছি। অনেক জায়গায় আমাদের অক্ষমতা আছে। পরিবেশ নেই। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। কিন্তু অন্যরা পারলে আমরা কেন পারব না? এ প্রশ্ন গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটা বড় উপহার সমাজকে দিয়েছে। এক বছরে কতদূর এগোলাম সেটা ভিন্ন কথা।

    প্রশ্ন: গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী কাঠামো শক্তিশালী হওয়ার পেছনে সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের অবদান ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর এসব ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রত্যাশা থাকলেও গত এক বছরে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কার্যক্রম দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি, রেন্ট সিকিং আগের ধারাতেই চলছে। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

    জিল্লুর রহমান: অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুটা হয়েছিল আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে। কিন্তু নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এ সরকারের কৌশলগত বড় ধরনের ঘাটতিগুলো এক বছরের মাথায় স্পষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল স্বৈরাচারী ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি বা স্তম্ভগুলোর সংস্কার করা। যেমন আমলাতন্ত্র। আমাদের আমলাতন্ত্র ব্যবস্থা ঔপনিবেশিক শাসনামালের। শুরু থেকেই আমলারা নিজেদের অবস্থানকে আরো সংহত করে ধরে রাখার ব্যাপারে খুবই মনোযোগী।

    কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য লেগেছে যে অন্তর্বর্তী সরকার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছে, অনেক কিছু সংস্কার করা হবে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা বলছে, তাদের আমলাদের দরকার। আমলাতন্ত্র একটা প্রতিষ্ঠান এবং সেটা ছাড়া চলবে না ঠিকই। কিন্তু আামলাতন্ত্র আর আমলার শাসন দুটো ভিন্ন বিষয়। আমলাতন্ত্র একটা মেশিনারি বিষয়। কিন্তু আমলা শাসন ভিন্ন। এর বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে মেধাকে প্রাধান্য দেয়া হয় না। আমলা শাসন নিজেদের সুযোগ-সুবিধাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমলা শাসন মাঠের ফলাফল নিয়ে অত বেশি চিন্তিত হয় না। কাগুজে প্রক্রিয়ায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা আমরা সবাই জানি। এ প্রক্রিয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় একটা বাস্তবতা।

    অন্তর্বর্তী সরকার আশ্চর্যজনকভাবে একদিকে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সুর মিলিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে আমলা শাসন। এটি একেবারে স্ববিরোধী একটা কর্মকাণ্ড এবং এ স্ববিরোধিতার ফলাফল আমরা এখন পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি।

    আবার একদিকে বলা হচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের মূল নায়ক সাধারণ মানুষ। ছাত্রদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে কমিউনিটি বা স্থানীয় জনগণই নিরন্তরভাবে আরো ক্ষমতাহীন হয়েছে। স্থানীয় সরকার সেভাবে সক্রিয় নয়। প্রশাসককে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে শুনলাম এক উপদেষ্টা বলছেন যে মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যানকেও নাকি সেই দায়িত্বে বসানো হবে। এসব শুনে মনে হচ্ছে, সমাজের মূল হৃৎস্পন্দন, সমাজ কীভাবে চলে ও এর মূল উপাদানগুলো কী সেসব সম্বন্ধে কোনো ধারণা নেই। অথচ কমিউনিটিকে শক্তিশালী করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার নিয়ে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভালো কাজও করেছে। তারা বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও দেখা গেছে কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ছিল সবচেয়ে কম। আমলাতান্ত্রিক সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তারা মানুষকে গণনার মধ্যে যত না নিয়েছে, তার চেয়ে বেশি তাদের রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানকে গণনার মধ্যে বেশি নিয়েছে। তারা সাধারণ মানুষকে গুরুত্ব দিতে অভ্যস্ত নয়। অর্থাৎ সেই আমলা শাসনের বাস্তবতাই দেখছি আমরা।

    জুলাই আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সমাধান করা দরকার ছিল। কিন্তু সবচেয়ে দ্রুততার সঙ্গে যা করা হলো সেটি হলো বঞ্চিতের নামে এক আমলা গ্রুপের দ্রুততম পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়ন। এমনকি এখনো যেসব সংস্কারকার্য চলছে, সেখানেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম অধিকার, স্থানীয় সরকার, পুলিশ সংস্কার—এগুলো গুরুত্ব পায়নি। সরকার সংস্কারের জন্য ব্যাপক সময় ব্যয় করেছে এক ধরনের সংস্কার আলোচনায়। কিন্তু সেখানেও মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—বিচার ব্যবস্থা, পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—সেগুলো গুরুত্ব কম পেয়েছে। তবে এখনো সময় আছে। দেখা যাক। আমরা আশাবাদী।

    তবে এক বছরের মাথায় এ খতিয়ান নেয়া খুবই জরুরি। কারণ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের একটা ভিন্ন বার্তা হলো ‘শুধু কথা বললে হবে না’, কাজ করে দেখাতে হবে। এবং নির্মোহভাবে কাজ করে দেখানোর খতিয়ানটা নিতে হবে এক বছরের মাথায়।

    আমরা চাই যে অন্তর্বর্তী সরকার সফল হোক, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলো অর্জিত ও বাস্তবায়ন হোক। আমরা চাই পথ হারানো বাংলাদেশ যেন সেই পথের দিকে আবার যেতে পারে, যাতে উচ্চতর একটা জায়গায় পৌঁছতে পারে। কিন্তু সেজন্য আমাদের এ নির্মোহ মূল্যায়নটা আজকে অত্যন্ত জরুরি। যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি আছে, তাদের এ মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে নাগরিক সমাজের তরফ থেকে নির্মোহ মূল্যায়ন করা জরুরি।

    প্রশ্ন: শিক্ষা সংস্কারে কোনো কমিশন হলো না। কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান পরিবর্তনে তেমন উদ্যোগ দেখছি না। প্রাথমিক শিক্ষাও বহু ভাগে বিভক্ত, যেটি আমাদের জাতিগত অনৈক্যের একটা বীজ বপন করছে। জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের জন্য শিক্ষার মানের পরিবর্তন দরকার ছিল। কিন্তু সরকার কি এগুলোর কিছু করতে পারল?

    জিল্লুর রহমান: পারল কিনা সে উত্তর সবাই দিতে পারবে বলে আমার ধারণা। আমার মতে, খুব একটা পারেনি। কারণ আমরা কোন সূচকগুলো থেকে বুঝব যে শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। এই যে আপনি বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার বাজেট হয়েছে। একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এটা কি কোনো খবর হতে পারে? তাহলে তো এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলা উচিত ‘শিক্ষা অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান’। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নামকরণ করা দরকার ‘শিক্ষা অবকাঠামো মন্ত্রণালয়’। প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রকল্প কী? প্রকল্প করে আরেকটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে, আরেকটি হোস্টেল নির্মাণ হচ্ছে ইত্যাদি। এগুলোর প্রয়োজন নেই সেটা বলছি না। কিন্তু শিক্ষা নিয়ে একটা নতুন জাতীয় আলোচনার প্রয়োজন ছিল। এক্ষেত্রে আমলা শাসনের মতো তারা প্রকল্পের কথা নিয়ে আসবে সামনে এবং আমাদের আমলা শাসনের অন্যতম সহযোগী হচ্ছে এসব খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারাই এ ধরনের পরামর্শ দেন। এজন্য মনে করি যে শিক্ষা নিয়ে এখনো আমাদের একটা সার্বিকভাবে জাতীয় আলোচনা দরকার। শিক্ষা নিয়ে আমরা কী করতে চাই। উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেমন মানসম্পন্ন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। প্রয়োজনীয় অর্থায়নও হয় না। শিক্ষকদেরও সুবিধা নেই, অবকাঠামো নেই। কিছু জায়গায় তুলনামূলক উন্নত শিক্ষার প্রচলন থাকলেও সার্বিকভাবে সর্বজনীন নিম্নমানের শিক্ষা বিস্তারের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।

    আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা যে মেধাবী নয়, এমন না। তারা বিদেশে গিয়ে ঠিকই মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারছে। কিন্তু এ দেশে তাদের মেধা বিকাশের জন্য আমরা সেই প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনতে পারিনি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আরেকটা প্রকল্প নেয়ার জন্য হয়নি। আমলা শাসনকে যেভাবে ক্ষমতায়িত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, তাদের সংস্কার নিয়ে যত আলোচনা করেছে, তেমনি শিক্ষা নিয়ে সার্বিক নতুন জাতীয় আলোচনার প্রয়োজন ছিল।

    বড় অংকের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আমরা অনেক বেশি আলোচনা করছি, খুশি হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কেন চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত সবচেয়ে গভীর যে প্রশ্নগুলো তোলা প্রয়োজন, যেগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে সামষ্টিকভাবে, ঐক্যবদ্ধভাবে, সেসব প্রশ্ন এখনো তোলা হচ্ছে না।

    প্রশ্ন: নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ সরকার গত এক বছরেও কেন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে পারল না। এ সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম বলে মনে করেন?

    জিল্লুর রহমান: পরীক্ষা দিলে বোঝা যাবে সক্ষম কিনা। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে। এখন নির্বাচন শুধু একটি কারিগরি বিষয় নয়। যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাদের সঙ্গে বসে নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা। নির্বাচন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটছে না। নির্বাচন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কী? কিছু আছে যেগুলো বলা হচ্ছে। আবার কিছু আছে সেগুলো বলা হচ্ছে না। আমি মনে করি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। গত সাড়ে ১৫ বছর রাজনৈতিক অধিকার বঞ্চনার শিকার হয়েছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি উত্তরণের সুযোগ আছে। যারা নির্বাচনী প্রতিযোগী তাদেরও মনে রাখতে হবে নির্বাচন একটি বৃহত্তর জন-আকাঙ্ক্ষা। নির্বাচনের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাজনীতির মাঠে যেসব বক্তব্য রাখছে তাতে তাদের হিসাব-নিকাশও পরিষ্কার নয়। অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে খুব জোরালো ও সুনির্দিষ্ট কোনো বয়ান তৈরি করেননি। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহ এখনো কাটেনি। আমরা শুনতে পাচ্ছি, নির্বাচন নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমে যাবে।

    কিন্তু অন্য বিষয়গুলো বিশেষ করে বৃহত্তর আকাঙ্ক্ষাগুলোর পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। সেগুলো রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। এক্ষেত্রে মানুষের আস্থা প্রয়োজন। পরিবর্তনগুলো করার জন্য সব মহল উদ্যোগী। তারা চিন্তা করছেন। শুধু ভালো কথা বললে হবে না। ভালো কথা সবাই বলতে পারে। তাদের সেই সক্ষমতা দেখাতে হবে। এ মুহূর্তে অনেক পরিবর্তন, অনেক সংস্কার করার মতো অনেক কিছু আছে। প্রধান শিক্ষক পদে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যে, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে বিশাল ভ্যাকেন্সি। এগুলোর জন্য সংস্কারের দরকার নেই। এগুলো যেকোনো মুহূর্তে সমাধান করা যেতে পারে। এগুলো করলে মাঠ বাস্তবতায় এক ধরনের পরিবর্তন হবে। পরিবর্তনের বিষয়টা হচ্ছে একটা চলমান প্রক্রিয়া। বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে সংহত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একটি রোডম্যাপের মাধ্যমে মাইলফলকগুলো তৈরি করা, চিহ্নিত করা এবং বাস্তবায়ন করা।

    প্রশ্ন: ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা মিটিং করেছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলো কিছুটা হলেও সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ রকম টপডাউন সমঝোতা প্রক্রিয়া বা লিখিত মুসাবিদার মাধ্যমেই কি বিদ্যমান রাজনৈতিক, সামাজিক সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে বাংলাদেশ?

    জিল্লুর রহমান: লিখিত মুসাবিদার ফলাফল কেমন হবে সেটা সময় বলে দেবে। ঐকমত্য কমিশন সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় যেভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছে সেটি ঠিক আছে। কিন্তু শুরুতেও যেমনটা বলেছি, এক্ষেত্রেও জনসম্পৃক্ততা ছিল না। কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা অনুপস্থিত ছিল এবং কমিউনিটির যেগুলো বেশি প্রয়োজন, সেগুলো উপেক্ষিত থেকেছে। এ কমিশন শুধু রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কিছু বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। অন্য বিষয়গুলোর ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি। নারী, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম অধিকার বা পুলিশ সংস্কার এখানেও প্রাধান্য পায়নি। কমিশনের কাজও এক ধরনের কাগুজে প্রক্রিয়া হয়ে গেছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। সেটা জানতে হলে অপেক্ষায় থাকতে হবে। অবশ্য দুই-একদিনের মধ্যে ফলাফল আমাদের জানার কথা। এক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় হলো ওই ফলাফল নিয়ে আবার সবাই কতটা ঐকমত্য হলো বা সেটার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে সেটাও দেখতে হবে। এরই মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা বা বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। যেটা বোঝা যাচ্ছে যে এ ধরনের ঐকমত্য তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাস্তবায়নের বিষয়টাও শুরু থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকা জরুরি ছিল। তবে দেখা যাক কী হয়।

    প্রশ্ন: গত দেড় দশকের শাসনামলে এক ধরনের অলিগার্ক ও লুটেরা শ্রেণী তৈরি হয়েছিল। এ শ্রেণীকে আইন ও জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ কি কার্যকর হয়েছে বলে মনে করেন?

    জিল্লুর রহমান: না। অন্তর্বর্তী সরকারের একটা প্রচেষ্টা ছিল সামষ্টিক অর্থনীতিকে একটু স্থিতিশীল করা। তবে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে তারা আইনের আওতায় এনেছেন। অলিগার্কদেরও আইনের আওতায় আনা দরকার। বিভিন্ন সুবিধাভোগী গোষ্ঠী বিশেষ করে অলিগার্কদের উপস্থিতি এখনো খুবই শক্তিশালী। বললেই তারা চলে যাচ্ছে না। তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হলে জোরালো ও মধ্যমমেয়াদি কৌশল লাগবে। এসএমই খাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। অলিগার্কদের শাস্তি দিয়েই শেষ করা যাবে না। বরং এর অর্থনীতির ভিত্তিকেই সার্বিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। আমরা স্বৈরতন্ত্রের দৃশ্যমান চেহারাটা ফেলে দিতে পেরেছি। কিন্তু গোষ্ঠীতন্ত্রের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান উপস্থিতি এখনো একটা চলমান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। যে ধরনের বাংলাদেশ আমরা করতে চাই সেজন্য সেটাকেও সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

    প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে নগর ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, গণপরিবহন—এ জায়গাগুলোয় সরকার কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি?

    জিল্লুর রহমান: এ সরকারের ঘোষণাভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর বেশি নজর ছিল। কিন্তু ঘোষণাকে কার্যকর করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপে যেতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের জায়গা দুর্বল। সরকারের ঘোষণাভিত্তিক ঝোঁক ও প্রবণতা জোরালোভাবে আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা চেষ্টা করছেন না তা নয়। সেটা দেখার বিষয় আছে। যেমন নগর ব্যবস্থপনায় পরিবহন ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রাস্তাঘাটে চলাফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপ লাগবে। ঘোষণাভিত্তিক কার্যক্রম, তাও আবার তা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ভিত্তিক। অর্থাৎ এ কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদার অনেক কিছু মেটানোর জায়গায় অনেক ঘাটতি আছে। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা আনতে তারা এক ধরনের সক্ষমতা দেখিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বস্তির যে সূচক সেখানে তেমন বড় পরিবর্তন আনতে পারেননি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ঘোষণাভিত্তিক সমন্বিত নয়, বরং নিজ নিজ মন্ত্রাণালয়ভিত্তিক। টিমওয়ার্ক হিসেবে কতুটুক কাজ হচ্ছে সেটি নিয়ে সবার মধ্যে একটি প্রশ্ন আছে।

    প্রশ্ন: দেশে খুন, চুরি, ছিনতাই বেড়েছে, অনেকগুলো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পারফরম্যান্সকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

    জিল্লুর রহমান: এসব বিষয় পরিসংখ্যান দিয়ে দেখতে হবে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এত সুখকর বিষয় নয়। পুলিশ বাহিনী বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে খুবই সম্পৃক্ত ছিল। ফলে তাদের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ভাবমূর্তিকে অনেক সংকটে ফেলেছে। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তারা অনেকাংশে নিষ্ক্রিয়ভাবেই চলেছে। এখনো তারা নিষ্ক্রিয়ভাবেই চলছে। নিষ্ক্রিয়তা থেকে সক্রিয় করা, পুলিশের প্রশাসনিক সংস্কারগুলো আরো জোরালো করতে হবে। অর্থাৎ কমিউনিটিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। শুধু পুলিশ দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা যাবে না। প্রত্যেকটি জায়গায় কিন্তু নজরদারির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। গায়েবি মামলা স্বৈরাচারী শাসনের অন্যতম হাতিয়ার ছিল। সেটা কিন্তু এখনো পুরোপুরি চলছে। জুলাই আন্দোলনে যাদের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমানে তাদের কেউ কেউ চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ড এখন জনমনে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। বিচার ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেনি। দৃঢ়তার সঙ্গে কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের একটা বড় ঘাটতি দেখছি। অন্যায়-অনিয়মের ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত বার্তার ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এটা করলে এ শাস্তি দেয়া হবে—এগুলো সরকারের ঘোষণা পর্যায়েই রয়ে গেছে। শাসনের অন্যতম একটা দিক প্রয়োগ করা। শুধু কাগজে আমার এ ক্ষমতা আছে ইত্যাদি বললেই হবে না, এটিও প্রয়োগ করার বিষয়ও আছে। দৃঢ় প্রয়োগের জায়গায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

    প্রশ্ন: জুলাই সনদ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

    জিল্লুর রহমান: এখানে আমার ব্যক্তিগত আশাবাদের বিষয় না। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা জুলাই সনদ নিয়ে পরিশ্রম করছেন, আশা করি ভালো কিছু হবে। তবে সনদের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে, এভাবে চিন্তা করতে রাজি নই আমি। জুলাই সনদ একটি বিষয়, সামগ্রিক ঐক্য আরেকটি বিষয়। দৃঢ়তা আরেকটি বিষয়। বাস্তবায়নের কৌশলগুলো সঠিক কিনা সেটি আরেকটি বিষয়। জুলাই সনদ একটি মাইলফলক। তবে আরো অনেকগুলো মাইলফলক যদি একত্রিত না হয় তাহলে জুলাই সনদ কীসের জন্য? মাইলফলক গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে কী পরিবর্তন আনতে চাই সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জুলাই সনদের প্রাক্কালে যে পরিবর্তন আনতে চাই সেটিকেই আরো বৃহত্তর বিষয় হিসেবে সামনে রাখাটা জরুরি।

    • সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হোসেন জিল্লুর রহমান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান। ছিলেন ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। এছাড়া তিনি বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন। জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূরণ হলো। অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার বাংলাদেশ কোন পথে এগোচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া কোন পথে এগোচ্ছে সে ব্যাপারে কথা বলেন।

    সূত্র: বণিক বার্তা; সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    সরকারের তোষামোদ নয়, সত্য প্রকাশে গণমাধ্যমকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    জুন 15, 2026
    বাংলাদেশ

    নারী-শিশু নির্যাতন ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ে বড় অগ্রগতি, ৪১ হাজার নমুনা সম্পন্ন

    জুন 15, 2026
    বাংলাদেশ

    হাম ও উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যুসহ মোট ৬৫৬, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৯৫২ শিশু

    জুন 15, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.