যারা সবদিক থেকে ভালো, তাদের কাছে পুঁজি গেলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে। দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন হবে। ক্ষুদ্র-মাঝারি-বড় সব শিল্পেরই উন্নয়ন হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আপনারা ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনেক বড় আকারের সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছেন। গত এক বছরে কোন কোন সংস্কার হয়েছে, যেগুলো কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন?
প্রথমত, ব্যাংক খাতে কতগুলো সংস্কার শুরু হয়েছে। এগুলো শেষ হয়নি। আরো সময় লাগবে। কিন্তু প্রাথমিক কাজ হয়ে গেছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদমান রিভিউ করে এগুলোর পরিস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ব্যাংক কোনটিকে কোনটির সঙ্গে একীভূত করা হবে, তা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজটি করছে। আর যেগুলো একেবারে মৃতপ্রায় অবস্থায় আছে, সেগুলোর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা হচ্ছে। তবে এগুলো সম্পর্কে এখনই কোনো ঘোষণা দেয়া হচ্ছে না। এর কারণ হলো সেক্ষেত্রে ডোমিনো ইফেক্টের ঝুঁকি রয়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন।
দ্বিতীয়ত, অর্থ পাচারের ব্যাপারে সংবেদনশীল ১১টি কেস চিহ্নিত করা হয়েছে। কাজটা অনেক দূর এগিয়েছে। টাকা কখন আসবে, সেটা ভবিষ্যতে বলা যাবে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা) বিষয়েও অনেক কিছু করা হচ্ছে। বিদেশী আইনজীবীদের যুক্ত করা হচ্ছে। কোথায় কোথায় কত টাকা আছে, সেটি এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। টাকাগুলো শুধু সিঙ্গাপুর, দুবাই, আবুধাবি না, কেম্যান আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দ্বীপদেশেও গেছে। আরো অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলো নিয়ে দুদক মামলা করেছে ও তদন্ত করছে।
আরেকটি বিষয় হলো অনেকগুলো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়েছে, বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় আমরা তা এরই মধ্যে করেছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি স্বতন্ত্র ভাগে আলাদা করা হয়েছে। এ নিয়ে যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, সেটির সংশোধনীও আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই দেব। এরপর এখানকার জনবল কোথায় কে যাবে, রুলস অব বিজনেসের অধীনে সেটি করতে হবে। এটা আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করব।
আর নীতিগত দিক থেকে ব্যবসার ওপর এনবিআরের ভ্যাট-করের কী প্রভাব, সেটি আমরা দেখছি। ট্রাম্প প্রশাসন আরোপিত শুল্কের বিষয়ও দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কেনা হবে। ব্যালান্স অব পেমেন্টের দিক থেকে দুই দেশের বাণিজ্যের ব্যবধানকেও কমিয়ে আনা হবে।
এমন অনেক সংস্কার চলছে, যেটা আমরা বাইরে খুব একটা প্রচার করি না। যেমন আইবাস প্লাস সিস্টেম, যেটি হলো সরকারের অ্যাকাউন্টিং বা ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্যাবর (স্টেট ওউনড এন্টারপ্রাইজেস অ্যান্ড অটোনমাস বডিস বাজেট, রিপোর্টিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন সিস্টেম) সফটওয়্যার; এগুলো আমরা চালু করেছি। এগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাবও আছে। অতএব বড় যে কাজগুলো দ্রুত দরকার, সেগুলো আমরা শুরু করেছি। এগুলো হয়তো আগেই সম্পন্ন হবে, কিন্তু বাকিগুলোর ফ্রেমওয়ার্ক শুরু করার পদচিহ্ন আমরা রেখে যাব। এর মধ্যে কিছু আছে মধ্যমেয়াদি আর কিছু আছে দীর্ঘমেয়াদি।
এনবিআরের যে প্রত্যাশিত সংস্কার, সেটি কি আপনারা করে যেতে পারবেন?
এনবিআর অধ্যাদেশ নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। কিছু কিছু জায়গায় অধ্যাদেশ সংশোধন করার কথা ছিল। এতে সময় লাগছে। এখানে কলমবিরতির কারণে একটা ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল। তারা যখন ফিরে গেছে, একটি কমিটি করা হয়েছে। সবার সঙ্গে আলাপ করে এ কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে কয়েকদিন আগে। তারা এনবিআর কর্মকর্তা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কাস্টমস অ্যাসোসিয়েশন সবার সঙ্গে কথা বলেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে এরপর অধ্যাদেশটি একটু পরিমার্জন ও সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সেটা আবার পরামর্শক কমিটিতে দেব।
অধ্যাদেশটি হয়ে গেলে রুলস অব বিজনেস, অর্থাৎ কার কোন কাজ, কে কোনটা করবে; সেগুলো পুনর্গঠন করতে হবে। এখানে দুজন সচিব থাকবেন, মাঠ পর্যায়ে এনবিআরের কমিশনার ও সদস্যরা আছেন। এরপর জনবল বণ্টন করতে হবে। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ও সংশ্লিষ্ট থাকবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো রাজস্ব নীতি বিভাগ যেটি থাকবে, সেখানে ভালো লোক দেয়া হবে। এনবিআরের লোকেরাও যাবেন। নীতিগত বিষয়ে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে। রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ তারা করবেন।
কাজকর্ম শুরু করতে বেশি দেরি হবে না। আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে ফেলব। তখন থেকেই এটি এভাবে কাজ শুরু করবে। এনবিআর তো এখনো কাজ করছে। তারা তো বসে নেই। তারা পুরনো নামেই করছে। করনীতিও আমরা এরই মধ্যে করে ফেলেছি। অতএব ডিসেম্বরে নতুন করে যারা আসবেন, তারা এটাকে আবার পর্যবেক্ষণ করবেন। পরে রাজনৈতিক সরকার এলে তারাও আরেকটু দেখবে।
দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কয়েক দফা তারল্য দেয়া হলো। সামনের দিনগুলোয় এগুলোর কী পরিণতি দেখছেন? এগুলো কি একীভূত হবে নাকি সরকার তারল্য সরবরাহ করে বাঁচিয়ে রাখবে?
দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদমান পর্যালোচনা করেছি যে এর মধ্যে কোন অ্যাসেটটা একেবারে খুব বেশি খারাপ অবস্থায় আছে? কোনটা পুনরুদ্ধার করা যাবে? কোনটা একেবারে লোকসান হয়ে পড়েছে? সেটা এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক করেছে। আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও সহায়তা করেছে। কতগুলো বিখ্যাত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মও সহযোগিতা করেছে। এখন এর ওপর ভিত্তি করে কতগুলোকে একীভূত করা হবে, কোনগুলোকে করা হবে, কার সঙ্গে করা হবে এবং এগুলো একীভূত হয়ে একক সত্তায় রূপ নেবে কিনা, সেগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যাদের সঙ্গে এগুলোকে একীভূত করার কথা হচ্ছে, সেসব ব্যাংক বলছে, আমরা কী করে এগুলোকে নেব? এখানে চ্যালেঞ্জ আছে। কারণ তখন তো সম্পদের চেয়ে দায় বেশি হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। সেটার ভার কে নেবে?
যেগুলোর অবস্থা একেবারে খারাপ, ৮০-৯০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে; সেগুলোর আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তারপর হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলতে পারে যে এগুলোর অস্তিত্ব থাকবে না। যদিও এটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ওদের আমানত হয়তো অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু অন্যগুলোকে হয়তো অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করে আলাদা সত্তা গঠন করা হবে। তবে বড় ব্যাংক, যেমন ইসলামী ব্যাংক এখন মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটি থাকবে। বরং এত বড় একটি ব্যাংক; এর সঙ্গে অন্য কোনোটিকে একীভূত করা যায় কিনা সেটি নিয়েও চিন্তাভাবনা করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব কীভাবে মোকাবেলা করা হবে?
ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব পড়বে মূলত পোশাক শিল্পে। অন্যান্য শিল্পেও পড়বে। তবে পোশাক খাতের যে সুবিধা সেটি হলো এর দক্ষতা। আমাদের পোশাক কারখানাগুলো তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক ভালো। মানসম্পন্ন পোশাক ও গ্রিন ফ্যাক্টরির দিক থেকেও আমরা অন্যদের চেয়ে ভালো। খাতটি এরই মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিযোগী যারা, যেমন ভারত, চীন ও ভিয়েতনাম; তাদের মধ্যে ভিয়েতনাম একটু ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু ভারত ও চীনের তুলনায় আমরা ভালো আছি। বিশেষ করে আমাদের নিটওয়্যারের ক্ষেত্রে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ অনেক বেশি। এখানে মূল্য সংযোজন হয় ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত। এটায় প্রভাব পড়ার কথা না। ওরা ধাক্কাটা সামলে নিতে পারবে। তবে ওভেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি কঠিন হবে। এজন্য আমাদের যে টেক্সটাইল মিলগুলো আছে, সেগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানিতে করহার শূন্য করে দিয়েছি; যাতে তারা এ ধাক্কা সামলে নিতে পারে।
অন্যান্য কোন কোন খাতে প্রভাব পড়বে, সেটা দেখব। সেক্ষেত্রে দরকার হলে আমরা প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোকে পুনর্বিন্যস্ত করব। শুল্ক-করের বিষয়টি তো গেল, আমরা অন্য জায়গাগুলোকেও এগিয়ে নেব। ব্যবসার সহজীকরণের জায়গাগুলো যেমন প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দ্রুত নবায়ন করা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া, আমদানির ক্ষেত্রে দ্রুত কাস্টমস খালাস করা, দ্রুত পরিবহনের ব্যবস্থা করা অর্থাৎ পদ্ধতিগত বিষয়টিকে যতটা সম্ভব ত্বরান্বিত করা। আগে যে সময় ব্যয় হতো, ঘাটে ঘাটে পয়সা দিতে হতো, সেগুলো যদি আমরা দূর করতে পারি; তাহলে ট্রাম্পের শুল্কনীতির যে বোঝাটা, রফতানিকারকদের জন্য তা কিছুটা হলেও হালকা হয়ে আসবে। এজন্য সরকার থেকে যত রকম সহায়তা আছে, আমরা দেব।
বিগত ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিকাশের ক্ষেত্রে অলিগার্কদের একটা ভূমিকা আছে। এ অলিগার্কদের নিয়ন্ত্রণে বা আইনের আওতায় আনতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?
এ অলিগার্করা ছিল ব্যাংক, গণমাধ্যম বা অন্যান্য ব্যবসার মালিক। তারা সংসদ সদস্যও ছিল। তারা নিজেদের বা বিভিন্ন গ্রুপের নামে একটা না, ১০-১৫-২০টা ব্যবসা করত। এদের অনেককে; যারা খেলাপি হয়েছে, তাদের কিন্তু আর ঋণ দেয়া হচ্ছে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের তো ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষই নিয়ে নেয়া হয়েছে। কেউ এখন বিরাট বিরাট আকারের ঋণ নিয়ে নেবে ব্যাংক থেকে, সেটা কিন্তু আর সম্ভব না। আর অন্যরা যারা এতদিন বঞ্চিত ছিল, তাদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি যে অন্যান্য ব্যবসায়ীর কাছে আরো সুযোগ-সুবিধা যাক। তারা ব্যবসায় বেশ দক্ষ। তাদের মূল্য সংযোজনও অনেক ভালো। তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকেও ভালো। যারা সবদিক থেকে ভালো, তাদের কাছে পুঁজি গেলে সাধারণ মানুষের উপকার হবে। দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন হবে। ক্ষুদ্র-মাঝারি-বড় সব শিল্পেরই উন্নয়ন হবে।
আমরা এ অলিগার্কদের দাপটটা বন্ধ করছি। অলিগার্করা কিন্তু শুধু উৎপাদন নয়, বিপণন বা বাজার পর্যায়কেও নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে তাদের অনেকে পণ্য আমদানি করে নিয়ে আসে। আমরা এখন দেখছি এগুলোকে কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ে আসে। আমরা দেখেছি কেউ হয়তো চট্টগ্রামে হেডকোয়ার্টার খুলে সেখানে পণ্য নিয়ে আসে, তার আবার হয়তো বগুড়ায় অন্য নামে আরেকটি কোম্পানি রয়েছে। এগুলোকে আমরা চেষ্টা করছি নিয়ন্ত্রণে আনার। এভাবে বাজারে প্রভাব ফেলার বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেকটাই সজাগ ও সতর্ক রয়েছি। এটা আমরা ভাঙার চেষ্টা করছি। তবে এতে সময় লাগবে। এজন্য অন্যদেরও সহযোগিতা করতে হবে।
এলডিসি থেকে উত্তরণ ইস্যুতে ২০২৬ সালে আমাদের জন্য করণীয় কী হতে পারে?
এজন্য আমাদের নিয়ন্ত্রণগত কিছু সংস্কার প্রয়োজন। ব্যবসার সুবিধার জন্য বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে, যাতে বন্দরে পণ্যজট না হয়। সেটি স্থলবন্দর হোক আর সমুদ্রবন্দর হোক। এছাড়া আমাদের ব্যবসায়ীদের অন্যান্য প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে। কারণ এলডিসি থেকে উত্তরণ মানে বাণিজ্য ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক সহায়তার যে ব্যবস্থা বা মেকানিজম যেমন জিএসপি প্লাস বা এ ধরনের সুবিধা; এগুলো তো কমে যাবে বা কমে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। এখন এদের যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বাড়ে সেজন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
শ্রমিকদের যথাযথ মজুরি দেয়ার বিষয়টি একটি বড় ইস্যু। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনর্গল কথা বলা হচ্ছে বা আইএলওর মতো জায়গাগুলো থেকে প্রশ্ন উঠছে। অতএব তাদের প্রস্তুত করার জন্য ২০২৬ সালটি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ব্যবসায়ীরা কোনোদিনই এটিকে গ্রহণ করতে রাজি না। আমি তো দেখছি চারদিকে লেখা হচ্ছে যে আমরা পারব না বা বিপদ হবে। কিন্তু আমরা তো দেখছি পোশাক শিল্পে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ৪০-৫০ বছর ধরে দিয়ে আসা হচ্ছে। এখন হয়তো কিছুটা কমে এসেছে। কিন্তু এখন আবার বলছে দিতে হবে। এভাবে সারা জীবন প্রণোদনানির্ভর হয়ে থাকতে হবে?
অতএব তাদের বলতে হবে হয়তো একটু কষ্ট হবে, তার পরও এর প্রস্তুতি আমাদের দেখতে হবে। আর এর পরেও যদি দেখা যায় যে ২০২৬ সালে হচ্ছে না, তখন যে সরকার থাকবে তারা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বাংলাদেশকে এখান থেকে পিছিয়ে আনাটা বিব্রতকর হবে। কারণ আশপাশে যেসব দেশ আছে যেমন নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান ইত্যাদি; তাদের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে। ইউএনডিপির র্যাপোর্টিয়াররাও এসে বলেছেন, আপনারা তো ভালো অবস্থানে আছেন। এখানে বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রণোদনার বিষয়গুলোও আছে। আর যেসব পণ্য আমরা বাইরে থেকে আমদানি করছি, চেষ্টা করতে হবে সেগুলো এখানে উৎপাদনের। আর ক্যান্সারের ওষুধের মতো যেসব পণ্য চাইলেই তৈরি করে ফেলা যায় না, সেগুলো আমদানি করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার থেকে কোনো আর্থিক বা ঋণসহায়তা যদি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে, সেটি দেয়া যেতে পারে।
সূত্র: বণিক বার্তা

