Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, মে 19, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বড় ঋণের আড়ালে ছোট আমানতকারীর কান্না: কর্পোরেট গভর্নেন্সের মৃত্যু
    সম্পাদকীয়

    বড় ঋণের আড়ালে ছোট আমানতকারীর কান্না: কর্পোরেট গভর্নেন্সের মৃত্যু

    নিউজ ডেস্কমে 18, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আজ এক অদৃশ্য সংকটের ভার বহন করছে। কাগজে-কলমে মুনাফা, নতুন ঋণ বিতরণ ও বড় বিনিয়োগের চিত্র যতটা উজ্জ্বল দেখানো হয়, বাস্তবে তার আড়ালে লুকিয়ে আছে সাধারণ আমানতকারীর দীর্ঘশ্বাস।

    একদিকে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে, অন্যদিকে নিজের কষ্টার্জিত সঞ্চয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ক্ষুদ্র আমানতকারীরা। ব্যাংকের প্রতি মানুষের যে আস্থা একটি অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করে, তা আজ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে দুর্বল কর্পোরেট গভর্নেন্স, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে।

    বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—ব্যাংকিং খাত কি সত্যিই জনগণের অর্থ সুরক্ষার জায়গা, নাকি এটি কিছু প্রভাবশালী কর্পোরেট গোষ্ঠীর সুবিধা রক্ষার কাঠামোয় পরিণত হয়েছে? যখন নিয়মের চেয়ে সম্পর্ক, জবাবদিহির চেয়ে প্রভাব এবং নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতা বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে, তখন কর্পোরেট গভর্নেন্স কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শব্দে পরিণত হয়। আর সেই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার হন সাধারণ মানুষ, যাদের ক্ষুদ্র আমানত দিয়েই দাঁড়িয়ে থাকে পুরো ব্যাংকিং কাঠামো।এই বাস্তবতায় “বড় ঋণের আড়ালে ছোট আমানতকারীর কান্না: কর্পোরেট গভর্নেন্সের মৃত্যু” কেবল একটি শিরোনাম নয়; এটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের গভীর সংকট, নৈতিক অবক্ষয় এবং আস্থাহীনতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত বর্তমানে এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যেখানে খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি এবং কর্পোরেট সুশাসনের চরম অবনতি একসঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলেছে। বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী মহলের নিয়মবহির্ভূত ঋণ গ্রহণ, অর্থ পাচার এবং দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। এই বিশাল অঙ্ক দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই চাপের কারণে ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ সরাসরি আর্থিক দুর্বলতার মুখে পড়েছে। প্রায় ২০টি ব্যাংক বর্তমানে গুরুতর মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য ও আস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমানতকারীদের ওপরই বেশি পড়ছে।

    একসময় ব্যাংক ছিল সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু সেই আস্থায় এখন বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কোথাও সীমিত পরিমাণ উত্তোলনের নিয়ম, কোথাও দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে। জীবনের সঞ্চয় নিরাপদ থাকবে—এই বিশ্বাস এখন প্রশ্নের মুখে।

    এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর প্রতি নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ। বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের যোগসাজশে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে বা পুনঃতফসিলের মাধ্যমে বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এতে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক ঝুঁকি আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং ক্ষতির চাপ পড়ছে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর।

    কর্পোরেট গভর্নেন্সের দুর্বলতা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীন পরিচালক, অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে অনিয়ম ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।

    এই অস্থিরতার প্রভাব শেয়ারবাজারেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ব্যাংক খাতের অনেক শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে, যার ফলে শেয়ারদর দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে। দুর্বল মুনাফা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক দুর্বলতার কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রণয়ন, সুশাসন শক্তিশালী করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনগত কাঠামো শিথিল হওয়ায় বিতর্কও তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অতীতে বিতর্কিত মালিকদের পুনরায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে আসার সুযোগ নিয়ে। ফলে সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    বর্তমান বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট কেবল আর্থিক নয়, এটি মূলত আস্থা ও জবাবদিহির সংকট। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সাধারণ আমানতকারীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্পোরেট গভর্নেন্সকে কেবল নীতিগত কাঠামো নয়, বাস্তব ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় এই সংকট আরও গভীর হয়ে পুরো অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করবে।

    বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্বল কর্পোরেট গভর্নেন্স বা সুশাসনের অভাব আজ এক গভীর সংকটে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর যোগসাজশে বহু ব্যাংক কার্যত সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপদ প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান, কাগুজে প্রকল্প এবং ভুয়া জামানতের বিপরীতে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে, যার বড় অংশই পরে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এই অর্থ আর ব্যাংকে ফিরে না আসায় এখন তার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে সাধারণ আমানতকারীদের জীবনে।

    ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা। একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় নিরাপত্তার আশায় ব্যাংকে জমা রাখেন। কিন্তু যখন দেখা যায় বড় ঋণগ্রহীতারা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করছেন কিংবা বছরের পর বছর ঋণ পরিশোধ ছাড়াই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন, তখন সাধারণ মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তায় পড়ে যান।

    অনেক ব্যাংকে তারল্য সংকট এতটাই বেড়েছে যে আমানতকারীরা প্রয়োজনের সময় নিজেদের অর্থ তুলতে গিয়ে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছেন। কারও চিকিৎসার টাকা আটকে আছে, কারও ব্যবসার মূলধন, আবার কেউ দৈনন্দিন সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

    কর্পোরেট গভর্নেন্সের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকের পরিচালনা ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ভারসাম্য নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদে স্বাধীনতার বদলে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব বেশি কার্যকর হয়েছে। স্বাধীন পরিচালক থাকলেও অনেক সময় তারা কেবল আনুষ্ঠানিক ভূমিকায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অস্বাভাবিক বড় ঋণ অনুমোদন, পুনঃতফসিলের নামে সুবিধা প্রদান এবং আর্থিক অনিয়মকে আড়াল করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

    এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। অনেক ব্যাংকের শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অতিরিক্ত তারল্য সহায়তা দিতে হচ্ছে, যা পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।

    বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ব্যাংকিং খাতকে আবারও জনগণের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা। এজন্য কেবল নতুন নীতিমালা ঘোষণা করলেই হবে না; প্রয়োজন কার্যকর ও দৃশ্যমান জবাবদিহি। বড় ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের সুরক্ষা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    কারণ একটি দেশের ব্যাংকিং খাত তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সাধারণ মানুষ নিশ্চিত থাকেন যে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদ হাতে রয়েছে। আর সেই বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে শুধু ব্যাংক নয়, পুরো অর্থনীতিই দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে আনতে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন কার্যকর সুশাসন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কঠোর জবাবদিহিমূলক সংস্কার। শুধুমাত্র নতুন নীতিমালা ঘোষণা বা সাময়িক পদক্ষেপ দিয়ে এই গভীর আস্থার সংকট কাটানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন এমন একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামো, যেখানে আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে এবং সাধারণ আমানতকারীর স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

    এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপমুক্ত হয়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া, অনিয়ম চিহ্নিত করা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে তদারকি ও নজরদারি আরও কঠোর করতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূত ঋণ সুবিধা নিতে না পারে।

    খেলাপি ঋণ আদায়ে দৃশ্যমান কঠোরতা এখন সময়ের দাবি। বছরের পর বছর ঋণ পুনঃতফসিল বা বিশেষ সুবিধা দিয়ে বড় খেলাপিদের রক্ষা করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অর্থঋণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ও দ্রুতগতির করতে হবে, যাতে আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। একই সঙ্গে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

    ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। পরিচালনা পর্ষদে পেশাদার ও দক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হবে এবং স্বাধীন পরিচালকদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনা বা পারিবারিক প্রভাবের বদলে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়েছেন, তাদের নতুন ঋণ সুবিধা বা ব্যবসায়িক বিশেষ সুযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ছোট আমানতকারীরা যেন কোনো সংকটের সময় নিজেদের সঞ্চয় হারানোর ভয় না পান, সেজন্য আমানত বীমা ব্যবস্থার পরিধি ও কার্যকারিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে মানুষের মধ্যে ব্যাংকের প্রতি আস্থা কিছুটা হলেও ফিরে আসবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত সংস্কারের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা যেতে পারে, যা অতীতের বড় ঋণ কেলেঙ্কারি, আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত করবে। কারণ দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দূর করতে হলে শুধু আর্থিক সংস্কার নয়, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও সমানভাবে জরুরি। অবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে টেকসই ও আস্থাভিত্তিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে হলে কর্পোরেট গভর্নেন্সকে কাগজের নীতিমালায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; সেটিকে বাস্তব ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে আনতে হবে। অন্যথায় বড় ঋণের আড়ালে ছোট আমানতকারীর কান্না আরও দীর্ঘ হবে, আর অর্থনীতির ভঙ্গুরতা আরও বাড়বে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ব্যাংক

    ৯ শতাংশ সুদে অন্য ব্যাংকের বাড়ি–গাড়ির ঋণ টানছে ব্যাংক এশিয়া

    মে 19, 2026
    ব্যাংক

    বাজারে আসছে নতুন গভর্নরের সই করা ৩ নোট

    মে 18, 2026
    ব্যাংক

    এক সিদ্ধান্তেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে পুরো ব্যাংকিং খাত

    মে 18, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.