Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, আগস্ট 25, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » খেলাপি ঋণ আদায়ের মারপ্যাঁচ: সুশাসন ফেরাতে কেন নমনীয় নীতি?
    সম্পাদকীয়

    খেলাপি ঋণ আদায়ের মারপ্যাঁচ: সুশাসন ফেরাতে কেন নমনীয় নীতি?

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 25, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের উল্লম্ফন এখন আর কেবল ব্যাংকের আর্থিক হিসাবের সমস্যা নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আমানতকারীর আস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সর্বোপরি ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের জন্য বড় ধরনের সংকেত।

    খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন, কম ডাউন পেমেন্ট ও দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির মতো নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের পেছনে বাস্তব অর্থনৈতিক যুক্তি থাকলেও প্রশ্ন থেকেই যায়—এই নমনীয়তা কি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে, নাকি দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ঋণখেলাপির সংস্কৃতিকেই টিকিয়ে রাখছে?

    ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সংকটাপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে দীর্ঘমেয়াদি পুনঃতফসিলের মতো সুবিধা কেন বারবার দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    এই নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৮ মাসের একটি বিশেষ ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনায় কঠোর তদারকি, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করা, আইনি সংস্কার এবং দুর্বল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নতুন ব্যাংকের অনুমোদন, দুর্বল ঋণ যাচাই, বড় করপোরেট ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ সুবিধা এবং ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোয় অনিয়ম ধীরে ধীরে এ সংকটকে গভীর করেছে।

    আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিশেষ করে ব্যাসেল-৩ এবং স্বাধীন সম্পদমান পর্যালোচনা (এ-কিউ-আর) ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ায় অতীতে আড়ালে থাকা বা কৃত্রিমভাবে ভালো দেখানো মন্দ ঋণের একটি বড় অংশ এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

    প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনেকগুলোতেই খেলাপি ঋণের হার ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে; কোনো কোনো ব্যাংকে তা প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। অন্যদিকে, চতুর্থ প্রজন্মের কয়েকটি বেসরকারি, বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকেও খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে পুঞ্জীভূত লোকসান ও প্রভিশন ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাতও ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা খাতটির আর্থিক দুর্বলতার গভীরতা স্পষ্ট করে।

    কেন বারবার নমনীয় নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে—এর পেছনে নীতিনির্ধারকদের কিছু বাস্তব যুক্তি রয়েছে। চলমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক প্রকৃত উদ্যোক্তা সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। কোনো কার্যকর ব্যবসা সাময়িক সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ব্যাংক নয়, শ্রমিক, সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এই বাস্তবতা বিবেচনায় ব্যাংকগুলোকে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক নয়। ব্যাংকের তারল্য ও ব্যালান্স শিটের ওপর চাপ কমানো এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

    কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন এই নমনীয়তা প্রকৃত সংকটে থাকা ব্যবসার বদলে দীর্ঘদিনের অনিয়মকারী বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের জন্যও প্রায় একইভাবে প্রযোজ্য হয়। মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে দীর্ঘমেয়াদি পুনঃতফসিলের সুযোগ তখন ঋণ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা না হয়ে সময়ক্ষেপণের কৌশলে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

    এখানেই আসে ‘লোন এভারগ্রিনিং’-এর ঝুঁকি—পুরোনো খারাপ ঋণকে নতুন করে সময় বাড়িয়ে বা পুনঃতফসিল করে কাগজে তুলনামূলক ভালো দেখানো। এতে প্রকৃত নগদ অর্থ আদায় না হলেও হিসাবের খাতায় খেলাপি ঋণের চাপ সাময়িকভাবে কম দেখা যেতে পারে। কিন্তু ব্যাংকের প্রকৃত প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন সংকট এবং আদায়ের দুর্বলতা তখনও থেকে যায়।

    আরও বড় সমস্যা হলো, বারবার ছাড় পাওয়ার সংস্কৃতি নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের জন্য একটি ভুল বার্তা তৈরি করে। একজন ঋণগ্রহীতা যদি মনে করেন সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করলেও শেষ পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে, তাহলে ঋণশৃঙ্খলা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে নমনীয় নীতি তখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের হাতিয়ার না হয়ে বড় খেলাপিদের জন্য পুরস্কারে পরিণত হতে পারে।

    খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঋণ অনুমোদন থেকে শুরু করে আদায় পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু বাস্তবে কয়েকটি কাঠামোগত দুর্বলতা এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    প্রথমত, রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাব। মুষ্টিমেয় বড় করপোরেট গ্রুপের হাতে বিশাল অঙ্কের ঋণ কেন্দ্রীভূত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

    দ্বিতীয়ত, আইনি দীর্ঘসূত্রিতা। অর্থঋণ আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকায় জামানত নিলামে তুলে দ্রুত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকলে একদিকে ব্যাংকের অর্থ আটকে থাকে, অন্যদিকে জামানতের মূল্যও কমে যেতে পারে।

    তৃতীয়ত, স্বার্থের সংঘাত ও পরিচালনা কাঠামোর দুর্বলতা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক, পারিবারিক বা ব্যবসায়িক প্রভাব থাকলে ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    ফলে খেলাপি ঋণের সমস্যাকে শুধু ঋণগ্রহীতার অনিয়ম হিসেবে দেখলে চলবে না। ঋণ অনুমোদনের সময় ব্যাংকের কর্মকর্তারা কীভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছেন, পরিচালনা পর্ষদ কীভাবে অনুমোদন দিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হয়েছে—প্রতিটি ধাপের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

    এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শুধু নমনীয় পুনঃতফসিল বা সময় বাড়ানোর ওপর নির্ভর করা যাবে না। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি ব্যাংকিং খাত সংস্কার পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সুপারিশের আলোকে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।

    ইচ্ছাকৃত খেলাপি ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তকে আলাদা করা। সব খেলাপি ঋণকে একইভাবে দেখা যাবে না। ব্যবসায়িক কারণে সাময়িক সংকটে পড়া উদ্যোক্তা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করা ব্যক্তির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে।

    যে ব্যবসা বাস্তবসম্মতভাবে পুনরুদ্ধারযোগ্য, তাকে শর্তসাপেক্ষে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ঋণের অর্থ আত্মসাৎ, অন্য খাতে স্থানান্তর, প্রতারণা বা সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করার ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও জব্দের মতো ব্যবস্থাও কার্যকর করতে হবে।

    দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের ব্যালান্স শিটে আটকে থাকা মন্দ ঋণ দ্রুত ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তাবিত সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কাঠামো বা DAM-এর কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন। বিশেষ মধ্যস্থতাকারী-এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মন্দ ঋণ আলাদা করে পেশাদার ব্যবস্থাপনায় নেওয়া গেলে ব্যাংকের মূল ব্যবসা ও ঋণদানের সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।

    অর্থঋণ আদালতে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ বা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে। বড় খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে জামানত দ্রুত মূল্যায়ন ও নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ উদ্ধারের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তির পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও সময়সীমাবদ্ধ করা প্রয়োজন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি। ব্যাংকিং খাতে টেকসই সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ কার্যকর স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপমুক্ত থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বা Risk-based Supervision নিশ্চিত করতে হবে। কোন ব্যাংকে কী ধরনের ঝুঁকি জমা হচ্ছে, কোন ঋণগ্রহীতার কাছে অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে এবং কোথায় সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে—তা আগেভাগেই শনাক্ত করতে হবে।

    আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শুধু ঋণ দেওয়ার সময় যাচাই করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঋণের অর্থ যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তা সেই খাতেই ব্যবহার হচ্ছে কি না—তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

    একই ঋণগ্রহীতা বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কত ঋণ নিয়েছে, তাদের প্রকৃত সম্পদ ও নগদ প্রবাহ কেমন এবং ঋণের অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এসব তথ্য সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শক্তিশালী ক্রেডিট ডেটাবেস, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং ডেটাভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ভবিষ্যতে বড় ধরনের খেলাপি ঋণ তৈরির আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে।

    ঋণশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু খেলাপিদের শাস্তি দিলেই হবে না; নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদেরও পুরস্কৃত করতে হবে। ভালো ক্রেডিট রেকর্ড থাকা গ্রাহকদের তুলনামূলক সুবিধাজনক সুদ, দ্রুত ঋণ অনুমোদন, সহজ পুনঃঅর্থায়ন এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। নীতির মূল বার্তা হওয়া উচিত স্পষ্ট—সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে সুবিধা, প্রকৃত সংকটে পড়লে শর্তসাপেক্ষ সহায়তা, আর ইচ্ছাকৃত খেলাপি হলে কঠোর ব্যবস্থা।

    নমনীয় নীতি কোনোভাবেই খেলাপি ঋণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। এটি প্রয়োজনের সময়ে প্রকৃত সংকটে থাকা ব্যবসাকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার একটি হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগ যদি নির্বিচারে দেওয়া হয়, তাহলে তা ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা আরও দুর্বল করবে।

    কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে প্রকৃত নগদ আদায় না হলে সংকটের কোনো সমাধান হবে না। বরং ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন সংকট এবং আমানতকারীর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই এখন প্রয়োজন ‘ছাড়’ ও ‘কঠোরতা’র মধ্যে সঠিক ভারসাম্য।

    প্রকৃত ব্যবসায়িক ক্ষতিগ্রস্তদের পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে হবে, কিন্তু ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ঋণ বিতরণ, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি, দ্রুত ঋণ আদায়, কার্যকর আদালতব্যবস্থা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে বাঁচানোর প্রশ্নে তাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু খেলাপি ঋণের অঙ্ক কমানো নয়; ঋণ দেওয়ার সংস্কৃতি, আদায়ের ব্যবস্থা এবং ব্যাংক পরিচালনার কাঠামো—তিনটিতেই মৌলিক পরিবর্তন আনা। কারণ সাময়িক পুনঃতফসিল সংকটকে কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে, কিন্তু টেকসই সুশাসনই পারে সংকটের মূল কারণ দূর করতে। শেষ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানোর পথ কোনো একক ছাড়ের নীতিতে নয়; বরং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ন্যায়সংগত নমনীয়তা এবং আইনের সমান প্রয়োগের মধ্যেই নিহিত।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বিশ্লেষণ

    সেভেন সিস্টার্স থেকে বাংলাদেশের বন্দর: আঞ্চলিক ব্যবসায়িক হাব হওয়ার সমীকরণ

    আগস্ট 25, 2026
    অর্থনীতি

    উৎপাদন বাড়লেও বিশ্ববাজারে পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের চা

    আগস্ট 25, 2026
    ব্যাংক

    ৫০ কোটির বেশি ঋণে কঠোর নজরদারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক

    আগস্ট 25, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.