চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পঞ্চান্নতম জশনে জুলুস, যেখানে অংশ নিয়েছেন লাখো ভক্ত-অনুরাগী। এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকিস্তানের সিরিকোট দরবারের সাজ্জাদানশীন এক পীর, তার সঙ্গে আছেন তার দুই উত্তরসূরিও।
আজ বুধবার সকালে জুলুস শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রধান অতিথি। এরপর দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। সকাল দশটার দিকে একটি বিশেষ গাড়িতে করে খানকাহর সামনে উপস্থিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঐতিহ্যবাহী এই জুলুস।
জুলুসে অংশ নেন সব বয়সী মানুষ—শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। পুরো পথজুড়ে ভেসে বেড়ায় কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও দরুদের সুর। রাস্তার দুই পাশে, ভবনের ছাদে, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। জুলুস চলাকালে অতিথিরা হাত নেড়ে অভিবাদন জানান উপস্থিত জনতাকে।
জুলুস উপলক্ষে নগরের একটি এলাকা থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে অস্থায়ী মেলা, যেখানে আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক, গামছা, পাঞ্জাবি-পাজামা এবং জুলুসের পতাকাসহ নানা পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এমনকি মোবাইলের চার্জার-ক্যাবলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রীও মিলছে সেখানে।
বিভিন্ন সংগঠন জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পথে পথে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলো সাজানো হয়েছে তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে, যা পুরো শহরে তৈরি করেছে এক উৎসবমুখর আবহ।
আয়োজক কমিটির প্রচার বিভাগের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, একটি ধর্মীয় ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এই জুলুসে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর সাবেক-বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অনুসারী ও সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি জুলুস দেখতে ছুটে আসা কৌতূহলী মানুষের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
জুলুসটি একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা শুরু করে নগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই পথে ফিরে মূল মাঠে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জুলুসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় দশ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। জনদুর্ভোগ ও যানজট এড়াতে জুলুসের সময় শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

