বিশেষ বিশ্লেষণ
ধরুন, আপনি একটা দোকানে গেলেন দরদাম করতে। বিক্রেতা বললো, দাম কমাবো, কিন্তু বদলে তোমাকে পরের পনেরো বছর শুধু আমার কাছ থেকেই জিনিস কিনতে হবে, আমার অনুমতি ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে কিনতে পারবে না, আর চুক্তির কাগজে আমার দায়বদ্ধতা ছয়টা, তোমার একশো একত্রিশটা। আপনি রাজি হবেন কি না, সেটা একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলাদেশ এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিল ঠিক জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে, ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, যখন অন্তর্বর্তী সরকার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করে “এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড” বা এআরটি। এই চুক্তি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে যত আলোচনা, বিতর্ক আর হাইকোর্টে রিট হয়েছে, তার প্রতিটার পেছনে আছে খুব নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যা আর শর্ত। চলুন সেগুলো একে একে দেখি, কোনো ধারণা বা গুজবের ওপর ভর না করে, সরাসরি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের নথি আর বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি থেকে।
১৯ শতাংশের অঙ্কটা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা নয়
সরকারি প্রচারে যেটা বলা হয়েছে, সেটা সত্যি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়েছে। কিন্তু এই ১৯ শতাংশ পুরনো ১৬.৫ শতাংশ শুল্কের ওপর যোগ হচ্ছে, ফলে মোট কার্যকর শুল্কহার দাঁড়ায় ৩৪.৫ শতাংশে। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব হিসাব, কোনো বিরোধী পক্ষের অভিযোগ নয়। সরকার আরেকটা পরিসংখ্যান দিয়েছে, যেটা মন্দ শোনায় না; বাংলাদেশের প্রায় ৮৫-৮৬ শতাংশ রপ্তানি শুল্কমুক্তভাবে মার্কিন বাজারে ঢুকতে পারবে। কিন্তু এখানেই একটা শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে, যেটা অনেকেই এড়িয়ে যান, এই শুল্কমুক্তি নিঃশর্ত নয়। পোশাকখাতের যেসব পণ্য মার্কিন তুলা বা কৃত্রিম আঁশ দিয়ে তৈরি, শুধু সেগুলোই এই সুবিধা পাবে। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো এখন চীন কিংবা ভারত থেকে সস্তায় তুলা আমদানি করে; সেই অভ্যাস বদলে ব্যয়বহুল মার্কিন তুলায় যেতে হলে উৎপাদন খরচ বাড়বে, এটা বাস্তব হিসাব, কোনো অনুমান নয়। ফলে “শুল্কমুক্ত” শব্দটা যতটা স্বস্তিদায়ক শোনায়, বাস্তব চিত্র ততটা সরল নয়।
যেখানে সংখ্যাটাই সবচেয়ে বড় গল্প বলে
এই চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকটা আসলে আইনি ভাষার একটা খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ থেকে বেরিয়ে এসেছে। বত্রিশ পাতার চুক্তিতে “স্যাল” শব্দটা ব্যবহৃত হয়েছে ১৭৯ বার, “উইল” মাত্র তিনবার। আইনি পরিভাষায় ” স্যাল” মানে বাধ্যতামূলক দায়, আর ” উইল” মানে ইচ্ছাপ্রকাশ। এই ১৭৯ বারের মধ্যে “বাংলাদেশ স্যাল” এসেছে ১৩১ বার, আর “যুক্তরাষ্ট্র স্যাল” মাত্র ৬ বার। এই তথ্য নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই আলোচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, নিজেই স্বীকার করেছেন এই সংখ্যা এবং যুক্তি দিয়েছেন যে ইন্দোনেশিয়ার চুক্তিতে ” স্যাল” আছে ২৩১ বার, ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়ার চুক্তিতেও একই ধরনের ভাষা আছে। এখানে আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ যোগ করা দরকার; আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনে (ভিয়েনা কনভেনশন অন দ্য ল অব ট্রিটিজ অনুসারে) কোনো চুক্তির দায় অসম হলেই সেটা অবৈধ হয়ে যায় না, কারণ চুক্তি হলো দুই পক্ষের সম্মতির ফসল, আর দুর্বল অর্থনীতির দেশ শক্তিশালী অর্থনীতির সঙ্গে দরকষাকষি করলে দায়ের এই অসমতা অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সংখ্যার অসমতা বৈধ হওয়া মানেই এই নয় যে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ন্যায্য। এই দুটো প্রশ্ন আলাদা, আর দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তর সহজে “হ্যাঁ” বলার সুযোগ কম।
গ্যাস, বিমান আর গমের হিসাব মেলালে দাঁড়ায় প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার
চুক্তির নিচে চাপা পড়ে থাকা সবচেয়ে ভারী বোঝাটা আসলে ট্যারিফ নয়, ক্রয়-প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পরবর্তী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অন্তত সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য। বছরে সত্তর হাজার টন গম পাঁচ বছর ধরে, প্রায় সোয়া বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন, আর তুলা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকেও বাধ্যবাধকতা মেনে চৌদ্দটি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হয়েছে, যার মূল্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই তিনটা অঙ্ক যোগ করলে মোট প্রতিশ্রুত ক্রয়ের পরিমাণ প্রায় বাইশ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে। এই যোগফলটা কোনো সরকারি বিবৃতিতে একসঙ্গে বলা হয়নি, আলাদা আলাদা ঘোষণা থেকে হিসাব করে বের করতে হয়। গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো ব্যাপার হলো, এ বছরের আগস্টে সরকার কোনো উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই মার্কিন কোম্পানি গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে দশ বছরের একটা এলএনজি চুক্তি করেছে, যাতে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১১৭টি চালান আসবে, মূল্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতিরই একটা অংশ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “স্টেট-টু-স্টেট ফর্মুলা”র নামে এই চুক্তি বাংলাদেশের গ্যাস আমদানিকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেঁধে ফেলেছে, ফলে ভবিষ্যতে কাতার বা ওমান থেকে সস্তায় এলএনজি কেনার সুযোগ সংকুচিত হবে, আর এটা দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারেও বাধা তৈরি করতে পারে।
যে ধাক্কাটা এগারো দিনের মধ্যেই এসেছিল
এখানে গল্পটার এমন একটা মোড় আছে, যেটা বাংলাদেশের ভেতরের আলোচনায় প্রাপ্য গুরুত্ব পায়নি। চুক্তি সই হওয়ার মাত্র এগারো দিনের মাথায়, ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেয় যে ট্রাম্প প্রশাসনের “আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন” (আইইইপিএ) ব্যবহার করে আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ পুরোপুরি অবৈধ। অর্থাৎ, যে ৩৭ শতাংশ শুল্কের হুমকি বাংলাদেশকে টেবিলে বসিয়ে দরকষাকষিতে বাধ্য করেছিল, সেই হুমকির আইনি ভিত্তিটাই সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ভেঙে পড়ে। এটা শুধু বাংলাদেশের বেলায় নয়, প্রায় সব দেশের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে শুল্ক আদায় বন্ধ করলেও দ্রুতই ভিন্ন আইনি কাঠামোতে (সেকশন ১২২) নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যার ফলে বাংলাদেশের কার্যকর শুল্কহার আবার বেড়ে ২৬.৫ শতাংশে দাঁড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশ্নটা এখানেই দাঁড়ায়, যে হুমকির বিনিময়ে বাংলাদেশ পনেরো বছরের গ্যাস, বিমান আর কৃষিপণ্য কেনার বাধ্যবাধকতায় সই করেছে, সেই হুমকিই যদি আদালতে টেকে না, তাহলে বিনিময়ের পাল্লাটা আরও একবার ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে কি না? বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও শাখার একজন কর্মকর্তা নিজেই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রায়ের পর চুক্তিটা পর্যালোচনা করে দেখা হবে। কিন্তু গ্যাস আর বিমান কেনার চুক্তিগুলো যেহেতু আলাদা বাণিজ্যিক দলিল, শুল্ক-চুক্তি বাতিল হলেই সেগুলো এমনিতে বাতিল হয়ে যায় না, এটাই আসল প্যাঁচ।
রাজনীতির প্রশ্ন: কার অনুমতিতে, কার স্বাক্ষরে
এই চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা আইনি নয়, রাজনৈতিক বৈধতার। একটা অন্তর্বর্তী সরকার, যার মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচন আয়োজন করা, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে পনেরো বছরের জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করে এমন একটা চুক্তিতে সই করার এখতিয়ার কতটুকু রাখে; এই প্রশ্ন সংসদেও উঠেছে, স্বতন্ত্র সাংসদ রুমিন ফারহানা এটা সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন, এমনকি হাইকোর্টে রিটও হয়েছে, যেখানে আবেদনকারীর যুক্তি ছিল সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করার বাধ্যবাধকতা পালন করা হয়নি। সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সই করার আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিষয়টা আলোচনা করেছিল, আর এ কারণেই এই দুই দল চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেয়নি। এই দাবিটা শুধু একজন সাবেক উপদেষ্টার কথা নয়; বিএনপি সরকারের নিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও প্রকাশ্যে বলেছেন, নির্বাচনের আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি নিজে দুই বড় দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, আর তাঁরা রাজি হয়েছিলেন। অর্থাৎ, “অন্ধকারে সই” এই অভিযোগটা পুরোপুরি ধোপে টেকে না, বরং প্রশ্নটা হওয়া উচিত, জনগণের ভোট ছাড়া নেওয়া একটা সিদ্ধান্তে দলীয় নেতৃত্বের মৌখিক সম্মতি কতটা যথেষ্ট, যেখানে সংবিধান সংসদে উপস্থাপনের কথা বলছে।
একটা শর্ত যেটা সত্যিই ব্যতিক্রম
সমালোচনার ভিড়ে একটা তথ্য প্রায় হারিয়ে যায়, যেটা বাংলাদেশের পক্ষে সত্যিকার অর্থে একটা সুবিধা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিজেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতগুলো দেশের সঙ্গে এই ধরনের রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তি করেছে, তার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের চুক্তিতেই একটা প্রস্থান-শর্ত (এক্সিট ক্লজ) আছে; ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করার সুযোগ। এটা ছোট বিষয় নয়; অন্য কোনো দেশ, এমনকি ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়াও, তাদের চুক্তিতে এই সুবিধা পায়নি বলে জানা যাচ্ছে। তবে এখানে বাস্তবতাবোধ ধরে রাখা জরুরি, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির নিজেই বলেছেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো ইচ্ছেমতো বাতিল করা যায় না। আন্তর্জাতিক আইনের একটা মৌলিক নীতিই হলো “রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা”। সরকার বদলালেও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের করা প্রতিশ্রুতি বহাল থাকে, যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে সেটা প্রত্যাহার করা হয়। তাই ৬০ দিনের নোটিশ থাকা মানেই এই নয় যে গানভরের সঙ্গে হওয়া ১৫ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তি বা বোয়িংয়ের সঙ্গে হওয়া উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি রাতারাতি মুছে যাবে, এই বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো এআরটি চুক্তির থেকে আইনগতভাবে আলাদা, আর সেগুলো নিজস্ব শর্তেই বাঁধা।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়
এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটা হলো, চুক্তিটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকরই হয়নি; দুই পক্ষের কেউই নিজ নিজ দেশে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া (নোটিফিকেশন) সম্পন্ন করেনি। অথচ বাস্তবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে গানভরের সঙ্গে গ্যাস, বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান আর কৃষিপণ্যের একের পর এক কোটি কোটি ডলারের চুক্তিতে সই করে ফেলেছে, যেন চুক্তিটা পুরোপুরি বলবৎ। বর্তমান সরকার এটাকে বলছে “রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা”র অংশ, বিরোধী দল ও কৃষক সংগঠনগুলো বলছে এটা কৃষি ও জ্বালানি খাতের জন্য বিপজ্জনক নজির। দুই পক্ষের যুক্তিরই আইনি ভিত্তি আছে, আর এখানেই এই চুক্তির আসল শিক্ষা লুকিয়ে; বাণিজ্য কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা প্রায়ই লেখা থাকে না মূল চুক্তির শুল্কহারে, বরং তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া পার্শ্ব-প্রতিশ্রুতিগুলোতে, যেগুলো একবার সই হয়ে গেলে মূল চুক্তি বাতিল হলেও সহজে মোছা যায় না। বাংলাদেশ এখন ঠিক সেই বাস্তবতার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে। এক শতাংশ শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে পনেরো বছরের জন্য বাঁধা এক অর্থনীতি, যার আইনি ভিত্তি এগারো দিনের মধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রাকিবুল ইসলাম।
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

