Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, সেপ্টে. 20, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » যারা যুদ্ধ থামাতে পারতেন, ইসরায়েল কেন তাদেরই হত্যা করছে?
    বিশেষ বিশ্লেষণ

    যারা যুদ্ধ থামাতে পারতেন, ইসরায়েল কেন তাদেরই হত্যা করছে?

    এফ. আর. ইমরানসেপ্টেম্বর 20, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    তেহরানের বিলাল মসজিদে শহীদ আলী লারিজানির স্মরণে অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক শুধু প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ নয়; আরও গভীর সংকট তৈরি হয় তখন, যখন শান্তির পথে পৌঁছানোর মতো মানুষগুলোকেও একে একে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ কোনো সংঘাত শেষ করতে শুধু অস্ত্রবিরতি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মধ্যস্থতাকারী, যাঁরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং একটি সমঝোতা কার্যকর করার ক্ষমতা রাখেন। সেই মানুষগুলোই যদি যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েন, তাহলে সংঘাতের দরজা খোলা থাকলেও শান্তির দরজা ক্রমেই বন্ধ হয়ে যায়।

    তখন প্রশ্ন ওঠে, যুদ্ধ থামানোর মতো বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠগুলো যদি আর অবশিষ্টই না থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা করবে কে? বা মীমাংসার পথ খুলবে কে?

    আধুনিক যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সামরিক কমান্ডার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা নতুন কোনো কৌশল নয়। কিন্তু প্রশ্নটি জটিল হয়ে ওঠে তখন, যখন নিহত ব্যক্তিই একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা এবং যুদ্ধ থামানোর মতো রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধারণ করেন।

    ইরান, গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আনছে: ইসরায়েল যাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে হত্যা করেছে, তাদের মধ্যেই কি এমন ব্যক্তিরা ছিলেন, যাদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতা করা সম্ভব ছিল?

    শান্তির পথও কি বন্ধ হচ্ছে?

    এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিক আলী লারিজানির হত্যার পর। ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ তেহরানের কাছে ইসরায়েলি হামলায় লারিজানি নিহত হন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তাঁর মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেন। রয়টার্স লারিজানিকে ইরানের নিরাপত্তানীতির অন্যতম স্থপতি, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে বাস্তববাদী হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য ছিল, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর লারিজানি কার্যত ইরানি ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তগ্রহণকারীতে পরিণত হয়েছিলেন এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভূমিকা রাখছিলেন। ফলে ইসরায়েলের প্রকাশ্য যুক্তিতে তিনি কোনো নিরপেক্ষ শান্তিদূত ছিলেন না; বরং শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের অংশ ছিলেন।

    ২০২৬ সালের ১৮ই মার্চ ইরানের তেহরানে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি, বাসিজ কমান্ডার মেজর জেনারেল গোলাম সোলেইমানি এবং ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ইরিস দেনার ৮৪ জন নাবিকের যৌথ জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়। ছবি: গেটি ইমেজেস

    কিন্তু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে অন্য জায়গায়। ১৮ সেপ্টেম্বর আল জাজিরায় প্রকাশিত অধ্যাপক মাহজুব জুয়েইরির একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে সাবেক এমআই৬ (MI6) প্রধান স্যার জন সয়ার্সের ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ দেওয়া মূল্যায়ন উদ্ধৃত করে বলা হয়, লারিজানি এমন অল্প কয়েকজন ইরানি নেতার একজন ছিলেন, যিনি উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য যেকোনো সমঝোতার পথে যেতে পারতেন। সয়ার্সের মূল্যায়ন সঠিক হলে প্রশ্ন দাঁড়ায় – লারিজানির সামরিক-রাজনৈতিক গুরুত্বই কি তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, নাকি তাঁর সম্ভাব্য আলোচকের ভূমিকাও ইসরায়েলের কৌশলগত বিবেচনায় ছিল?

    দ্বিতীয় দাবিটির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। এটিই এ বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: হত্যার কূটনৈতিক পরিণতি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু কূটনীতি বন্ধ করাই হত্যার উদ্দেশ্য ছিল – এটি প্রমাণিত নয়।

    গাজার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন আরও স্পষ্টভাবে উঠেছিল ইসমাইল হানিয়ার হত্যার পর। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হানিয়া নিহত হন। ওই সময় তিনি হামাসের আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রধান মুখ ছিলেন এবং কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা গাজা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-মুক্তি আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। হত্যার পর কাতার ও মিসর সরাসরি সতর্ক করেছিল, এমন ঘটনা যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে আরও বিপদের মুখে ফেলতে পারে। ডিসেম্বর ২০২৪-এ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যেই প্রথমবার হানিয়াকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

    হানিয়ার মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই হামাস ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে সংগঠনটির রাজনৈতিক প্রধান নির্বাচিত করে। সিনওয়ার ছিলেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং তাঁর নেতৃত্বকে অনেক পর্যবেক্ষক হানিয়ার তুলনায় আরও সামরিকমুখী হিসেবে দেখতেন। ফলে হানিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার তাৎক্ষণিক ফল শান্তির পথ প্রশস্ত করা ছিল না; বরং প্রতিপক্ষ সংগঠনের ক্ষমতার কেন্দ্র আরও সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনাকারী নেতৃত্বের হাতে চলে যায়। তবে এখানেও একটি সতর্কতা জরুরি- এর অর্থ এই নয় যে হানিয়া বেঁচে থাকলেই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হতো। তিনি হামাসের শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং এমন একটি সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন, যেটি ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ী। তাঁর আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং তাঁর রাজনৈতিক-সামরিক দায়- দুটি বাস্তবতাই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় একটি বৈঠক চলাকালীন ইসমাইল হানিয়া। তিনি ২০১৬ সাল থেকে শহরটিতে বসবাস করে আসছিলেন। ছবি: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    লেবাননের ইতিহাস আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দেয়। ১৯৯২ সালে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর তৎকালীন মহাসচিব আব্বাস আল-মুসাউইকে হত্যা করে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন হাসান নাসরাল্লাহ। পরবর্তী তিন দশকের বেশি সময় নাসরাল্লাহর নেতৃত্বে হিজবুল্লাহ অনেক বেশি শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয় এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নাসরাল্লাহও নিহত হন। ইসরায়েলের বক্তব্য ছিল, হিজবুল্লাহর কমান্ড কাঠামো ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করার জন্য এই ধরনের নেতৃত্বকে অপসারণ করা প্রয়োজন।

    নেতৃত্ব-ছেদন কি সত্যিই কার্যকর?

    এখানেই ইসরায়েলের বহুল আলোচিত ‘লিডারশিপ ডিক্যাপিটেশন’ বা নেতৃত্ব-ছেদন কৌশলটির মূল যুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিপক্ষের শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দিলে কমান্ড ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে, সংগঠন সাময়িকভাবে দিকহারা হতে পারে এবং নতুন নেতৃত্বকে পুনর্গঠনে সময় ব্যয় করতে হয়।

    সিঙ্গাপুরের এস. রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের একটি বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, এ ধরনের কৌশল স্বল্পমেয়াদে সংগঠনের কার্যক্রম বিঘ্নিত করতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যকারিতা অনেক বেশি অনিশ্চিত, কারণ শক্তিশালী আদর্শিক ও সাংগঠনিক ভিত্তিসম্পন্ন গোষ্ঠী নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে।

    ২০২৬ সালে ইরানের ক্ষেত্রেও এই বিতর্ক আরও বড় হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং পরে লারিজানিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যার পর ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ প্রশ্ন তুলেছে, শুধু নেতৃত্ব ধ্বংস করে ইরানের মতো রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না। অর্থাৎ কোনো নেতাকে হত্যা করা সামরিকভাবে সফল অভিযান হতে পারে, কিন্তু সেই সাফল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সমাধানে রূপ নেয় না। কখনো বরং নতুন নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

    ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ইসরায়েলের তেল আবিবের কিরিয়া সামরিক সদর দপ্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ (বাম থেকে ২য়), আইডিএফ চিফ অফ স্টাফ ইয়াল জামির (ডান) এবং মোসাদের পরিচালক ডেভিড বারনিয়ার (বাম) সাথে একটি জরুরি নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলাকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ডান থেকে ২য়)। ছবি: সংগৃহীত

    এখানে ১৯৪৮ সালের কাউন্ট ফোক বার্নাডটের ঘটনাটিও প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা হয়, তবে ঘটনাটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক মধ্যস্থতাকারী বার্নাডটকে জেরুজালেমে লেহি বা স্টার্ন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা হত্যা করেন। এটি বর্তমান অর্থে ইসরায়েলি সরকারের কোনো টার্গেটেড-কিলিং অভিযান ছিল না। ইসরায়েলের অস্থায়ী সরকার হত্যার নিন্দা জানায়, লেহিকে নিষিদ্ধ করে এবং বহু সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বার্নাডটের মৃত্যুতে কূটনীতি শেষ হয়ে যায়নি; রালফ বানচে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে আরব রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৪৯ সালের অস্ত্রবিরতি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী নিহত হলেই শান্তির পথ অনিবার্যভাবে বন্ধ হয়ে যায়- ইতিহাস সেই সরল সিদ্ধান্তও সমর্থন করে না।

    ২০২০ সালে ইরানি পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদেহর হত্যাকাণ্ডও এ আলোচনায় আসে। ইরান হত্যার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছিল, যদিও সে সময় ইসরায়েল প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করেনি। ঘটনাটি ঘটেছিল জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর, যখন তিনি ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ঘিরে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। রয়টার্স তখনই লিখেছিল, হত্যাকাণ্ডটি নতুন মার্কিন প্রশাসনের সম্ভাব্য ইরান-কূটনীতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। অর্থাৎ আবারও সামরিক অভিযানের ফল এবং কূটনৈতিক প্রভাব একই ঘটনায় মিলিত হয়েছিল।

    যুদ্ধ জিততে গিয়ে শান্তি হারানোর ঝুঁকি

    তাহলে ইসরায়েল কেন এমন নেতাদের হত্যা করবে, যাদের কারও কারও সঙ্গে আলোচনা সম্ভব ছিল?

    সবচেয়ে সতর্ক উত্তর হলো, তারা আলোচক ছিলেন বলেই তাঁদের হত্যা করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। ইসরায়েলের সরকারি ব্যাখ্যায় লক্ষ্যবস্তুদের পরিচয় প্রধানত সামরিক বা নিরাপত্তা হুমকির উৎস হিসেবে। লারিজানি ছিলেন ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের অংশ, হানিয়া হামাসের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বে, নাসরাল্লাহ হিজবুল্লাহর সামরিক-রাজনৈতিক নেতৃত্বে। ইসরায়েল তাই তাদের ‘সম্ভাব্য শান্তিদূত’ নয়, প্রতিপক্ষের সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবেই দেখেছে।

    ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (শুক্রবার) হাসান নাসরাল্লাহকে বৈরুতে হত্যা করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

    কিন্তু এখানেই কৌশলগত দ্বন্দ্বটি তৈরি হয়। যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা যাঁর আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুদ্ধ থামানোর চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষমতাও তাঁরই থাকে। প্রতিপক্ষের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ক্রমাগত সরিয়ে দেওয়া তাই স্বল্পমেয়াদে যুদ্ধক্ষমতা দুর্বল করলেও দীর্ঘমেয়াদে এমন ব্যক্তিদের সংখ্যাও কমিয়ে দিতে পারে, যারা নিজেদের সংগঠন বা রাষ্ট্রকে কোনো সমঝোতা মানাতে সক্ষম। নেতৃত্ব ধ্বংসের কৌশলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও সম্ভবত এখানেই – যুদ্ধক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে গিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্তৃত্বের কেন্দ্রকেও ধ্বংস করে ফেলা।

    ফলে লারিজানি, হানিয়া কিংবা নাসরাল্লাহর মৃত্যুগুলোকে একত্র করে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ইসরায়েলের একটি প্রমাণিত নীতি হচ্ছে ‘শান্তি আনতে পারে এমন সবাইকে হত্যা করা’। বরং প্রমাণ যা দেখায় তা হলো, ইসরায়েল প্রতিপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করার কৌশলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে – এমনকি সেই নেতৃত্বের কেউ কেউ একই সঙ্গে যোগাযোগ, মধ্যস্থতা বা রাজনৈতিক সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। সামরিক দৃষ্টিতে এই কৌশলের যুক্তি রয়েছে; কূটনৈতিক দৃষ্টিতে এর ব্যাপক মূল্যও রয়েছে।

    আর সেখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যায়: যদি যুদ্ধ জয়ের কৌশল বারবার এমন মানুষদেরও সরিয়ে দেয়, যাদের শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে প্রয়োজন হতে পারত, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি করতে করতে একসময় কি আলোচনার টেবিলটিও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে?

    • এফ.আর. ইমরান: সিটিজেন্স ভয়েস-এর নির্বাহী সম্পাদক

    তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, জাতিসংঘ (UN), ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF), সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS), এস. রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (RSIS), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যম।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    ট্রাম্পের ভিন্নমত দমনে মুসলমানদের ওপর পরীক্ষিত ক্ষমতা ব্যবহার

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    আন্তর্জাতিক

    তেলের দাম বাড়ায় ভাগ্য বদলাচ্ছে যে ছোট দেশের

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে অস্ত্র ও জনবল সংকটের খবর কতটা সত্য?

    সেপ্টেম্বর 20, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.