মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করলেও দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানার জন্য পরিস্থিতি উল্টো সুযোগ হয়ে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানি পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সেই বাড়তি দামের বড় সুবিধাভোগীদের একটি এখন গায়ানা।
দেশটির রাজধানী জর্জটাউনের সাম্প্রতিক চিত্রেই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। ব্যস্ত সড়কে ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি দেখা যাচ্ছে। নতুন রেস্তোরাঁয় দামি আমদানি করা খাবার পরিবেশন হচ্ছে, বিদেশ থেকে বিনোদনশিল্পীদের আনা হচ্ছে এবং শহরে ব্যয়বহুল বিয়ের আয়োজন বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও যে দেশে এমন ভোগবিলাস ছিল তুলনামূলক বিরল, তেলের অর্থ সেখানে নতুন এক ধনী শ্রেণির উত্থান ঘটিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী ইংরেজিভাষী গায়ানার জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। দেশটি কয়েক বছর আগেই বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে তেল উৎপাদন শুরু করেছে। চলতি বছর তেল থেকে সরকারের আয় প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।
এই আকস্মিক বাড়তি আয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিশ্ববাজারে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় ক্রেতারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে গায়ানার মতো তুলনামূলক নতুন তেল উৎপাদক দেশের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।
শুধু গায়ানা নয়, পুরো আমেরিকা মহাদেশই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় তেল উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। জ্বালানিবিষয়ক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব সামাল দিতে আমেরিকা মহাদেশের বাড়তি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৭ শতাংশ এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে আসে। এক দশক আগে এই হার ছিল ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ভার ধীরে ধীরে পশ্চিম গোলার্ধের দিকে সরছে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রগুলোর একটি গায়ানা। বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল। জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারানের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।
তেলের এই উত্থানের প্রভাব দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। কয়েক বছরের ধারাবাহিক তেলনির্ভর সম্প্রসারণ দেশটিকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যেও গায়ানার দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান স্পষ্ট। দেশটি এখন উচ্চ আয়ের অর্থনীতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ এবং ২০২৫ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ছিল প্রায় ৩২ হাজার ৪১৪ ডলার।
কিন্তু জাতীয় আয়ের এই দ্রুত বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে সমানভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
জর্জটাউনের একদিকে নতুন বিলাসবহুল ভবন, দামি গাড়ি ও উচ্চমূল্যের রেস্তোরাঁ দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে পুরোনো অবকাঠামোর সমস্যাও রয়ে গেছে। শহরের অনেক খালে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। বহু পরিবার এখনো বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা পুরোনো বাড়িতে বসবাস করে। সড়ক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং আবাসনের সমস্যাও পুরোপুরি কাটেনি।
অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, তেলের অর্থ থেকে একটি ছোট ও সচ্ছল শ্রেণি দ্রুত বেশি সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বড় অংশ মূল্যস্ফীতি, আবাসন ব্যয় এবং দুর্বল সরকারি সেবার চাপ অনুভব করছে।
এখানেই গায়ানার তেল অর্থনীতির প্রধান বৈপরীত্যটি স্পষ্ট হয়। দেশটি বিপুল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করলেও নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল ও ডিজেল তৈরির পর্যাপ্ত পরিশোধন অবকাঠামো নেই। ফলে তেল রপ্তানিকারক হয়েও পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশটিকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুতের দামও তুলনামূলক বেশি। চলতি বসন্তেও সাময়িক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল।
তেলের অর্থ দ্রুত আসতে শুরু করলে অর্থনীতিতে আরেকটি ঝুঁকি তৈরি হয়। রাষ্ট্র যদি এই অর্থের বড় অংশ কয়েকটি খাতে ব্যয় করে এবং কৃষি, উৎপাদন, মানবসম্পদ ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি যথেষ্ট শক্তিশালী না করে, তাহলে ভবিষ্যতে তেলের দাম কমে গেলে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এ কারণেই গায়ানার অর্থনৈতিক আলোচনায় এখন বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনীতি তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে তুলনামূলক আশাবাদী। তার মতে, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানির বিনিয়োগ এমনভাবে পরিচালনা করা দরকার, যাতে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীরা আরও বেশি সুযোগ পান। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারও দাবি করছে, তেলের অর্থের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী বলেছেন, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছানোই সরকারের লক্ষ্য।
এর অংশ হিসেবে কর কমানো, নতুন সেতু ও মহাসড়ক নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যয় বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি সেবার মান কত দ্রুত বাড়ছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে আসে জুলাইয়ের ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনার পর। সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এটি ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন ঘটনার পর দেশটির অন্যতম প্রাণঘাতী বিপর্যয় হিসেবে আলোচিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে হতাহতদের পরিবার ও নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহির দাবি তীব্র হয়।
এই দুর্ঘটনা গায়ানার নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আনে—বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি হয়েও দেশটির মৌলিক অবকাঠামো ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে এত বড় দুর্বলতা কেন রয়ে গেছে?
রাজনীতিতেও তেলের অর্থ নতুন চাপ তৈরি করেছে। ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীকে জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
গায়ানার তেলসমৃদ্ধ ভবিষ্যতের সঙ্গে আরেকটি বড় ঝুঁকি জড়িয়ে আছে—ভেনেজুয়েলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের এসেকুইবো বিরোধ।
এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এলাকার উপকূলবর্তী জলসীমায় বড় তেলের মজুত আবিষ্কারের পর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ভেনেজুয়েলা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর দাবি করে আসছে। সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা এবং জ্বালানি অনুসন্ধান ঘিরে দুই দেশের উত্তেজনাও কয়েকবার বেড়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতা হারানোর পর দেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসে।
গায়ানার অনেকে তখন ধারণা করেছিলেন, নতুন পরিস্থিতিতে সীমান্ত উত্তেজনা কমতে পারে। কিন্তু এসেকুইবো প্রশ্ন ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।
বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারাধীন। গায়ানা সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মামলার মৌখিক শুনানি শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে চূড়ান্ত রায় আসতে পারে।
এই বিরোধ গায়ানাকে শুধু একটি সীমান্ত সমস্যার মুখে ফেলেনি; এর সঙ্গে তেল, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থও জড়িয়ে পড়েছে।
গায়ানা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশটির তেলক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও উৎপাদন শুধু গায়ানার অর্থনীতির জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কৌশলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই জায়গাতেই গায়ানার সামনে সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, অন্যদিকে নিজের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি।
অর্থনীতিবিদ থমাস সিংয়ের বক্তব্যে এই বাস্তবতার কঠোর দিকটি উঠে এসেছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের স্বার্থের হিসাবেই পরিচালিত হয়। গায়ানাকেও তাই তেলের সম্পদ ঘিরে বড় শক্তিগুলোর আগ্রহের মধ্যে নিজের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ দেশটির শ্রমবাজারেও পরিবর্তন আনছে। নতুন নির্মাণ, জ্বালানি ও সেবামূলক কাজে শ্রমিকের প্রয়োজন বেড়ে যাওয়ায় কিউবা ও ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো মানুষ গায়ানায় কাজের সন্ধানে আসছেন। শ্রমিক সংকট কমাতে সরকারও এই প্রবাহকে অনেকাংশে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোসের অভিজ্ঞতাও এই পরিবর্তনের প্রতীক। কাজের সুযোগের কারণে তিনি গায়ানায় থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন। একসময় যে ভেনেজুয়েলা ছিল অঞ্চলের বড় তেলসমৃদ্ধ অর্থনীতি, এখন সেই দেশ থেকেই মানুষ কাজের জন্য তুলনামূলক ছোট প্রতিবেশী গায়ানায় আসছে।
এই পরিবর্তন দক্ষিণ আমেরিকার অর্থনৈতিক মানচিত্র কত দ্রুত বদলাচ্ছে, তারও একটি উদাহরণ।
ইরান যুদ্ধ গায়ানার জন্য সরাসরি কোনো যুদ্ধ নয়, কিন্তু এর অর্থনৈতিক প্রভাব দেশটির জন্য ব্যাপক। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকি যত বাড়ছে, বিকল্প তেল উৎপাদক হিসেবে গায়ানার কৌশলগত মূল্য তত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সরকারি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্ব।
তবে তেলের দাম বাড়া থেকে পাওয়া এই সুবিধা স্থায়ী উন্নয়নে রূপ নেবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিপুল রাজস্ব যদি অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কৃষি ও তেলবহির্ভূত শিল্পে কার্যকরভাবে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে গায়ানা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
আর যদি সম্পদ সীমিত একটি গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়, সরকারি সেবার মান পিছিয়ে থাকে এবং অর্থনীতি অতিরিক্তভাবে তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে বর্তমান সমৃদ্ধিই ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
তাই গায়ানার সামনে এখন শুধু বেশি তেল বিক্রির সুযোগ নয়, বরং সেই অর্থ কীভাবে পুরো দেশের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া যায়—সেটিই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

