বিশেষ বিশ্লেষণ
চাকরির বাজারে যেখানে একটা ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার পদের জন্য হাজারো মেধাবী তরুণ-তরুণী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন, সেখানে ইসলামী ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার শর্ত ছিল একটাই, আপনার সিভিটা যেন পৌঁছায় চট্টগ্রামের পটিয়ায়, এস আলমের বাড়ির নির্দিষ্ট একটা বাক্সে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনই বলছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে দশ হাজারের বেশি কর্মীর মধ্যে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে কোনো বিজ্ঞপ্তি, কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই। এটা নিছক একটা মানবসম্পদ কেলেঙ্কারি নয়; এটা আমানতকারীর টাকায় চলা একটা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ সাড়ে আট বছর ধরে পারিবারিক কর্মসংস্থান কেন্দ্রে পরিণত করার গল্প, যার বিল এখনো মেটাচ্ছেন লাখো সাধারণ গ্রাহক।
বাক্সে জমা পড়ত সিভি, বাক্স থেকেই বেরোত নিয়োগপত্র
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৭ সালে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতি ঘটেছে। চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হতো এস আলমের চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসভবন ও আছদগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে বসানো বিশেষ বাক্সে, যেখানে পদের পাশাপাশি আবেদনকারীর এলাকা ও লিঙ্গভিত্তিক পৃথক তালিকা তৈরি করা হতো। এরপর পছন্দসই তালিকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে সরাসরি নিয়োগপত্র ইস্যু করা হতো; কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়নপত্রই ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংখ্যাটা যাচাই করলে চমকে উঠতে হয়: মোট নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা, আর একা পটিয়া উপজেলা থেকেই নিয়োগ পান পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অর্থাৎ সারা দেশের একটামাত্র উপজেলা থেকে এসেছে ব্যাংকের মোট নিয়োগের প্রায় অর্ধেক। এই অনিয়ম শুধু নিচের সারির কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এমডি, এএমডি, ডিএমডি, এসইভিপি-র মতো শীর্ষ পদেও একই কায়দায় লোক বসানো হয়েছে। একটা উদাহরণ যথেষ্ট বলে দেয় নিয়মনীতি কতটা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল; ডিএমডি পদে ন্যূনতম বিশ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক থাকলেও এস আলমের ব্যক্তিগত সচিবকে মাত্র আট বছরের অভিজ্ঞতায় সেই পদে বসানো হয়েছিল।
পাস নম্বর যখন যার যার সুবিধামতো
২০১৯ সালের চব্বিশতম প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের ঘটনাটা এই পুরো প্রক্রিয়ার একটা প্রতীকী চিত্র। কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত প্রায় আটশ প্রার্থীর সিভি সরাসরি পাঠানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। শর্ত ছিল লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পঞ্চাশ শতাংশ নম্বর পেতে হবে, কিন্তু চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রার্থীদের সুবিধার্থে সেই পাস নম্বর নামিয়ে আনা হয় মাত্র বিশ শতাংশে। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া বারো জনের সিভি সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে পাঠানো হয়, যাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। প্রশ্ন হলো, একটা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার পাস নম্বর যদি প্রার্থীর ঠিকানা দেখে নির্ধারণ করা যায়, তাহলে সেই পরীক্ষার আর অবশিষ্ট থাকে কী? আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোথায় ছিল, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; কারণ ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিমালাতেই বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা বাধ্যতামূলক ছিল, তবু ২০১৭ সালে দখল নেওয়ার পরপরই নীতিমালায় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে একটা বিশেষ শিথিলতার ধারা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, আর এই পরিবর্তন কোনো গোপন কক্ষে ঘটেনি, ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই তা অনুমোদিত হয়েছে, যে পর্ষদের কার্যক্রম তদারকি করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
বেতন গেছে কার পকেট থেকে, সেই হিসাবটাই চাপা পড়ে গেছে
এখানেই আসল প্রশ্নটা দাঁড় করানো দরকার। এই সাড়ে আট হাজার মানুষের বেতন, ভাতা, প্রভিডেন্ড ফান্ড, বোনাস, এই সাড়ে আট বছরে যত টাকা তাঁদের পেছনে খরচ হয়েছে, সেই টাকা আকাশ থেকে পড়েনি। এসেছে ব্যাংকে রাখা লাখো সাধারণ আমানতকারীর জমানো টাকা থেকে। ব্যাংকের ভেতরের সূত্র উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, ব্যাংকের সম্পদের একটা বড় অংশ এস আলম গ্রুপ অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ হিসেবে নিয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে কোনো অর্থ আদায় হচ্ছে না, অথচ আমানতকারীদের পুরো মুনাফা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, শুধু এই অদক্ষ ও যোগ্যতাহীন কর্মীবাহিনীর কারণেই ব্যাংকটির বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভাবুন তো, একজন সাধারণ গ্রাহক যিনি সততার সঙ্গে টাকা জমা রেখেছেন, তাঁর মুনাফা থেকেই এমন একজনের বেতন গেছে, যিনি হয়তো ব্যাংকিংয়ের প্রাথমিক জ্ঞানটুকুও রাখেন না, শুধু পটিয়ায় জন্ম নেওয়ার কারণে চাকরি পেয়েছেন। এই টাকা কখনো ফেরত আসবে না, কারণ বেতন একবার পরিশোধ হয়ে গেলে তা আর ফেরানোর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন তোলা জরুরি, আমানতকারীর এই না-জেনে হওয়া ক্ষতির দায় কে নেবে? ব্যাংক কোম্পানি আইনে আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষার কথা স্পষ্টভাবে বলা থাকলেও, বাস্তবে সেই স্বার্থ রক্ষা করার কথা যাদের; অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের; তাদের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট জবাবদিহি দেখা যায়নি।
তদারকি সংস্থাই যখন বলে দেয়, ‘আমাদের হাত বাঁধা’
এই পুরো তদন্তের সবচেয়ে অস্বস্তিকর অংশ সম্ভবত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের প্রতিক্রিয়া। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সরাসরি বলেছেন, যেহেতু এই নিয়োগ ও ছাঁটাই ব্যাংক নিজেই করেছে, তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের খুব বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। এই বক্তব্যটা আইনি দিক থেকে যতটা না সত্যি, তার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক একটা নজির তৈরি করে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বই হলো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা তথা ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড নিশ্চিত করা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুশাসন তদারকি করা। ২০১৭ সালে যখন একটা ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় হঠাৎ একটা শিথিলতার ধারা যুক্ত হয়ে হাজার হাজার বেনামি নিয়োগের পথ খুলে যায়, তখন সেই পরিবর্তন কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসেনি বা এলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; এই প্রশ্নের জবাব আজও অমীমাংসিত। এস আলম গ্রুপ ছয়টি ব্যাংক দখল করে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে অন্তত পঁচানব্বই হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় আশি শতাংশই গেছে ইসলামী ব্যাংক থেকে, ২০১৭ সাল থেকে গত জুন পর্যন্ত, বেশিরভাগই ব্যাংকিং নিয়ম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে। শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা এস আলমের পকেটে চলে গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই বিশাল অঙ্কের ঋণ অনিয়ম যদি বছরের পর বছর ধরে নজর এড়িয়ে যেতে পারে, তাহলে নিয়োগ অনিয়মের মতো তুলনামূলক দৃশ্যমান একটা বিষয় নজরে না আসার যুক্তি ধোপে টেকে না। বরং প্রশ্নটা উল্টো দিক থেকে করা দরকার, নজরে আসা সত্ত্বেও চুপ থাকাটাই কি বেশি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা নয়?
মন্ত্রণালয়ের নীরবতা, রাজনৈতিক আশীর্বাদের চিহ্ন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়টাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, এস আলমের নিয়ন্ত্রণের আগেও ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে দশজনকে কোনো বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই একটি তথ্যই বলে দেয়, ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ-বাণিজ্যের সংস্কৃতি এস আলম একা তৈরি করেননি, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সেই সংস্কৃতিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। আর যে রাজনৈতিক সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় একটা ব্যক্তিগোষ্ঠী দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকসহ ছয়-সাতটা ব্যাংক দখল করে ফেলতে পারল, সেই সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কীভাবে পুরো বিষয়টা থেকে নিজেকে দায়মুক্ত দাবি করতে পারে? অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির হিসাব অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলে গত পনেরো বছরে বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ষোলো বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক থেকে সরানো টাকা সেই বিশাল পাচারচক্রের একটা অংশমাত্র। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ছিল আর্থিক খাতে এই ধরনের কেন্দ্রীভূত লুণ্ঠন ঠেকানো, তাদের ব্যর্থতা নিছক তদারকির দুর্বলতা নয়; এটা প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা, যার মাশুল এখনো গুনছেন আমানতকারীরা।
শাস্তি পেলেন কর্মীরা, প্রশ্নবিদ্ধই থেকে গেলেন কুশীলবেরা
২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর নতুন পরিচালনা পর্ষদ যখন যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিল, তখনো দেখা গেল একটা বৈষম্যমূলক চিত্র। বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষায় ডাকা পাঁচ হাজারের বেশি কর্মীর মধ্যে অংশ নেন মাত্র চারশ জনের মতো, বাকিরা পরীক্ষা বর্জন করেন আর তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না করেই তিন মাসের বেতন দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ একই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আড়াইশর বেশি কর্মীকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেই বহাল রাখা হয়েছে, যা প্রমাণ করে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের সিদ্ধান্তেও পক্ষপাত থেকে যাচ্ছে। এখানে একটা নৈতিক প্রশ্ন উঠে আসে, যাঁরা নিয়োগ পাওয়ার সময় নিজেরা কোনো প্রক্রিয়া তৈরি করেননি, শুধু ব্যবস্থার সুবিধাভোগী হয়েছিলেন, তাঁদের চাকরি হারানোটাই কি এই পুরো কেলেঙ্কারির একমাত্র শাস্তি হয়ে থাকবে? যাঁরা এই ব্যবস্থাটা তৈরি করেছিলেন, যাঁরা নীতিমালায় শিথিলতার ধারা ঢুকিয়েছিলেন, যাঁরা এই লুণ্ঠন সম্ভব করেছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক মদদ দিয়ে, তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি ব্যবস্থা কতদূর এগিয়েছে? দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি নিয়ে কিছু মামলা করেছে বটে, সাবেক কয়েকজন ডিএমডি-এসইভিপি পর্যায়ের কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে, কিন্তু মূল হোতা নিজে এখনো দেশের বাইরে অধরা। আইনের ভাষায় বলতে গেলে, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী অপরাধের বিচার তামাদি হয় না, কিন্তু বাস্তবতা হলো সময় যত গড়ায়, সাক্ষ্যপ্রমাণ তত দুর্বল হয়, আর জনমনে জবাবদিহির প্রত্যাশাও তত ফিকে হয়ে আসে।
শেষ কথা নয়, বরং প্রশ্নের শুরু
এই প্রতিবেদন যত না অতীতের হিসাব, তার চেয়ে বেশি ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা। আমানতকারীর সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানত বীমার সীমা দ্বিগুণ করে দুই লাখ টাকায় উন্নীত করেছে ঠিকই, আর একটা স্বতন্ত্র আমানত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠনের খসড়া অধ্যাদেশও তৈরি হয়েছে কিন্তু এই সংস্কার মূলত ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী যেন সম্পূর্ণ নিঃস্ব না হন, তা নিশ্চিত করার একটা শেষ প্রতিরক্ষাব্যূহ মাত্র। এটা এমন কোনো ব্যবস্থা নয়, যা প্রথম থেকেই এমন লুণ্ঠন ঠেকাতে পারে। প্রকৃত সমাধান আসতে পারে তখনই, যখন ব্যাংক কোম্পানি আইনের ফিট অ্যান্ড প্রপার শর্ত লঙ্ঘনের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজস্ব ব্যর্থতারও একটা স্বাধীন জবাবদিহি কাঠামো তৈরি হবে, যখন নিয়োগ অনিয়মে জড়িত ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শুধু ঋণ জালিয়াতির মামলা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মেরও পৃথক ফৌজদারি অনুসন্ধান হবে, আর যখন সরানো টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল না রেখে একটা স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। ততদিন পর্যন্ত এই প্রশ্নটা থেকেই যাবে; আমানতকারীর টাকায় যাঁরা বেতন নিয়েছেন, যাঁরা সেই ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, আর যাঁরা তদারকির দায়িত্বে থেকেও নীরব থেকেছেন; এই তিন পক্ষের মধ্যে অন্তত একটা পক্ষকেও কি প্রকৃত অর্থে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে, নাকি এটাও শেষমেশ আরেকটা প্রতিবেদন হয়েই ফাইলবন্দী থেকে যাবে?
রাকিবুল ইসলাম
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

