বিশেষ বিশ্লেষণ
গত অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রথমবার ৫০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা পেরিয়েছে, কিন্তু একই বছরে দেশে বিনিয়োগের হার কমেছে, রপ্তানি সামান্য কমেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগের বাড়তির বড় অংশ এসেছে পুরোনো বিনিয়োগকারীদের হাত ধরে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাথমিক হিসাবে ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের বছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি। অথচ জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ নেমে এসেছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে, আর দুই বছর আগে এটি ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থনীতি বড় হচ্ছে, কিন্তু বিনিয়োগ কি সেই গতিতে হচ্ছে? চলুন, প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে দেখা যাক।
টাকা আছে, তবু অপেক্ষা করছেন উদ্যোক্তারা?
অনেকে ভাবেন বিনিয়োগ কম মানে দেশে মূলধনের অভাব। আমার হিসাবে সমস্যাটা মূলধনের চেয়ে অনিশ্চয়তার। অর্থনীতিবিদ অবিনাশ ডিক্সিট ও রবার্ট পিন্ডাইকের রিয়েল অপশন তত্ত্ব বলে, কারখানা একবার বানালে তা আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। তাই ভবিষ্যতের নিয়ম, জ্বালানি বা করের হার অস্পষ্ট থাকলে বিচক্ষণ উদ্যোক্তা লাভজনক প্রকল্পও পিছিয়ে দেন, কারণ অপেক্ষারও একটা মূল্য আছে। অনিশ্চয়তা তাই বিনিয়োগের ওপর এক অদৃশ্য কর। বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৬-এর মূল্যায়নে ঠিক এই তালিকাই আছে: নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা, অনির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, ঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতা। সংস্থাটির হিসাবে ২০২৫ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে, যা ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। তার ওপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকখাতের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। ব্যাংক যদি নিজেই ঝুঁকিতে থাকে, তবে আমানত থাকলেও তা কারখানার দিকে গড়ায় না। রাষ্ট্রের দিকেও চাপ আছে, কারণ ২০২৫ অর্থবছরে কর ও জিডিপির অনুপাত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে, ফলে অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সামর্থ্যও সীমিত।
বিদেশি বিনিয়োগের চিত্রটাও দুই দিক থেকে দেখা দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী ২০২৫ সালে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। কিন্তু বৃদ্ধির মূল উৎস পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফা ও কোম্পানির ভেতরের ঋণ। নতুন শেয়ারমূলধন বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৪৪ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন থেকে ৫৫৪ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমও বলেছেন, এই ঋণ মূলত মূল কোম্পানির কাছ থেকে চলমান কারবারে আসা অর্থ, নতুন বিনিয়োগ নয়। পুরো অঙ্কটা জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। সহজ কথায়, নতুন অতিথি আসছেন না, পুরোনো অতিথিরা থেকে যাচ্ছেন। এটি আস্থার প্রমাণ ঠিকই, তবে পরিবর্তনের প্রমাণ নয়।
বন্দরের সামনে ১৫ বছরের অপেক্ষা
এবার চট্টগ্রামে যাই, যেখানে বিনিয়োগের প্রশ্নটা সবচেয়ে বাস্তব। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি এবং কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৯৮ শতাংশ সামলায়, অথচ এটি সমুদ্রবন্দরের চেয়ে নদীবন্দরের মতো আচরণ করে। এখানে বড় জাহাজ ঢুকতে পারে না, বর্তমান সীমা প্রায় ২ হাজার ৮০০ টিইইউএস। এই সীমা ভাঙতে এপিএম টার্মিনালস গত ৩১ আগস্ট লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। প্রকল্পের বিনিয়োগ ৫৫০ মিলিয়ন ডলার, বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস সক্ষমতা যোগ হবে এবং ৬ হাজার টিইইউএস পর্যন্ত জাহাজ ভিড়তে পারবে। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী পরিচালনা শুরু হবে ২০৩০ সালে। বে টার্মিনালের গল্পটা আরও দীর্ঘ। এর আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে, আর ২০২৪ সালের জুনে বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে, যা মূলত ঢেউ ঠেকানোর বাঁধ ও নাব্য খননের জন্য। সংস্থাটির হিসাবে এই টার্মিনাল দেশের কনটেইনারের প্রায় ৩৬ শতাংশ সামলাবে এবং জাহাজের অপেক্ষার সময় কমিয়ে অর্থনীতির দৈনিক প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে। এই সম্ভাব্য হিসাব ধরলে প্রতিটি বছরের বিলম্বের মূল্য প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার, যা অবশ্য আমার নিজের গণনা, নিশ্চিত ক্ষতি নয়। মাতারবাড়ীর ছবিও একই রকম, কারণ ২০২০ সালে অনুমোদনের সময় প্রথম ধাপের লক্ষ্য ছিল ২০২৬, আর এখন সময়সীমা দাঁড়িয়েছে ২০২৯। অর্থনীতিবিদ আলবার্ট হার্শম্যান অবকাঠামোকে বলতেন সামাজিক ওভারহেড মূলধন, যা উৎপাদনের পথ তৈরি করে কিন্তু নিজে উৎপাদন করে না। বন্দর বানালেই জাহাজ আসে না, জাহাজ আসে পণ্য থাকলে, আর পণ্য থাকে কারখানা চললে।
জ্বালানির হিসাব: সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি বনাম ঋণের খরচ
শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি সেই বিনিয়োগ কতটা যাচাই করে করা হচ্ছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের উদাহরণ নেওয়া যাক। একনেক ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রকল্পটি ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকায় অনুমোদন দেয়, পরে যাচাই বাছাইয়ে ব্যয় ৪ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা কমে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৭১ কোটি টাকার কাছাকাছি (সঠিকভাবে ৩১ হাজার ০০০ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা)। এই প্রশ্ন তোলার ফলটা লক্ষ করুন, কারণ প্রশ্ন তুললেই সাধারণত হাজার কোটি টাকা বাঁচে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে, যা ব্যাংকটির বাংলাদেশে সর্বোচ্চ একক প্রকল্প বিনিয়োগ। পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টন হওয়ার কথা। জ্বালানি বিভাগের হিসাবে এতে প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলার সাশ্রয় হবে, অর্থাৎ বছরে প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন ডলার। তবে এটি সরকারি প্রাক্কলন, বাস্তবায়নের পর নিশ্চিত হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কার্যপত্রেও উল্লেখ আছে যে এই ঋণের অর্থায়ন ব্যয় আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় তুলনামূলক বেশি। সরল নীতি হলো, কোনো প্রকল্প তখনই ভালো যখন তার প্রত্যাশিত সাশ্রয় বা আয় মূলধনের খরচের চেয়ে বেশি। সাশ্রয়ের অঙ্ক যত বড়ই হোক, ঋণের খরচ সেই সীমার নিচে না থাকলে জনগণের টাকা সুফল দেয় না।
এক টাকার প্রবৃদ্ধির দাম সাত টাকা?
এবার একটা অঙ্ক, যা আমার কাছে সবচেয়ে চমকপ্রদ মনে হয়েছে। হ্যারড ডোমার প্রবৃদ্ধি মডেলের ইনক্রিমেন্টাল ক্যাপিটাল আউটপুট রেশিও, সংক্ষেপে আইকর, বলে দেয় এক একক বাড়তি উৎপাদনের জন্য কত একক বিনিয়োগ লাগছে। সূত্রটি সহজ: জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগকে প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে ভাগ করুন। ২০২৬ অর্থবছরে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, ফলে আইকর প্রায় ৬ দশমিক ৭। ২০২৫ অর্থবছরে এটি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ২, আর ২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ৭ দশমিক ৩। অর্থাৎ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ১ টাকা বাড়তি উৎপাদনের জন্য গড়ে ৭ টাকার মতো বিনিয়োগ লাগছে। এক বছরের অনুপাত অবশ্যই একটু অস্থির, এবং এই সময়ে রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক ধাক্কা প্রবৃদ্ধিকে নামিয়েছে, তাই আমি এটিকে সূচক হিসেবে দেখছি, চূড়ান্ত রায় হিসেবে নয়। কিন্তু দিকটা স্পষ্ট। আগামী বাজেটে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রেখেছে। বর্তমান আইকরে সেটি পেতে বিনিয়োগ লাগবে জিডিপির প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা এখনকার প্রায় দেড়গুণ। আইকর ৫ এ নামলে লাগবে মাত্র ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর দ্রুততম পথ শুধু বেশি বিনিয়োগ নয়, একই টাকায় বেশি উৎপাদন। সেই কারণেই প্রকল্প বাছাই, সময়মতো শেষ করা, বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতা ও ঋণের ব্যয় সবই এক সুতোয় বাঁধা।
ট্রিলিয়ন ডলারের অঙ্ক কষলে
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়েছে। ৫০১ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ হাজার বিলিয়নে যেতে আট বছরে অর্থনীতিকে প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে। ৭২ এর নিয়ম বলে, দ্বিগুণ হতে আট বছর লাগাতে চাইলে বছরে প্রায় ৯ শতাংশ হারে বাড়তে হবে, এখানে ডলারের হিসাবে। গত বছর ডলারের অঙ্কে জিডিপি ৪৫৬ থেকে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, তবে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, বাকিটা দামস্তর ও বিনিময় হারের ফল। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির জোরে ট্রিলিয়নের অঙ্কে পৌঁছানো সহজ, কিন্তু সেটা সমৃদ্ধি নয়, সংখ্যার খেলা। সৎ পথ হলো প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা। আর এর পেছনে আছে মানুষের কাজ, কারণ বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে ঢুকছে।
কাজ তৈরির দিকে কেইনসের গুণক তত্ত্ব বলে, ধরুন ১০০ টাকা বিনিয়োগ হলো, তা মজুরি ও কেনাকাটা হয়ে ঘুরে ঘুরে আয় বাড়ায়। মানুষ যদি আয়ের ৮০ ভাগ খরচ করে, তবে গুণক ৫। তবে শর্ত হলো সেই খরচ দেশের ভেতরেই ঘুরতে হবে, আমদানিতে চলে গেলে গুণক ফুরিয়ে যায়। এই কারণেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি সরবরাহকারী গড়ে ওঠা এত জরুরি। ভিয়েতনাম থেকে শিক্ষাও এখানেই। ২০২৫ সালে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন রেকর্ড ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে এবং ৪৭৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির ৭৭ শতাংশ এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে। যদিও আমাদের নিট প্রবাহের সঙ্গে সরাসরি তুলনা চলে না, কারণ মাপার পদ্ধতি আলাদা, তবু পার্থক্যটা বিশাল। অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষণ আবার মনে করিয়ে দেয়, একই বছরে ভিয়েতনামের দেশীয় প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং বিদেশি ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র দুর্বল। অর্থাৎ বিদেশি বিনিয়োগ এলেই হবে না, তার সঙ্গে দেশি সরবরাহকারীকে জুড়তে হবে। বাংলাদেশে ২০২৬ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের চেয়ে ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কম, যার ৮০ শতাংশের বেশি পোশাক। আর এলডিসি উত্তরণ পিছোনোর আবেদন এখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এই অবস্থায় এক পণ্যের ওপর ভর করে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।
সাফল্য মাপার চারটি প্রশ্ন
তাহলে সাফল্য মাপব কীভাবে? আমার প্রস্তাব চারটি প্রশ্ন। প্রথমত, বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত কি বাড়ছে? দ্বিতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগের কতটা নতুন শেয়ারমূলধন, কতটা পুরোনোদের পুনঃবিনিয়োগ? তৃতীয়ত, আইকর কি কমছে, অর্থাৎ একই টাকায় বেশি উৎপাদন হচ্ছে কি? চতুর্থত, প্রকল্প অনুমোদনের পর থেকে চালু হতে কত বছর লাগছে? বন্দর, শোধনাগার বা সেতুর আকার নয়, এই চারটি সূচকই বলে দেবে বিনিয়োগ আসলে উৎপাদনে পৌঁছাচ্ছে কি না। পরের বার যখন কোনো প্রকল্পের ফিতা কাটা হবে, তখন জিজ্ঞেস করবেন না প্রকল্পটা কত বড়। জিজ্ঞেস করবেন, কত দ্রুত চালু হলো, কত জনকে কাজ দিল, আর কত টাকার আমদানি কমাল।
রাকিবুল ইসলাম
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

