বিশেষ বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী ২০২৫ সালে দেশে নিট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআই এসেছে ১.৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১.২৭ বিলিয়নের চেয়ে ৩৯.৩৬ শতাংশ বেশি। শিরোনামে খবরটা স্বস্তির, কিন্তু ভেতরের হিসাব অন্য কথা বলে। নতুন করে বিদেশ থেকে শেয়ার মূলধন এসেছে মাত্র ৫৫৪.৬৩ মিলিয়ন ডলার, আগের বছরের চেয়ে ১.৮৪ শতাংশ বেশি। তাহলে বাকি প্রবৃদ্ধি এল কোথা থেকে? আর বিদেশি কোম্পানি মুনাফা নিয়ে গেলে এ দেশের লাভটা আসলে কী? উত্তর খুঁজতে হলে আগে দেখতে হবে ১.৭৭ বিলিয়নের ভেতরে কী আছে।
যে ডলার সীমান্তই পার হয়নি
প্রথমে অঙ্কটাকে তিন ভাগে ভাঙা যাক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে নতুন ইক্যুইটি বা শেয়ার মূলধন ৫৫৪.৬৩ মিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাহের ৩১ শতাংশ। সবচেয়ে বড় অংশ, ৭৮১.৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪৪ শতাংশ, পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা। অর্থাৎ বিদেশি মালিকানার কোম্পানিগুলো এ দেশে যে আয় করেছে, তার যে অংশ লভ্যাংশ হিসেবে না পাঠিয়ে এখানেই রেখে দিয়েছে। বাকি ৪৩৪.১১ মিলিয়ন ডলার বা ২৫ শতাংশ এসেছে কোম্পানির ভেতরের ঋণ হিসেবে, মানে বিদেশের মূল প্রতিষ্ঠান থেকে এ দেশের শাখা বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ, যা একদিন ফেরত দিতে হবে। এখানে হিসাবের একটা মজার নিয়ম আছে। আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে অবণ্টিত মুনাফাকে ধরে নেওয়া হয় যেন মালিক তা হাতে পেয়ে আবার বিনিয়োগ করেছেন, তাই খাতায় সেটা এফডিআই হিসেবে ওঠে, যদিও সেই ডলার কখনো সীমান্ত পার হয়নি। ২০২৫ সালের এফডিআইয়ের ৪৪ শতাংশই তাই এ দেশের মাটিতেই আয় করা অর্থ।
চার বছর আগের সঙ্গে মেলালে অস্বস্তিটা স্পষ্ট হয়। ২০২১ সালে নতুন ইক্যুইটি এসেছিল ৯৭৩.৪৩ মিলিয়ন ডলার, যা সে বছরের মোট প্রবাহের প্রায় ৬২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে নেমেছে ৫৫৪.৬৩ মিলিয়নে (শতাংশগুলো আমার নিজের হিসাব)। জমা থাকা স্টকেও একই ছবি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এফডিআইয়ের মোট স্টক বেড়েছে ১.৬৩ বিলিয়ন ডলার। এর পুরোটাই এসেছে পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা (প্রায় ১.৩১ বিলিয়ন) আর কোম্পানির ভেতরের ঋণ (প্রায় ০.৫৮ বিলিয়ন) থেকে, আর ইক্যুইটির স্টক বরং ০.২৬ বিলিয়ন কমেছে। টাকার মান পড়ায় ডলারের হিসাবে স্টক কিছুটা কম দেখানোর সম্ভাবনা থাকে, সেটা মাথায় রাখা ভালো। আরেকটা ঘটনা ভাবার মতো। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, একটি বহুজাতিক ব্যাংক গত বছর মুনাফা বিদেশে না পাঠিয়ে এখানেই রেখে দেওয়ায় পুনর্বিনিয়োগের অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে জাতীয় পরিসংখ্যান নড়ে যায়।
এই অঙ্কের দুই রকম ব্যাখ্যা চলছে, এবং আমার মতে দুটোই আংশিক ঠিক। বিডা ও ইউএনসিটিএডি একে দেখছে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রমাণ হিসেবে, কঠিন সময়েও তারা মুনাফা তুলে না নিয়ে এখানে খাটাচ্ছে। অন্যদিকে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, নতুন বিনিয়োগকারী আসছে না, যা দেখা যাচ্ছে তা মূলত বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, মোট এফডিআইয়ের মাত্র প্রায় এক তৃতীয়াংশ ইক্যুইটি, যা নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণের জন্য উৎসাহজনক নয়। দুই ব্যাখ্যা একসঙ্গে সত্য হতে পারে, কারণ তারা আলাদা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে। একটি প্রশ্ন হলো, বিদ্যমান বিনিয়োগ টিকে আছে কি না। অন্যটি হলো, অর্থনীতিতে নতুন সক্ষমতা যোগ হচ্ছে কি না।
ঢুকেছে ৪.৭ বিলিয়ন, বেরিয়েছে ২.৯ বিলিয়ন: তাহলে মুনাফা কোথায়?
২০২৫ সালে মোট এফডিআই ঢুকেছে ৪,৬৯৫.৬২ মিলিয়ন ডলার আর বেরিয়ে গেছে ২,৯২৫.২১ মিলিয়ন। এই দুইয়ের পার্থক্যই ১.৭৭ বিলিয়নের নিট প্রবাহ। অনেকে এই বেরিয়ে যাওয়া অংশকে মুনাফা পাচার ধরে নেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংজ্ঞায় ওখানে আছে মূলধন ফেরত নেওয়া, মূল প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ আর কোম্পানির ভেতরের ঋণ পরিশোধ। লভ্যাংশ বা মুনাফা বিদেশে যাওয়ার হিসাব থাকে ব্যালান্স অব পেমেন্টসের প্রাথমিক আয় খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রাথমিক হিসাব (জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ অর্থবছর) বলছে, প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের আয় বাবদ বিদেশে গেছে ১.৪৮৫ বিলিয়ন ডলার, আর ওই অর্থবছরে নিট এফডিআই এসেছে ১.৪৬৫ বিলিয়ন। অর্থাৎ এক বছরে ঢোকা আর বেরোনো প্রায় সমান। শুনতে ভয় লাগলেও এটা অস্বাভাবিক নয়, কারণ নিয়মটা সোজা: বিনিয়োগ আসে একবার, কিন্তু তার আয় যায় প্রতিবছর। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জমা স্টক ২০.০৬ বিলিয়ন ডলার। সেই স্টকের বিপরীতে বছরে বিদেশে যাওয়া আয় মোটামুটি ৭.৪ শতাংশ (আমার হিসাব, অর্থবছর ও ক্যালেন্ডার বছরের ফারাকের কারণে আনুমানিক)। এটাই বিনিয়োগের স্বাভাবিক যুক্তি, মালিক ঝুঁকি নেন, বিনিময়ে আয় পান।
এবার অঙ্কটাকে বড় ছবির পাশে রাখুন। একই অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে যাওয়া আয় রেমিট্যান্সের মাত্র ৪ শতাংশের মতো। বিদেশি ঋণ ও অন্যান্য বিনিয়োগের সুদ বাবদ গেছে ৩.০১ বিলিয়ন ডলার, যা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকারীদের আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। এখানে একটা সহজ কিন্তু শক্তিশালী নিয়ম কাজ করে। ঋণের সুদ আর কিস্তি মুনাফা হোক বা না হোক দিতে হয়, আর লভ্যাংশ নির্ভর করে মুনাফার ওপর। গ্রামীণফোন ২০২৪ সালে প্রতি শেয়ারে ৩৩ টাকা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০২৫ সালে মুনাফা ১৮.৫ শতাংশ কমার বছরে দিয়েছে ২১.৫ টাকা। অর্থাৎ ইক্যুইটির ঝুঁকির একটা অংশ মালিকও বহন করেন। তবে বিনিয়োগকারীরা ঢোকার আগে বেরোনোর পথটাও দেখে নেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বিনিয়োগ পরিবেশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্চ ২০২৬ এ মূলধন ফেরতের অনুমোদনসীমা ০.৮১ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৮.১৩ মিলিয়ন ডলার করেছে।
নরওয়ের মালিক কত পান, কোষাগারে কত যায়?
গ্রামীণফোনের ২০২৫ সালের হিসাবে ‘মুনাফা চলে যায়’ কথাটির আসল মাপ বোঝা যায়। কোম্পানির নিট মুনাফা ছিল ২,৯৫৭ কোটি টাকা, আর ঘোষিত লভ্যাংশ মুনাফার ৯৮.২ শতাংশ। নরওয়ের টেলিনরের শেয়ার ৫৫.৮ শতাংশ, তাই আমার হিসাবে তাদের ভাগে পড়ে প্রায় ১,৬২০ কোটি টাকা। ৩৪.২ শতাংশ শেয়ারের মালিক গ্রামীণ টেলিকম, যাদের ভাগে যায় প্রায় ৯৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কোম্পানির নিজের দাবি, ২০২৫ সালে তারা জাতীয় কোষাগারে অবদান রেখেছে ১২,১৫৬ কোটি টাকা, আর সেবা দিচ্ছে ৮.৩৯ কোটি গ্রাহককে। এখানে সতর্ক থাকা দরকার। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই অঙ্কের ভাঙন দেওয়া নেই, ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা পরোক্ষ কর এতে কতটা আছে তা আমরা জানি না। তাই পুরোটাকে কোম্পানির নিজের করের বোঝা ধরা ঠিক হবে না। তবু হিসাবের মূল শিক্ষা পরিষ্কার। কোনো কোম্পানির সৃষ্ট মূল্যের একটা অংশ যায় শ্রমিক ও সরবরাহকারীর কাছে, একটা অংশ সরকারের কাছে, আর শুধু একটা অংশ মালিকের কাছে। বিদেশি মালিকানার লাভ বা ক্ষতি মাপতে হলে তাই শুধু মুনাফা নয়, পুরো ভাগাভাগিটা দেখতে হয়।
কোরিয়ার একটি অংশীদারিত্ব, শতাধিক শিক্ষানবিশ আর এক শিল্পের জন্ম
তাহলে বিদেশি বিনিয়োগের আসল লাভ কোথায়? ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদাহরণ সম্ভবত আমাদের পোশাক শিল্পেই আছে। ১৯৭০ এর দশকের শেষ দিকে কোরীয় প্রতিষ্ঠান ডেওয়ুর সঙ্গে দেশ গার্মেন্টসের অংশীদারিত্বে শতাধিক বাংলাদেশি কর্মীকে কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইয়ুং হুই রি এর নাম দিয়েছিলেন ‘ক্যাটালিস্ট মডেল’, আর মোত্তালেব ও সোনোবের গবেষণা বলছে, প্রায় সব প্রশিক্ষিত কর্মীই পরে নিজের পোশাক কারখানা খুলেছেন। সেই অংশীদারিত্বের আসল ফসল ডলারের অঙ্ক ছিল না, ছিল জ্ঞান ও কারখানা চালানোর দক্ষতা, যা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শিল্পে। আজ সেই শিল্পের রপ্তানি বছরে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির গবেষণাও একই দিকে ইঙ্গিত করে। বরেনস্টাইন, দে গ্রেগরিও ও লির ৬৯টি উন্নয়নশীল দেশের বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, এফডিআই দেশীয় বিনিয়োগের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীল হয় কেবল তখনই, যখন দেশে ন্যূনতম মানবসম্পদের ভিত থাকে। জাভোরচিকের লিথুয়ানিয়ার কোম্পানি পর্যায়ের তথ্যে দেখা গেছে, দক্ষতার সুফল ছড়ায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে স্থানীয় সরবরাহকারীর সংযোগের মাধ্যমে, বিশেষত যৌথ মালিকানার প্রকল্পে, শুধু উপস্থিতিতে নয়।
কোন খাতে টাকা ঢুকছে, সেটাই আসল পরীক্ষা
এবার দেখা যাক আমাদের এফডিআই কোথায় যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের স্টকে সবচেয়ে বড় ভাগ টেক্সটাইল ও পোশাকের (২২ শতাংশ), তারপর বিদ্যুৎ (১৭ শতাংশ), ব্যাংকিং (১৬ শতাংশ), খাদ্য (৭ শতাংশ) ও টেলিযোগাযোগ (৬ শতাংশ)। ২০২৫ সালের নিট প্রবাহে শীর্ষে ছিল বিদ্যুৎ, ৪৪৮.১৮ মিলিয়ন ডলার বা মোটের ২৫ শতাংশ। ডানিং এর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী এফডিআইয়ের উদ্দেশ্য চার ধরনের হতে পারে: প্রাকৃতিক সম্পদ খোঁজা, বাজার খোঁজা, দক্ষতা বা কম খরচ খোঁজা এবং কৌশলগত সম্পদ খোঁজা। এই কাঠামোয় পোশাকের বিনিয়োগ মূলত দক্ষতা খোঁজা, যা রপ্তানি করে ডলার আনে। আর বিদ্যুৎ, ব্যাংক ও টেলিকম বাজার খোঁজা বিনিয়োগ, যা আয় করে টাকায় কিন্তু মালিককে লভ্যাংশ দেয় ডলারে। এই তিন খাত মিলিয়ে স্টকের প্রায় ৩৯ শতাংশ (আমার হিসাব)। এটা দোষ নয়, শুধু ডলারের ওপর চাপের চরিত্রটা আলাদা।
বিদ্যুতে চুক্তির কাঠামো বড় ভূমিকা রাখে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পিডিবির সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বেসরকারি কেন্দ্রের বিল ডলারে হিসাব হলেও পরিশোধ হয় টাকায়। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমোদন পেলে কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক বা না করুক ন্যূনতম অর্থ পায়, যাকে ক্যাপাসিটি চার্জ বলা হয়। নিউ এজের প্রতিবেদনে বিপিডিবির পূর্বাভাস ছিল, চাহিদা প্রায় স্থির থাকলেও সক্ষমতা বাড়ার কারণে ২০২৫ অর্থবছরে এই চার্জ ৩৮,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। অবশ্য সব বেসরকারি কেন্দ্র বিদেশি মালিকানার নয়, তাই এই খরচকে সরাসরি এফডিআইয়ের খরচ বলা যাবে না। শিক্ষাটা চুক্তির নকশা নিয়ে। রপ্তানিমুখী দিকে বেপজার চিত্র উৎসাহজনক: গত অর্থবছরে এসব অঞ্চল থেকে রপ্তানি হয়েছে ৮.৪১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৭.৫১ শতাংশ, আর কর্মসংস্থান ৫,৫৮,৬৯১ জন। তবে দুটি সতর্কতা আছে। জোনগুলোতে দেশি বিনিয়োগকারীও আছেন, তাই সবটা বিদেশি বিনিয়োগের কৃতিত্ব নয়, আর রপ্তানির অঙ্ক সর্বমোট মূল্যের, নিট আয়ের নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৫ সালে ইপিজেডে নিট এফডিআই ২৯৯.৫২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ইক্যুইটি মাত্র ৪২.৯৪ মিলিয়ন, আর ২৪৬.৫৪ মিলিয়ন এসেছে মূল প্রতিষ্ঠানের ঋণ হিসেবে।
লাভ মাপার চারটি প্রশ্ন
তাহলে আসল লাভ কোথায়? আমার উত্তর, অঙ্কে নয়, অঙ্ক যা রেখে যায় তাতে। ইউএনসিটিএডিও একই কথা বলছে। প্রশ্ন শুধু কত বিনিয়োগ আসছে তা নয়, কোথায় যাচ্ছে আর কী রেখে যাচ্ছে: কর্মসংস্থান, দক্ষতা, প্রযুক্তি, সরবরাহকারীর সংযোগ ও রপ্তানি সক্ষমতা। পরের বার শিরোনামে এফডিআইয়ের অঙ্ক দেখলে চারটি প্রশ্ন করে দেখতে পারেন। টাকাটা কি সত্যিই নতুন, নাকি এ দেশেরই মুনাফা বা ঋণ? বিনিয়োগটা কি রপ্তানি করে ডলার আনছে, নাকি টাকায় আয় করে ডলারে ফেরত পাঠাচ্ছে? স্থানীয় সরবরাহকারী ও দক্ষ কর্মীর সঙ্গে সংযোগ তৈরি হচ্ছে কি? আর চুক্তির ঝুঁকি কে বহন করছে, মালিক নাকি জনগণ? এই চার প্রশ্নের উত্তর যত ইতিবাচক, মুনাফা ফেরত যাওয়ার পরও দেশের হাতে তত বেশি থাকে।
বাস্তবতা হলো অঙ্কটা এখনো ছোট। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে নিট এফডিআই জিডিপির ০.২৮ শতাংশ, আর ভিয়েতনামে ৪.২৩ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চেম্বারের সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলছেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, চুক্তির প্রতি সম্মান আর অবকাঠামোর কথা। সিপিডির খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, জমি ও অনুমোদনের জটিলতার কথা। বিডা জানিয়েছে, তারা অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। কোনটা কতটা কাজে লাগে, সময়ই বলবে। কিন্তু হিসাব একটা কথা পরিষ্কার বলে দেয়: মুনাফা বিদেশে যাওয়াটা সমস্যা নয়, সমস্যা হলো যদি এ দেশে কিছুই রেখে না যায়।
রাকিবুল ইসলাম
রিসার্চার (ফিন্যান্স, ট্রেড ও কমার্স)

