মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি হলেও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে সতর্ক মনোভাব দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনার পর ইসরায়েল লেবাননে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে, যাতে একদিনেই ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের প্রভাবাধীন রয়েছে। এই রুট দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথ ব্যবহারের জন্য ফি দাবি করেছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ডে-ভের গ্রুপের প্রধান নির্বাহী নাইজেল গ্রিন বলেন, “বিশ্বের জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ যেই করিডর দিয়ে যায়, সেটি এখনো সংঘাতপক্ষগুলোর প্রভাবের মধ্যে রয়েছে—এটি কোনোভাবেই স্থিতিশীল পরিস্থিতি নয়।”
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ১০ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫৯ ডলারে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি করায় তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক গতকাল ৫.৪ শতাংশ বেড়ার পর আজ সামান্য ওঠানামার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ০.৪ শতাংশ কমেছে, যেখানে আগের দিন এটি ৬.৮ শতাংশ বেড়েছিল। চীনের সিএসআই৩০০ সূচক ০.৬ শতাংশ কমেছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিস্তৃত এমএসসিআই সূচক ০.৭ শতাংশ কমেছে।
ইউরোপীয় বাজারেও মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে। ইউরোস্টক্স ৫০ ও ডিএএক্স ফিউচার যথাক্রমে ০.১ ও ০.৫ শতাংশ কমেছে। তবে এফটিএসই ফিউচার ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ফিউচার উভয়ই ০.৩ শতাংশ কমেছে, যদিও আগের দিন উভয় সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

