দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় সূচকে শক্তিশালী উত্থান ঘটে এবং একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে বাজারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে। শতাংশের হিসাবে এটি প্রায় ১ দশমিক ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি। সূচকটি লেনদেন শেষে ৫ হাজার ৬২৫ পয়েন্টের কিছু ওপরে অবস্থান করে, যা আগের দিনের তুলনায় স্পষ্ট উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট যোগ হয় এবং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়। শেষ পর্যন্ত দিনের সমাপনী পর্যায়ে সূচকের বৃদ্ধি ১০০ পয়েন্টেরও বেশি দাঁড়ায়, যা বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্দেশ করে।
লেনদেনের পরিমাণেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে মোট লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেশি। এই বৃদ্ধিকে বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার মূলধনেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। আগের দিনের তুলনায় কয়েক হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মোট বাজার মূলধন প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়। এতে বোঝা যায়, শুধু সূচক নয়, সামগ্রিক বাজারমূল্যেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে।
আজকের লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মোট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শেয়ারের দাম বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক কোম্পানির দর কমেছে, আর কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ঘোষণার পর বাজারে নতুন নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সূচক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তারা আরও মনে করেন, বাজারের এই উত্থান যদি টেকসই হয়, তবে তা পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন যে, বাজেট-পরবর্তী সময়ের বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।
সামগ্রিকভাবে, দিনের লেনদেন পুঁজিবাজারে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। সূচকের বড় উত্থান, লেনদেন বৃদ্ধি এবং বাজার মূলধনের উন্নতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।

