দেশের শেয়ারবাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসির এক উদ্যোক্তার বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের একজন ১ কোটির বেশি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি।
রোববার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাইম ব্যাংকের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদের খান ব্যাংকটির ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৬টি শেয়ার বিক্রি করবেন। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি এই শেয়ারগুলো বাজারে ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রাইম ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ৩০ টাকা। সেই হিসাবে বিক্রির জন্য ঘোষিত শেয়ারগুলোর মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
প্রকাশিত তথ্যে আরও দেখা যায়, শেয়ার বিক্রির পরও ব্যাংকটিতে নাদের খানের উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব বহাল থাকবে। বর্তমানে তাঁর হাতে রয়েছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ৭০৪টি শেয়ার। বর্তমান বাজারদরে যার মূল্য প্রায় ১৩২ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ তিনি নিজের মোট শেয়ার ধারণের একটি অংশ বিক্রি করলেও ব্যাংকটির অন্যতম বড় উদ্যোক্তা হিসেবেই থাকবেন।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোনো উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কিংবা অন্যান্য আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাই বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা সব সময় কোম্পানির আর্থিক অবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে না।
মজার বিষয় হলো, এত বড় পরিমাণ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা আসার পরও বাজারে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। বরং দিনের লেনদেন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৩০ টাকায় পৌঁছায়। এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রাইম ব্যাংক বর্তমানে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত একটি ব্যাংক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভালো আর্থিক ফলাফল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ অর্থবছরে ব্যাংকটি প্রায় ৯১০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা আর্থিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শক্তিশালী মুনাফার ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রির ঘোষণার চেয়ে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি, মুনাফা প্রবৃদ্ধি, লভ্যাংশ নীতি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সক্ষমতাই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণার পরও প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারদরে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে ঘোষিত শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং এর ফলে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোয় কী ধরনের পরিবর্তন আসে তার ওপর। এই সংস্করণটি সম্পূর্ণ পুনর্লিখিত, বিশ্লেষণধর্মী, সংবাদপোর্টাল উপযোগী এবং মূল প্রতিবেদনের ভাষা ও কাঠামো থেকে স্বতন্ত্র।

