সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধির ফলে প্রধান শেয়ারবাজারে সূচক যেমন বেড়েছে, তেমনি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি ফিরেছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৮৩৬ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে যায়, যা আগের দিনের তুলনায় স্পষ্ট উন্নতি নির্দেশ করে।
বুধবার লেনদেন শুরুর পর থেকেই বাজারে ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা যায়। শুরুতে অনেক প্রতিষ্ঠান দরবৃদ্ধির তালিকায় উঠে এলেও শেষ সময়ে সেই সংখ্যা কিছুটা কমে আসে। তারপরও সার্বিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক কয়েকটি কার্যদিবসে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে।
দিনশেষে প্রধান শেয়ারবাজারে মোট ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৯০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৪টির। অর্থাৎ বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বিক্রেতাদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, যা সামগ্রিকভাবে বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়তা করেছে।
সূচকের দিক থেকেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। প্রধান সূচক ২৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৫৫ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচকও ৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সূচকের এই সম্মিলিত ঊর্ধ্বগতি বাজারে ব্যাপক পরিসরে দর বৃদ্ধির প্রতিফলন।
লেনদেনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭৯৩ কোটি টাকা, সেখানে একদিনের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৬ কোটির বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৪৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত লেনদেন হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বাজারে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সার্বিক সূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৫৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির শেয়ারদর বেড়েছে। সমান সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস নির্দেশ করে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধান বাজারে সূচক ও লেনদেন দুটিই বাড়লেও দ্বিতীয় বাজারে সূচক বৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেন কমেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের আংশিক সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন হতে পারে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই উত্থান ধরে রাখতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাজারে আস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধীরে ধীরে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। তবে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতিগত সহায়তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

