দুর্বল আর্থিক ভিত্তি ও সীমিত উৎপাদন কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে পুঁজিবাজারে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে শেয়ারের দামের এই উল্লম্ফনের কোনো বাস্তবসম্মত মিল নেই; বরং জল্পনানির্ভর লেনদেন এবং সম্ভাব্য কারসাজিই এর পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যেখানে শেয়ারটির দাম ছিল ১০ টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ৫৪ টাকার বেশি হয়েছে। শতাংশের হিসেবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪১৫ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে অস্বাভাবিক উত্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে কোম্পানির আর্থিক চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, অর্থাৎ কোম্পানিটি লোকসানে চলছে। গত কয়েক বছর ধরেই এর আয় ছিল অত্যন্ত সীমিত—কয়েক পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ। লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতাও খুবই কম, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রায় গুরুত্বহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এ অবস্থায় কোম্পানিটির দর-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে হাজারের ঘরে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিক বাজার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ট্রেইলিং পিইও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে, যা উচ্চ ঝুঁকির স্পষ্ট সংকেত বহন করে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন দরপতনের পর স্বল্পমূল্যের শেয়ারে দ্রুত লাভের আশায় খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এই সুযোগে কিছু চক্র কৃত্রিমভাবে চাহিদা তৈরি করে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে পরে উচ্চদরে বিক্রি করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে—যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে রয়েছে। একটি কারখানা বন্ধ এবং অন্যটি আংশিক চালু থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত। তারপরও শেয়ারদরের এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এর আগে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এ ধরনের উত্থানের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ একাধিকবার বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে এবং কোম্পানির বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেয়ারদরে কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌলিক ভিত্তি উপেক্ষা করে শুধুমাত্র দামের ঊর্ধ্বগতির ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও ঝুঁকি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

