চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই থেকে মার্চ) প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বিডি ল্যাম্পস পিএলসি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে লোকসান কমাতে সক্ষম হয়েছে। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আয় বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে এ উন্নতি এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮৩ পয়সা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৫ টাকা ৪৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি শেয়ারে লোকসান প্রায় পাঁচ টাকার বেশি কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজস্ব আয়েও উন্নতির ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় হয়েছে ১৫৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনা হয়েছে ২৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা থেকে ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। আয় বাড়ানো এবং ব্যয় কমানোর এই সমন্বিত প্রভাবেই নিট লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ টাকায়, যেখানে আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির সাম্প্রতিক কয়েক বছরের আর্থিক অবস্থার দিকে তাকালে একটি অস্থিরতার চিত্র স্পষ্ট হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৬ টাকা ২২ পয়সা, যা তার আগের বছরের ১২ টাকা ৭৬ পয়সা লোকসানের তুলনায় কম হলেও এখনও উল্লেখযোগ্য। সেই অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছিল। একই সময়ে নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভিপিএস কমে দাঁড়ায় ৩৯ টাকা ৯৩ পয়সায়, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস নির্দেশ করে।
এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল। তবে ওই বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৪০ পয়সা, যেখানে তার আগের বছর কোম্পানি লাভে ছিল এবং শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১০ পয়সা। আরও পেছনে গেলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় এবং সে বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১০ পয়সা, যদিও তার আগের বছরে এই আয় ছিল অনেক বেশি।
এ থেকে বোঝা যায়, বিডি ল্যাম্পস কয়েক বছর ধরে আর্থিক চাপে থাকলেও বর্তমানে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ক্রেডিট রেটিংয়ের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটি একটি স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। সর্বশেষ মূল্যায়নে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ মাইনাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-২’ রেটিং পেয়েছে, যা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও দায় পরিশোধের সক্ষমতার ওপর একটি মধ্যম থেকে ভালো পর্যায়ের আস্থা নির্দেশ করে। এই রেটিং নির্ধারণে সাম্প্রতিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গুণগত ও পরিমাণগত সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মূলধন কাঠামোর দিক থেকেও কোম্পানিটি একটি মাঝারি অবস্থানে রয়েছে। অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। রিজার্ভে রয়েছে ৩৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখের বেশি, যার মধ্যে অধিকাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের দখলে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সীমিত।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, বিডি ল্যাম্পস দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানের চাপ সামলালেও বর্তমান সময়ে আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। তবে ধারাবাহিকভাবে লাভজনক অবস্থায় ফিরতে হলে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো, বাজার সম্প্রসারণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

