সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিমা খাতের শেয়ারে শক্তিশালী দরবৃদ্ধি দেখা গেলেও সার্বিক চাপে দেশের শেয়ারবাজার শেষ পর্যন্ত পতনের মধ্য দিয়েই দিন শেষ করেছে। অধিকাংশ খাতে শেয়ারদরের পতন এবং শেষ সময়ের বিক্রির চাপ সূচককে নিচের দিকে নামিয়ে দেয়। তবে এর মধ্যেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
দিনের শুরুতে শেয়ারবাজারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমে যাওয়ায় সূচক দ্রুতই নেতিবাচক অঞ্চলে চলে যায়। পরবর্তীতে স্বল্প সময়ের জন্য বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে ক্রয়চাপ বাড়ে, ফলে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বিমা খাতের প্রায় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ায় সাময়িকভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
তবে এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। লেনদেনের শেষ দুই ঘণ্টায় ব্যাংক, বস্ত্র ও অন্যান্য শিল্প খাতে ব্যাপক দরপতন শুরু হলে বাজার আবারও চাপে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিক্রির চাপই প্রাধান্য পায় এবং সূচক নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট লেনদেন হওয়া শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দর কমেছে বেশি সংখ্যকের, আর দর বেড়েছে তুলনামূলক কম প্রতিষ্ঠানের। যদিও বিমা খাত ব্যতিক্রমীভাবে ভালো পারফর্ম করেছে, তা সামগ্রিক বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে পারেনি।
উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কিছু কোম্পানির শেয়ার দর বাড়লেও বড় অংশের দর কমেছে। মাঝারি ও নিম্ন লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও দরপতন বেশি ছিল। একইভাবে দুর্বল আর্থিক অবস্থার তালিকাভুক্ত ‘জেড’ গ্রুপের অনেক কোম্পানির শেয়ার দরও কমে যায়।
দিনশেষে প্রধান মূল্যসূচক কিছু পয়েন্ট কমে অবস্থান নেয়। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে একটিতে সামান্য পতন দেখা গেলেও অন্যটি প্রায় স্থিতিশীল ছিল। সার্বিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতাই প্রাধান্য পায়। তবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়ায় বাজারে অংশগ্রহণ সক্রিয় ছিল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নির্দিষ্ট খাত—বিশেষ করে বিমা খাত—ঘিরে আগ্রহ থাকলেও তা পুরো বাজারকে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে পারেনি।
অন্য শেয়ারবাজারেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সূচক সামান্য কমলেও লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিকভাবে বাজারে চাপ বজায় ছিল। সব মিলিয়ে, দিনের শেয়ারবাজারে বিমা খাতের শক্ত অবস্থান থাকলেও বিস্তৃত বাজারের দুর্বল পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত পতনকেই নিশ্চিত করেছে।

