দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে বড় ধরনের পতন হলেও সূচকে বড় কোনো চাপ দেখা যায়নি। বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার বাজারে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৭২ কোটি টাকা। তবে সূচকগুলো সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও অধিকাংশ শেয়ারেই দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে।
২৩ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবারের লেনদেনে সকালেই বাজারে কিছুটা উত্থান লক্ষ্য করা গেলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকেই ধীরে ধীরে বিক্রয় চাপ বাড়তে থাকে। এতে অনেক শেয়ার দরপতনের তালিকায় চলে যায়। দিনের শেষে ৩৯৩টি কোম্পানি ও ইউনিটের মধ্যে ১৩৮টির দর বেড়েছে, ১৯৯টির কমেছে এবং ৫৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বিক্রির চাপ বাড়লেও সূচকের বড় পতন হয়নি। ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ২৯৯ পয়েন্টে আগের অবস্থানেই বন্ধ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বাছাই করা বড় মূলধনী ৩০টি শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ থাকায় সামগ্রিক সূচক বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা পায়।
বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক ডিএসই৩০ ১০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস সামান্য ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
লেনদেনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৮৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই লেনদেন ছিল ১ হাজার ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে বাজারে লেনদেন কমেছে ১৭১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের তুলনায় বেশি লেনদেনের পর পরই অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। পাশাপাশি নতুন ক্রয় আদেশ কম থাকায় তারল্য প্রবাহও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৩২ পয়েন্টে পৌঁছায়। বাজারটিতে ২১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৪টির দর বৃদ্ধি, ১০৩টির পতন এবং ৩৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বাজারে লেনদেন কমলেও সূচকগুলো বড় ধরনের নড়াচড়া করেনি। তবে অধিকাংশ শেয়ারে বিক্রয় চাপ বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা এখনও স্পষ্ট।

