দেশের শেয়ারবাজারে টানা ওঠানামার মধ্যেও গত সপ্তাহে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দাম বাড়া কোম্পানির সংখ্যা বেশি থাকায় প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ মোট বাজার মূলধন প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।
সপ্তাহজুড়ে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল, আর দুই দিন কিছুটা কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে দাম বেড়েছে এমন শেয়ারের সংখ্যাই বেশি ছিল। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৬৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির।
সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা।
মূল্যসূচকের দিক থেকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪১.৭৫ পয়েন্ট বা প্রায় ০.৭৯ শতাংশ। পাশাপাশি ভালো মানের কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২৪.৭১ পয়েন্ট, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচকেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
লেনদেনের গতি আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯০২ কোটি টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল প্রায় ৮১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৮৪ কোটি টাকার বেশি।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক–এর শেয়ার, যার দৈনিক গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৩২ কোটি টাকা। এরপর অবস্থান করেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং একমি পেস্টিসাইড। এছাড়া শীর্ষ লেনদেন তালিকায় আরও ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, অ্যাপেক্স স্পিনিং, রানার অটোমোবাইল এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এও সূচকে কিছুটা উত্থান দেখা গেছে। প্রধান সূচকগুলো সামান্য বেড়েছে। তবে এখানে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম।
চট্টগ্রাম বাজারে মোট ৩১০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ১৫১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। সব মিলিয়ে, বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে আংশিক আস্থা ফেরার ইঙ্গিত মিললেও এখনও স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিনিয়োগকারীদের আস্থা টেকসইভাবে বাড়াতে হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও নীতিগত স্থিরতা নিশ্চিত করা জরুরি।

