পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড-এর মালিকানায় বড় পরিবর্তনের পথে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনতে যাচ্ছে আকিজ রিসোর্স লিমিটেড, যা সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে, আলোচনার ভিত্তিতে অফ-মার্কেট লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৩ কোটি ৭৮ লাখ শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই শেয়ারগুলো বর্তমানে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের দখলে রয়েছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে আকিজ রিসোর্সের পাশাপাশি বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরাও।
লেনদেনটি কার্যকর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন মালিকানার ভিত্তিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠিত হবে এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে কোম্পানিটির কার্যক্রমে নতুন গতি আসতে পারে। বর্তমানে সাভারে উৎপাদন চালু থাকলেও নরসিংদীর কারখানা বন্ধ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ ইউনিট চালু করা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান ইস্পাত খাতের অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ডমিনেজ স্টিলের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে আগে থেকেই প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এই অংশ হস্তান্তর সম্পন্ন হলে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ কার্যত নতুন বিনিয়োগকারীর হাতে চলে যাবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতে ইস্পাত খাতে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা রয়েছে আকিজ গ্রুপের। করোনা-পরবর্তী সময়ে মুন্সীগঞ্জে একটি বড় ইস্পাত কারখানা অধিগ্রহণ করে তারা বর্তমানে সেটি নতুন নামে পরিচালনা করছে। ফলে ডমিনেজ স্টিলে বিনিয়োগকেও অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন।
ডমিনেজ স্টিল ২০২০ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সেই অর্থ দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছিল। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি টাকা। শেয়ার মালিকানার বড় অংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকলেও এই নতুন লেনদেনের ফলে মালিকানা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

