সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সূচক ও লেনদেন দুটিই বেড়েছে। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও মূলত বিমা খাতের শক্তিশালী উত্থানে বাজার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ দিনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। লেনদেনের এক পর্যায়ে প্রধান সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও শেষদিকে বিভিন্ন খাতে দরপতনের চাপ তৈরি হয়। তবে বিমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দর বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বাজারকে ইতিবাচক অবস্থানে রাখে।
দিন শেষে বাজারে দাম বেড়েছে ১৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের, বিপরীতে কমেছে ১৭২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬২টির দর। বিশেষভাবে বিমা খাতে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৯টির দাম বেড়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক প্রবণতায় বড় প্রভাব ফেলেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানির শেয়ারের একটি বড় অংশও দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল। তবে মাঝারি ও দুর্বল কোম্পানির ক্ষেত্রে দরপতনের হার বেশি ছিল। ‘জেড’ শ্রেণির অনেক কোম্পানির শেয়ারও নিম্নমুখী প্রবণতায় ছিল, যা বাজারের দুর্বল অংশকে নির্দেশ করে।
সূচকের দিক থেকে ডিএসইর প্রধান সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচকও কিছুটা বেড়েছে, যদিও শরিয়াহভিত্তিক সূচক সামান্য কমেছে।
লেনদেনের দিকেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৮২ কোটি টাকার, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এতে বোঝা যায়, বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে। লেনদেনে শীর্ষে ছিল একটি স্টিল খাতের কোম্পানি, যার শেয়ার লেনদেন সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। এছাড়া ব্যাংক ও বিমা খাতের কয়েকটি কোম্পানিও লেনদেনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি শিল্প ও বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান ছিল। অন্যদিকে দরপতনের তালিকায় ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল খাতের কিছু কোম্পানি।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে দাম বাড়ার তালিকায় বেশি কোম্পানি থাকায় সার্বিক সূচক বেড়েছে এবং লেনদেনেও উন্নতি হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমা খাতের আকস্মিক উত্থান সাময়িকভাবে বাজারে গতি এনেছে। তবে স্থায়ী ইতিবাচক প্রবণতা পেতে হলে অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো জরুরি।

