টানা কয়েক দিনের উত্থানের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে শুরুতে ইতিবাচক থাকলেও শেষ পর্যন্ত গতি হারিয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। দিনের শুরুতে সূচক বাড়লেও লেনদেনের শেষ ভাগে বিক্রির চাপ বাড়ায় বাজারে পতন দেখা যায় এবং লেনদেনও কিছুটা কমে যায়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ দিনের শুরুতে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক এক পর্যায়ে প্রায় ২৭ পয়েন্ট পর্যন্ত এগিয়ে যায়। তবে শেষ দিকে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মুনাফা তুলে নিতে শুরু করলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট কমে প্রায় ৫৩০০ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ এবং শরিয়াহ সূচকও কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উত্থানের পর এ ধরনের সংশোধন স্বাভাবিক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
লেনদেনের চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৫৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কম। দাম বাড়ার তুলনায় কমার তালিকা বড় হওয়ায় সার্বিক বাজারে চাপ স্পষ্ট হয়েছে। দিন শেষে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২২৩টির কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৭টি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিমা খাতে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স ছিল। এই খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যা বাজারে আংশিক ভারসাম্য রাখে। অন্যদিকে ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, যার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া সিটি ব্যাংক ও লাভেলো আইসক্রিমও লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও কয়েকটি শিল্প ও আর্থিক খাতের কোম্পানির উপস্থিতি দেখা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে দাম কমার তালিকায় প্রতিষ্ঠান বেশি থাকায় সার্বিক সূচক কমেছে। লেনদেনের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
সার্বিকভাবে বাজারে দিনের শুরুতে আশাবাদ থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা ও মুনাফা গ্রহণের প্রবণতা প্রাধান্য পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই ওঠানামা সাময়িক হলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

