চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশের শীর্ষ জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এপেক্স ফুটওয়্যার ৬১৬ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ, যা বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক সভায় জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। এতে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ে বিক্রি ছিল ৫৪০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছরে আয় বেড়েছে ৭৬ কোটি টাকা।
শুধু তিন মাস নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
তবে আয় বাড়লেও মুনাফা সেই অনুপাতে বাড়েনি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে এক কোটির কিছু বেশি। গত বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৯৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশের কিছু বেশি। অন্যদিকে, নয় মাস শেষে মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি।
খরচ বেড়ে যাওয়াই মুনাফা কম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। প্রথম তিন মাসে মোট আয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই উৎপাদন ব্যয়ে চলে গেছে। আগের বছর একই সময়ে এই হার ছিল প্রায় ৭৭ শতাংশ। এছাড়া পরিচালন ব্যয় ও ঋণের সুদ খরচও বেড়েছে। পরিচালন ব্যয় ১০১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সুদসহ আর্থিক ব্যয় ১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ কোটি টাকা।
কোম্পানির কর্মকর্তাদের মতে, মার্চ মাসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জুতার বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন ও আর্থিক ব্যয় বাড়ায় মুনাফায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়নি।
এদিকে ব্যবসা ও মুনাফা বাড়লেও শেয়ারবাজারে এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায়নি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ লেনদেনে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম কমেছে। সর্বশেষ লেনদেনে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ শতাংশ কমে ২০২ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে। সার্বিকভাবে, বিক্রি বাড়লেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ থাকায় মুনাফার প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকছে—এমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে।

