পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরে শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল দেখিয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির নিট মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৯৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে আগের বছরে মুনাফা ছিল ৪৭৩ কোটি টাকা।
এই ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
আর্থিক সূচকগুলোতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৯৮ পয়সা, যা আগের বছরের ৪ টাকা ৯০ পয়সার তুলনায় অনেক বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে হয়েছে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা।
ব্যাংকের মূলধন শক্তিমত্তাও বেড়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত (সিআরএআর) ২০২৫ সালে উন্নীত হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে।
চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯২ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৮৪ পয়সায়।
এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, যার মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ শেয়ার ছিল। সেই বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে মুনাফা ও লভ্যাংশ—দুই ক্ষেত্রেই বড় উন্নতি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এর অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৯৬৭ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে চার হাজার কোটির বেশি অর্থ। মোট শেয়ারের বড় অংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে, পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ সর্বশেষ লেনদেনে ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ৪৩ টাকা। গত এক বছরে এই শেয়ারের দাম ৩৬ টাকা থেকে প্রায় ৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। সব মিলিয়ে, মুনাফা বৃদ্ধি, শক্তিশালী মূলধন অবস্থা এবং উচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণার মাধ্যমে ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করেছে।
সিভি/কেএইচ

