ওষুধ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে আয় ও মুনাফা—দুই ক্ষেত্রেই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিক্রি বাড়ার ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
জুলাই থেকে মার্চ—এই নয় মাসে কোম্পানিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে প্রায় ৭২৩ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ৫১ শতাংশ। একই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ১ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকার তুলনায় ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।
আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১ টাকা ১৫ পয়সা। আর ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬৯ টাকা ৭৯ পয়সায়, যা কোম্পানির সম্পদভিত্তিক শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে।
শুধু চলতি সময়েই নয়, আগের অর্থবছরেও কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২৭ টাকা ৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৫৭ টাকা ৮৮ পয়সা।
কোম্পানির মূলধন কাঠামোও শক্তিশালী। অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮৮৬ কোটি টাকার বেশি। রিজার্ভে রয়েছে ১২ হাজার ৯০০ কোটির বেশি টাকা, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোট শেয়ারের একটি বড় অংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকলেও উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও রয়েছে, যা কোম্পানির প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
শেয়ারবাজারেও কোম্পানিটির অবস্থান স্থিতিশীল রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ সর্বশেষ লেনদেনে শেয়ারটির দাম ছিল ২১৩ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৯৮ থেকে ২৩৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক বিক্রি বৃদ্ধি, শক্তিশালী ব্র্যান্ড অবস্থান এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে কোম্পানিটি এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। তবে ভবিষ্যতে কাঁচামালের দাম, বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজার প্রতিযোগিতা কোম্পানির প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

