চ্যালেঞ্জপূর্ণ বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ভালো মুনাফা ধরে রেখেছে দেশের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। জুলাই থেকে মার্চ সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৪৩ কোটি টাকা।
তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা কিছুটা কমেছে। এক বছর আগে এই সময়ের মুনাফার চেয়ে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিক্রি বাড়লেও ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে।
কোম্পানির সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরিচালন নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলোচ্য সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩২ পয়সায়, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ছিল ঋণাত্মক ১ টাকা ৬৭ পয়সা। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের হার বৃদ্ধি এবং তারল্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৯ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা। তবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে হয়েছে ২৬৫ টাকা ৭০ পয়সা। পুনর্মূল্যায়নসহ এই মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ টাকা ৮০ পয়সায়, যা কোম্পানির সম্পদভিত্তিক শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে।
আর্থিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কৌশল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কার্যকর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করা হয়েছে।
তবে উৎপাদন খাতে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রভাব কোম্পানির ওপর স্পষ্টভাবে পড়েছে। রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারসহ কিছু পণ্যে ভ্যাট হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তা সত্ত্বেও গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি, যা মুনাফার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
পরিচালন পর্যায়ে কিছু কৌশলগত পরিবর্তনও আনা হয়েছে। পরিবেশকদের জন্য প্রণোদনা কাঠামো পুনর্বিন্যাস, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবসা আরও দক্ষ করার চেষ্টা চলছে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই উদ্যোগগুলো আগামী প্রান্তিকগুলোতে মুনাফা ও অন্যান্য আর্থিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যাট বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের চাপের মধ্যেও নগদ প্রবাহে উন্নতি ওয়ালটনের জন্য বড় শক্তি। তবে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনকতা ধরে রাখতে হলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজার সম্প্রসারণ কৌশল আরও জোরদার করতে হবে।

