দেশের শেয়ারবাজারে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে মূল্যসূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। বিশেষ করে ওষুধ ও তৈরি পোশাক খাতের শেয়ারের দামে উত্থান বাজারকে ইতিবাচক ধারায় রাখে, যদিও দিনের শেষভাগে কিছুটা চাপ দেখা যায়।
বুধবারের লেনদেনে শুরু থেকেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদাম বাড়তে থাকায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়। প্রথম তিন ঘণ্টা এই ধারা বজায় থাকলেও শেষদিকে কিছু শেয়ারে দরপতন হয়। তবুও ওষুধ ও পোশাক খাতের ধারাবাহিক চাহিদা সূচককে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় ধরে রাখে।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ ১৭৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৬৭টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দর। ওষুধ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বড় অংশের শেয়ারদাম বাড়ে, একই প্রবণতা দেখা যায় পোশাক খাতেও।
সূচকের দিক থেকে প্রধান ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে। পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এর সার্বিক সূচকও ঊর্ধ্বমুখী থাকে।
তবে সূচক বাড়লেও লেনদেনে কিছুটা ভাটা দেখা যায়। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৮৭ কোটি টাকার কিছু বেশি, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। লেনদেনে শীর্ষে ছিল একটি বেসরকারি ব্যাংকের শেয়ার, যার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪০ কোটির বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু খাতের ওপর নির্ভর করে সূচক বাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় না। লেনদেন কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিরও ইঙ্গিত হতে পারে। তবে ওষুধ ও পোশাক খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বাজারে স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। সব মিলিয়ে, খাতভিত্তিক চাহিদা থাকলেও সামগ্রিক বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে—যেখানে সূচক বাড়লেও লেনদেন কমে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

