সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। রোববার লেনদেন শুরুর পর থেকেই বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দর কমতে থাকে, যার প্রভাবে প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণও কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দিনশেষে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬৫টির দর বেড়েছে, কিন্তু ১৮০টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। অর্থাৎ দরপতন হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি ছিল, যা বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে।
সূচকের দিক থেকেও ছিল মিশ্র চিত্র। প্রধান মূল্যসূচক ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে নেমে আসে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০ পয়েন্টে। তবে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল এবং সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে সীমিত পরিসরে ক্রয়চাপ থাকার ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দিনশেষে মোট লেনদেন হয়েছে ৮২৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল ৮৬৪ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লেনদেন কমেছে। এ ধরনের পতন সাধারণত বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা এবং অপেক্ষাকৃত কম অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই ধারা দেখা গেছে চট্টগ্রামের বাজারেও। সেখানে সার্বিক সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৮৮ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া ২০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৬টির দর বেড়েছে, ৭৪টির কমেছে এবং ৩০টি অপরিবর্তিত ছিল। তবে এখানেও লেনদেন কমেছে, যা বাজারের গতিশীলতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। মোট লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সপ্তাহের শুরুতে সূচক ও লেনদেন একসঙ্গে কমে যাওয়ায় বাজারে স্বল্পমেয়াদি চাপ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক থাকছেন এবং অনেকেই লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছেন। এর ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ছে এবং সূচক নিম্নমুখী হচ্ছে। তবে বড় মূলধনী কিছু শেয়ারের স্থিতিশীলতা বাজারে আংশিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রবাহ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর। আগামী কার্যদিবসগুলোতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান পর্যবেক্ষণের বিষয়।

