দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতে এখন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। একদিনে আরও ১০টি ব্যাংক দুর্বল মানের শ্রেণিতে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এতে পুরো বাজারেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনের ফলে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর অর্ধেকের বেশি এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, পরপর দুই বছর শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামানো হয়। এই শ্রেণির শেয়ারে ঋণসুবিধা পাওয়া যায় না এবং লেনদেন নিষ্পত্তিতেও বেশি সময় লাগে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
নতুন করে যেসব ব্যাংক দুর্বল তালিকায় যুক্ত হয়েছে, তার ফলে এখন মোট ১৫টি ব্যাংক এই শ্রেণিতে পড়েছে। এর বাইরে আরও পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যেগুলো একীভূত হয়ে নতুন কাঠামোয় ফিরতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের একটি বড় অংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, একই খাতে বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে। কিছু ব্যাংক রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করেছে এবং ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংক খাতে স্পষ্টভাবে দুই ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে—একদিকে শক্তিশালী ও লাভজনক ব্যাংক, অন্যদিকে দুর্বল ও সংকটে থাকা ব্যাংক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব ব্যাংকে সুশাসন ভালো, খেলাপি ঋণ কম এবং তারল্য শক্তিশালী, সেগুলো ভালো করছে। বিপরীতে যেসব ব্যাংকে অনিয়ম, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকট রয়েছে, তারা পিছিয়ে পড়ছে এবং লভ্যাংশ দিতে পারছে না। ফলে তারা দ্রুত দুর্বল শ্রেণিতে চলে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। নতুন করে দুর্বল তালিকায় যাওয়া বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে, যার কারণে পুরো ব্যাংক খাতেই দরপতন হয়েছে। বাজারে সূচক কমে যাওয়ার পেছনে এই খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে।
লেনদেনেও এর প্রভাব দেখা গেছে। আগের তুলনায় ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন, কারণ তারা অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কাটাতে ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত না হলে এই বিভাজন আরও বাড়তে পারে।
বর্তমান বাস্তবতায় স্পষ্ট যে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ছাড়া শেয়ারবাজারে টেকসই ইতিবাচক ধারা ফিরিয়ে আনা কঠিন। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কার্যকরভাবে পুনরুদ্ধার করা।

