আর্থিক প্রতিবেদনে অসত্য তথ্য দেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তিন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের প্রায় ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসির সর্বশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ–এর বিরুদ্ধে ২০২২-২৩ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কয়েকজন পরিচালক এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
এর মধ্যে চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তিন পরিচালককে পৃথকভাবে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও কোম্পানি সচিবের বিরুদ্ধেও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জেনেক্স ইনফোসিস–এর বিরুদ্ধে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও সময়মতো বিনিয়োগকারীদের সেই অর্থ দেয়নি।
বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ যথাসময়ে বিতরণ না করা বিনিয়োগকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আফতাব অটোমোবাইলস–এর বিরুদ্ধেও। কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও পুরো অর্থ বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করেনি। ঘোষিত মোট লভ্যাংশের একটি অংশ পরিশোধের পরও প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বকেয়া থেকে যায়।
এ ঘটনায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তৎকালীন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও কোম্পানি সচিবের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, করপোরেট সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান কিংবা লভ্যাংশ পরিশোধে গাফিলতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে কমিশন সভায় বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন সমন্বয় কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিএসইসির কর্মকর্তাদের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

