আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ছুটির আগে অনুষ্ঠিত বিশেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। শনিবার (২৩ মে) সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লেনদেন চলাকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়ে দিন শেষে সূচকগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে পৌঁছায়।
লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত সেই ধারা বজায় থাকে। এতে বাজারজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়।
দিনশেষে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২১৭টির দাম বাড়ে, ১১৭টির কমে এবং ৬০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। এই ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাজারে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
মূল সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএক্স ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে পৌঁছে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করে।
লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯০২ কোটি টাকার বেশি, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেশি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ-পূর্ব সময়ে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং কিছু নির্দিষ্ট খাতে কেনাকাটার প্রবণতা এই উত্থানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। সেখানে প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে পৌঁছায়। মোট ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ে, যা বাজারের সামগ্রিক উত্থানকে আরও শক্তিশালী করে। তবে লেনদেনের পরিমাণে সিএসইতে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে। আগের দিনের তুলনায় এখানে মোট লেনদেন কমে দাঁড়ায় ২৪ কোটি টাকার কিছু বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎসব-পূর্ব সময়ে এমন উত্থান সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হলেও এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হয়। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে কোম্পানির মৌলিক অবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

