ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের শেয়ারবাজারে ফিরেছে ইতিবাচক ধারা। টানা চার কার্যদিবস ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে বাজার। বিক্রির চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় মূল্যসূচক ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি দেখা গেছে।
শনিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—উভয় বাজারেই লেনদেনের শুরু থেকেই ক্রয়চাপ ছিল বেশি। ফলে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে থাকে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত সেই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে নতুন করে আগ্রহ বাড়ায় বাজারে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
দিন শেষে ডিএসইতে ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১১৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬০টির। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক ও ডিএসই-৩০ সূচকেও বড় উত্থান দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের এ উত্থান শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল ছিল না; বরং বাজারের বেশিরভাগ খাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়চাপ বেশি ছিল। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে।
মাঝারি মানের কোম্পানির পাশাপাশি দীর্ঘদিন দুর্বল অবস্থানে থাকা ‘জেড’ ক্যাটাগরির কিছু কোম্পানির শেয়ারেও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় এ শ্রেণির কোম্পানিগুলোও লেনদেনে সক্রিয় হয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও উন্নতি হয়েছে। ডিএসইতে মোট ৯০২ কোটি টাকার বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বেশি। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ–এর শেয়ার। এরপর ছিল এনসিসি ব্যাংক এবং আরডি ফুড।
অন্যদিকে সিএসইতেও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। বাজারটির সার্বিক সূচক ১৩৮ পয়েন্ট বেড়েছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ার পাশাপাশি মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি টাকার বেশি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ঈদের আগে বাজারে যদি বর্তমান আস্থা বজায় থাকে, তাহলে আগামী কার্যদিবসগুলোতেও ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

