পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা বাজারের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে—এমন অভিযোগ তুলে তা দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংগঠনটির মতে, কৃত্রিম এই মূল্যসীমা লেনদেনে স্থবিরতা তৈরি করছে এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ডিবিএ এই দাবি জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, ফ্লোর প্রাইসের কারণে কিছু শেয়ারে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত লেনদেন বন্ধ হয়ে আছে। ফলে বাজারে স্বাভাবিক ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীরা ইচ্ছা থাকলেও শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতি মার্জিন ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। শেয়ারের প্রকৃত বাজারদর নির্ধারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ইক্যুইটির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ডিবিএর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও দেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা মনে করছে, বাজারে স্বচ্ছতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ওপর আরোপিত মূল্যসীমা অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের গতিশীলতা পুনরুদ্ধারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোর প্রাইস স্বল্পমেয়াদে বড় পতন ঠেকাতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি লেনদেনের স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।

