শেয়ারবাজারে আবারও দুর্বলতার চিত্র দেখা গেল। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের প্রধান বাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সূচক নেমেছে এবং লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি ও বিক্রির চাপ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
দিনের লেনদেনে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ১০৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২২৭টির দর কমেছে এবং ৫৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এই চিত্র স্পষ্টভাবে বাজারে বিক্রির চাপের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
দরপতনের প্রভাবে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ও ৬ পয়েন্ট হারিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কিছুটা ব্যতিক্রম দেখিয়েছে, যা ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে উঠেছে।
সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনেও কমতির ধারা লক্ষ্য করা গেছে। দিন শেষে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা কম। অর্থাৎ বাজারে অংশগ্রহণ ও তারল্য—দুটিই কমেছে।
অন্যদিকে বন্দরনগরীর শেয়ারবাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০টির দর বেড়েছে, ১০২টির কমেছে এবং ২৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে, তবুও সার্বিক সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কম। এতে বোঝা যাচ্ছে, দেশের দুই শেয়ারবাজারেই বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কমে গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রণোদনা না এলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগতে পারে।

