দেশের শেয়ারবাজারে টানা পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সূচক নেমেছে, একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ বুধবার লেনদেনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথম ঘণ্টা শেষে বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। ধীরে ধীরে বেশিরভাগ কোম্পানি দাম বৃদ্ধির তালিকা থেকে নেমে গিয়ে পতনের তালিকায় যোগ দেয়। দিনশেষে এই নিম্নমুখী প্রবণতাই প্রাধান্য পায়।
লেনদেন শেষে দেখা যায়, মোট ১০৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২১৬টির দাম কমেছে এবং ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।
সূচকের দিক থেকেও পতন দেখা গেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচকও সামান্য কমে এক হাজার ৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। টানা দুই দিন ধরে লেনদেন কমার প্রবণতা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানকেই ইঙ্গিত করছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক ১৪ পয়েন্ট কমেছে। মোট ২০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৯টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১০৪টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এই বাজারে লেনদেন কিছুটা বেড়ে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে শেয়ারবাজারে চাপ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

