সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন চলছে। বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সবকটি প্রধান সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৮টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৯টির দর।
বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৭০ পয়েন্টে। একই সময়ে ভালো মৌলভিত্তির ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৫ পয়েন্টে।
লেনদেনের পরিমাণেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট ২৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে একই সময়ে লেনদেন ছিল প্রায় ২৪৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ দিনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে টানা ওঠানামার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন তুলনামূলকভাবে বড় মূলধনি ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন। ব্যাংক, জ্বালানি এবং কিছু বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তবে তাঁরা সতর্ক করে বলছেন, বাজারে স্থায়ী ইতিবাচক ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রয়োজন নীতিগত স্থিতিশীলতা, ভালো কোম্পানির নতুন বিনিয়োগ এবং বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা।

