দেশের শেয়ারবাজারকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ সময় বাজার সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরে ডিএসই।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভর্নরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। দলে ছিলেন পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, স্নেহাশীষ বড়ুয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, মো. সাজেদুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।
ডিএসই প্রতিনিধিদল বৈঠকে শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, তারল্য বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি, লেনদেন নিষ্পত্তি চক্র T+2 থেকে T+1-এ রূপান্তরের উদ্যোগ, ডিএসইর ব্যাংক হিসাবগুলোতে থাকা এফডিআর ও এসএনডি ফান্ড ধাপে ধাপে নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ হিসাব প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইপিও ও বন্ড মার্কেটভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করা।
এছাড়া সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট শক্তিশালী করা, সুকুক লেনদেন চালু করা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সিআইবি রিপোর্ট ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকে দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক) একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
ডিএসই জানায়, এ প্রক্রিয়ায় যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
তাই ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানায় ডিএসই।
বৈঠকে এসব প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
ডিএসইর প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, তারল্য উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

