দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩২ কোটি টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ।
কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধু মুনাফাই নয়, একই সময়ে আয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রবির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ২ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, ডাটা ব্যবহারের সম্প্রসারণ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে কোম্পানিটির আয় ও মুনাফা দুটোই বেড়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪ পয়সা। একই সঙ্গে মার্চ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৭৮ পয়সায়।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়লেও ডাটা সেবার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বড় অপারেটরগুলো এখনও ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ডিজিটাল সেবাভিত্তিক আয়ের প্রসার রবির মতো কোম্পানির আর্থিক অবস্থাকে শক্তিশালী করছে।
গত হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। ২০২৫ সালের জন্য ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। ওই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ১ টাকা ৭৯ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালেও কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
রবি আজিয়াটার আর্থিক ভিত্তিও বর্তমানে তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএ প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-১’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অর্থ, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার দিক থেকে কোম্পানিটি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে বলে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকার বেশি। মোট শেয়ারের প্রায় ৯০ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ শেয়ার।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৯ টাকা ৬০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দাম ২২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক মুনাফা বৃদ্ধি ও নগদ লভ্যাংশের কারণে রবি আজিয়াটা বর্তমানে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আস্থার একটি শেয়ারে পরিণত হয়েছে। তবে টেলিযোগাযোগ খাতে উচ্চ করহার, ডলার সংকট ও অবকাঠামো ব্যয় ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।

