সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। রোববার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ প্রধান সূচকসহ বেশির ভাগ সূচক কমেছে। একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণও।
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দিনজুড়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমেছে। এদিন দরপতন হয়েছে ১৯৪টি কোম্পানির শেয়ারের, বিপরীতে দর বেড়েছে ১৬১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৩ দশমিক ১৫ পয়েন্ট। ফলে সূচকটি নেমে এসেছে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে। এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকও ১১ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট হারিয়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে।
লেনদেনের পরিমাণেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এর আগে সর্বশেষ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৮৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো আস্থার ঘাটতি রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমে যাওয়া, মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে না। তারা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব নীতি, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

