টানা পাঁচ কার্যদিবসের দরপতনের পর দেশের শেয়ারবাজারে অবশেষে ফিরেছে ইতিবাচক ধারা। মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা ও চট্টগ্রাম—দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সব প্রধান সূচক। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে, যা বাজারে নতুন করে কিছুটা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দিনজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। বিভিন্ন খাতের শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়। ফলে কয়েকদিনের টানা পতনের ধারা ভেঙে সূচক শক্ত অবস্থানে ফিরে আসে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮৮টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৮টির দাম কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এই উত্থানের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে। টানা পাঁচ কার্যদিবস পতনের পর সূচকের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।
অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৪ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে বাছাই করা বড় কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮৯ পয়েন্টে।
লেনদেনের পরিমাণেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ১০১ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ লেনদেন। ওইদিন বাজারে ১ হাজার ২২২ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। আগের কার্যদিবসের তুলনায় মঙ্গলবার প্রায় ৩৮৭ কোটি টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকদিনের টানা দরপতনের পর অনেক বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কিছু বড় মূলধনি ও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে চাহিদা বাড়ায় বাজারে গতি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে কম দামে শেয়ার সংগ্রহের সুযোগ কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়েছেন স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরাও।
তবে তারা মনে করছেন, একদিনের উত্থানকে স্থায়ী পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। বাজারে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো, আস্থা সংকট কমানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও মঙ্গলবার উত্থানের ধারা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৪০ পয়েন্টে উঠেছে। এই বাজারে মোট ২০৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০৯টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ৬৭টির দর কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে এদিন মোট ২১ কোটি ৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় সামান্য বেশি।বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে টানা দরপতনের কারণে অনেক শেয়ারের দাম তুলনামূলক নিচে নেমে আসে। ফলে কিছু বিনিয়োগকারী নতুন করে বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

