পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফরচুন সুজ লিমিটেড লভ্যাংশ এবং লিস্টিং ফি বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানির পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসির সর্বশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফরচুন সুজের নগদ লভ্যাংশ ও লিস্টিং ফি বাবদ মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। মোট ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু এর মধ্যে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৩১ জুলাই ২০২৩ পর্যন্ত পূর্ববর্তী তিন বছরের লিস্টিং ফি বাবদ আরও ১৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।
এই আর্থিক অনিয়ম ও বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের ওপর জরিমানা আরোপ করা হবে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরিমানার অঙ্কও বেশ বড়। ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে। পরিচালক মো. আমানুর রহমান, পরিচালক রবিউল ইসলাম, সাবেক পরিচালক খসরুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকসানা রহমান প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জামিল আহমেদ চৌধুরীকে ১০ লাখ টাকা, সাবেক কোম্পানি সচিব রিয়াজ উদ্দিন ভূইয়াকে ৫ লাখ টাকা এবং বর্তমান কোম্পানি সচিব মো. নাজমুল হোসেনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসি আরও জানিয়েছে, জরিমানার অর্থ কমিশনে জমা দিতে হবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই।
এই সভায় শুধু ফরচুন সুজ নয়, পুঁজিবাজার নীতিমালার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, যদি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে পুনর্গঠন করা হয় এবং সেই নতুন পর্ষদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণ ৩০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে সেটিকে মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে ধরা হবে না।
এছাড়া আরেকটি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির ব্যাংকগুলো এখন থেকে তাদের নিজস্ব ব্যাংকেই লভ্যাংশ সংরক্ষণ করতে পারবে—এ বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা জারি করা হবে।

