শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানি চলতি বছরের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি–মার্চ) অনিরীক্ষি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে পাঁচটি কোম্পানির মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, আর দুইটি কোম্পানির ক্ষেত্রে মুনাফা কমেছে।
বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পৃথক পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলোর সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়।
প্রবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স এবং বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা বিজিআইসি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে চলতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬১ পয়সা। এতে ইপিএস বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৫৫ পয়সা।
ইস্টার্ন ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ১ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৯৭ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সময়ে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস ১ টাকা ৪২ পয়সায় পৌঁছালেও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। এই ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৭৭ পয়সা।
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ পয়সা, যেখানে আগের বছর ছিল ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে বিজিআইসির ক্ষেত্রে তুলনামূলক ধীরগতির প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে ইপিএস সামান্য বেড়ে ৬৯ পয়সা হয়েছে।
অন্যদিকে আলোচিত প্রান্তিকে দুইটি কোম্পানির মুনাফা কমেছে। এর মধ্যে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির ইপিএস উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি প্রান্তিকে তাদের শেয়ারপ্রতি মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৮৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ৮৯ পয়সা। এতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি পতন দেখা গেছে।
আরেকটি কোম্পানি রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও মুনাফা কমেছে। চলতি প্রান্তিকে তাদের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম।

