চীনের কাছ থেকে প্রত্যাশার তুলনায় কম উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ পাওয়ায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং-এর শেয়ারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন চুক্তিতে ২০০টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা এলেও বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল এর দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে ঘোষণার পরই পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দর প্রায় ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এ চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চীন ২০০টি জেট উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত, উড়োজাহাজের মডেল কিংবা সরবরাহের সময়সূচি সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ঘোষণার পরপরই ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। কারণ এর আগে বাজারে আলোচনা ছিল, চীন প্রায় ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ এবং কয়েকটি বড় আকারের ওয়াইডবডি জেট কেনার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু চূড়ান্ত ঘোষণায় সংখ্যাটি অনেক কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এ সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উড়োজাহাজ বাজার হিসেবে পরিচিত চীনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বোয়িং এবং ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস -এর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বাজারে এয়ারবাস উল্লেখযোগ্যভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
এয়ারবাস ইতোমধ্যে চীনের তিয়ানজিনে সংযোজন কারখানা স্থাপন করেছে এবং দেশটির বাজারে বড় অংশ দখল করেছে। অন্যদিকে, বোয়িং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা ইস্যু এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে চীনে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।
বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং বাড়তে থাকা ভ্রমণ চাহিদার কারণে আগামী দুই দশকে দেশটির হাজার হাজার নতুন যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন বাজার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে চীনের অন্তত ৯ হাজার নতুন বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিং প্রায়ই বড় কূটনৈতিক বৈঠক বা শীর্ষ সম্মেলনকে উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ ঘোষণার জন্য ব্যবহার করে থাকে। এর মাধ্যমে একদিকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী হয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হয়। চীনে বড় উড়োজাহাজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় এসব সিদ্ধান্তকে কৌশলগত দৃষ্টিতেও দেখা হয়।
এদিকে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী ল্যারি কাল্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফরে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সফরের বাকি সময়েও নতুন কোনো বাণিজ্যিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে প্রাথমিক ঘোষণায় প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন সতর্ক মনোভাব বিরাজ করছে।

